১৯ অক্টোবর ২০২৩
খলিলুর রহমান : সিলেট সীমান্ত দিয়ে যেমন ভারতীয় চোরাই পণ্যের চোরাচালান অব্যাহত রয়েছে, তেমনি জেলাব্যাপি চলমান রয়েছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর দমন ও প্রতিরোধ অভিযান। ঘনঘন অভিযান সত্ত্বেও বন্ধ হচ্ছে না চোরাচালান। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অতি কাছে থাকা তথ্যসিন্ডিকেট’র কারণেই বন্ধ হচ্ছে না চোরাচালান।
সিলেটের সীমান্তবর্তী কয়েকটি উপজেলায় যেমন রয়েছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তথ্য সরবরাহকারী সোর্স বা গোয়েন্দা, তেমনি চোরারাচালানী (বুঙ্গাড়ী) সিন্ডিকেটগুলোর রয়েছে তথ্য সরবরাহকারী শক্তিশালী বখরাখোর পৃথক তথ্যসিন্ডকেট। চোরাকারবারিদের নিয়োজিত এসব তথ্যসিন্ডিকেট সদস্যরা সাংবাদিকতা, দলীয় রাজনীতিসহ বিভিন্ন পেশার নামে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাবাহিনীর অতিঘনিষ্ট হয়ে ওঠেছে।
রাজনীতি ও বিভিন্ন পেশাদারিত্বের পরিচয়ে সবসময় থানা পুলিশের দুয়ারে ও কাছেই থাকে তথ্যসিন্ডিকেট সদস্যদের আখড়া ও অবস্থান। তারা সখ্যতা গড়ে তুলে পুলিশের বিভিন্ন কর্তাব্যক্তির সাথে। ঘুরাফেরা করে পুলিশের ওয়্যারলেস মোবাইল ফোন ও ওয়াকিটোকির কাছে কাছে। বিভিন্ন পেশার ছদ্ধবেশে তারা সবসময় পুলিশের অভিযানিক তৎপরতা পর্যবেক্ষণে রাখে। মূলত তারাই পুলিশী অভিযানের তথ্য সরবরাহ করে থাকে চোরাচালানীদের কাছে। ফলে বহুলাংশে ব্যর্থ হয়ে যায় পুলিশের চোরাচালান বিরোধী দমন অভিযান।
স্থানীয় সূত্রমতে সিলেটের সীমান্তবর্তী জকিগঞ্জ, কানাইঘাট, জৈন্তাপুর, গোয়াইনঘাট ও কোম্পানীগঞ্জে রয়েছে চোরাচালানীদের পৃথক পৃথক তথ্যসিন্ডিকেট। এগুলোর মধ্যে চোরাচালানীদের সবচেয়ে শক্তিশালী তথ্যসিন্ডিকেট সিলেটের কানাইঘাট থানা এলাকায়। চোরাচালানীদের এ সব তথ্যসিন্ডিকেট সদস্যদের মধ্যে রয়েছেন কতিপয় নামধারী টুকাই সাংবাদিক, রাজনৈতিক দলের পাতি নেতা, পুলিশের মানিসোর্স ও থানার দালাল । আর এ সব সিন্ডিকেটের তথ্য সরবরাহের কারণেই চোরাচালান বিরোধী অভিযানে কাঙ্খিত ফলাফল পাচ্ছে না আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। তাইতো জেলার বিভিন্ন সীমান্ত দিয়ে ভারতীয় চোরাই পণ্য স্থল ও জলপথে এসে মাঝেমধ্যে ধরা পড়ে সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশের হাতে।
গত মঙ্গলবার বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে সিলেট মেট্রোপলিটন দক্ষিণ সুরমার হুমায়ূন রশিদ চত্ত্বর থেকে ১টি কার্গো ট্রাকসহ কোটি টাকার ভারতীয় পন্য জব্দ করে সিলেট মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ। এসময় জাকির হোসেন (৩৩) নামে এক চোরাকারবারীকে আটকও করে।
অভিযোগ রয়েছে, বখরাখোর তথ্যসিন্ডিকেট’র সহযোগিতায় চোরাচারানীরা কানাইঘাট ও জকিগঞ্জের বিভিন্ন সীমান্ত দিয়ে ভারতীয় পণ্য চোরাইপণ্য আমদানী করে কানাইঘাটের সড়কের বাজার ও বাংলাবাজারে জড়ো করে । পরে গাড়ি বোঝাই করে তা সিলেট নগরসহ অন্যত্র পাচার করে। এই দুই উপজেলা ক্রস করতে চোরাকারবারিরা সাহয্য নেয় তাদের নিয়োজিত তথ্যসিন্ডিকেট এর।
সচেতন মহলের মতে চোরাচালন দমনে সফলতা আনতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে চোরাকারবারীদের তথ্য মিন্ডিকেট সদস্যদের সনাক্ত করে তাদের এড়িয়ে চলতে হবে। প্রয়োজনে তাদের বিরুদ্ধে আইনী ব্যবস্থা নিতে হবে।