২২ জুলাই ২০২০


সিলেটে দীর্ঘস্থায়ী রূপ নিচ্ছে বন্যা

শেয়ার করুন

ডেস্ক রিপোর্ট : উজানে ভারী বৃষ্টি হচ্ছে। এর ফলে ব্রহ্মপুত্র অববাহিকায় নতুন করে পানি বাড়ছে। এছাড়া সুরমা ও কুশিয়ারা নদীর পানি বাড়ায় সিলেট অঞ্চলে নতুন করে বন্যা পরিস্থিতির অবনতি হয়েছে। এতে পানিবন্দী মানুষের দুর্ভোগ আরও বেড়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এবারের বন্যা সিলেটে দীর্ঘস্থায়ী বন্যা রুপ নিতে যাচ্ছে।

বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্রের পূর্বাভাস বলছে, বন্যার এই তৃতীয় ঢল ১০ থেকে ১৫ দিন থাকতে পারে। আগামী আগস্টের প্রথম সপ্তাহের আগে বন্যার পানি পুরোপুরি নেমে যাওয়ার সম্ভাবনা নেই। গত ২৭ জুন থেকে ৭ জুলাই পর্যন্ত ছিল বন্যার প্রথম ঢল। এরপর ধীরে ধীরে পানি কিছুটা কমতে থাকে। তবে ১১ থেকে ১৫ জুলাই পর্যন্ত আরেক দফা ঢলের কারণে বন্যার পানি বেড়ে যায়। এরপর চার দিন ধরে পানি কমছিল। কিন্তু গতকাল থেকে আবারও পানি বাড়তে শুরু করেছে। উজান থেকে আসা পানির এই প্রবাহকে বন্যার তৃতীয় ঢল বলা হচ্ছে।

বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্রের নির্বাহী প্রকৌশলী আরিফুজ্জামান ভূঁইয়া বলেন, তৃতীয় দফার এ ঢলে বন্যা পরিস্থিতি আগের চেয়ে মারাত্মক হতে পারে। এ ঢলের সঙ্গে দেশে বৃষ্টিও বেশি হচ্ছে। সব মিলিয়ে এ দফায় ২০ থেকে ২৫টি জেলা বন্যাকবলিত হতে পারে।

বন্যা বিশেষজ্ঞরা জানান, সাধারণত ব্রহ্মপুত্র অববাহিকা দিয়ে ভারতের আসাম থেকে বাংলাদেশে বন্যার পানি প্রবেশ করে। এর সঙ্গে তিস্তা দিয়েও সিকিম থেকেও ঢলের পানি আসে। এ দুই নদ–নদীর পানি যমুনা দিয়ে পদ্মা হয়ে বঙ্গোপসাগরে যায়। বাংলাদেশের উজানে ভারতের আসাম, মেঘালয়, মিজোরাম এবং পশ্চিমবঙ্গে সা¤প্রতিক সময়ে তিন দফায় ভারী বৃষ্টি হওয়ায় দেশের নদী অববাহিকার পানি অতীতের যেকোনো সময়ে তুলনায় এখন বেশি। ফলে এবারের বন্যা দেশের ইতিহাসে সবচেয়ে দীর্ঘস্থায়ী বন্যায় রূপ নিতে যাচ্ছে।

এদিকে, সিলেটের নদ-নদীগুলোর পানি ফের বাড়তে শুরু করেছে। সুরমা, কুশিয়ারা আর সারি নদীর পানি ছুটছে বিপদসীমা পেরিয়ে। ইতিমধ্যেই তলিয়ে গেছে সিলেটের নি¤œাঞ্চল।

পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) জানায়, সোমবার বিকাল ৬টায় সুরমা নদীর পানি কানাইঘাট পয়েন্টে বিপদসীমার ১৭ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছিল। মঙ্গলবার সন্ধ্যা ৬টায় পানি বেড়ে বিপদসীমার ৮৩ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে বইছে। সুরমার পানি বেড়েছে সিলেট পয়েন্টেও। পরশু এ পয়েন্টে পানি বিপদসীমার ৪৪ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছিল। গতকাল বিকাল ৬টায় পানি বিপদসীমার মাত্র ১ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হয়।
কুশিয়ারা নদীর পানি ফেঞ্চুগঞ্জ পয়েন্টে গতকাল বিপদসীমার ৪৯ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে বইছিল। পরশুর চেয়ে পানি বেড়েছে ৩ সেন্টিমিটার। কুশিয়ারার পানি গতকালের চেয়ে গতকাল আমলশিদ পয়েন্টে ২৬ সেন্টিমিটার আর শেরপুর পয়েন্টে ৪ সেন্টিমিটার বেড়েছে।
সারি নদীর পানি পরশু বিকাল ৬টায় বিপদসীমার অনেক নিচ দিয়ে প্রবাহিত হয়। তকাল বিকাল ৬টায় পানি বিপৎসীমার ৩০ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে বইছিল।

শেয়ার করুন