২৬ জুলাই ২০২০
শায়েস্তাগঞ্জ (হবিগঞ্জ) প্রতিনিধি : হবিগঞ্জের শায়েস্তাগঞ্জ উপজেলায় পরিত্যক্ত ভবনে চলছে বন বিভাগের অফিস কার্যক্রম। কর্মকর্তা-কমর্চারীদের আবাসিক ভবনগুলোর অবস্থাও জরাজীর্ণ। তারা জীবনের ঝুঁকি নিয়ে এসব ভবনে বসবাস করছেন।
জানা যায়, ১৯৬৫ সালে শায়েস্তাগঞ্জ উপজেলার পূর্ব লেঞ্জাপাড়া খোয়াই নদীর পাড় ঘেঁষে এক একর জমির সীমানা নিয়ে বন বিভাগের অফিস কার্যক্রম শুরু হয়। তৈরি করা হয় অফিস ভবন ও আবাসিক ভবন। দীর্ঘদিন ধরে বনবিভাগের অফিস কার্যক্রম চলছে ঝুঁকিপূর্ণ ভবনে।
সরজমিনে গিয়ে দেখা যায়, নেই কোনো সীমানা প্রাচীর। অফিস ভবন নির্মাণে পর থেকে তেমন কোনো সংস্কার না হওয়ায় ভবনগুলো ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে। অতি ঝুঁকিপূর্ণ হওয়ায় তিনটি ভবন পরিত্যক্ত ঘোষণা করা হয়েছে, তবুও নতুন ভবন নির্মাণ হচ্ছে না। এদিকে বাকি ভবনগুলোর অবস্থাও বেহাল। অফিস ভেঙে মাথায় পড়ার ঝুঁকিতে রয়েছেন অফিসে কর্মরতরা।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক কর্মকর্তা জানান, জীবনের ঝুঁকি নিয়েই দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছি। ভবনগুলোর অবস্থা করুণ থাকা সত্তেও কর্তৃপক্ষের টনক না নড়লে কী আর করার আছে।
স্থানীয় বাসিন্দা হাজী খোরশেদ মিয়া বলেন, সরকারি একটি অফিস ঝুঁকিপূর্ণ থাকবে কেন। বহুদিন ধরেই ভাঙাচোরা অফিসেই কাজ করছে কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা। যেকোনো সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে।
ওয়ার্ড কাউন্সিলর নওয়াব আলী জানান, ঠিক কী কারণে রেঞ্জ অফিসটি অবহেলিত আমি বুঝে উঠতে পারছি না। ঝুঁকিপূর্ণ ভবনগুলো ভেঙে সীমানা প্রাচীরসহ একটি সুন্দর রেঞ্জ অফিস করার জন্য জোর দাবি জানাচ্ছি।
রেঞ্জ অফিসার আব্দুল খালেক বলেন, আমাদের এ অফিসের সবগুলো ভবনই ঝুঁকিপূর্ণ এবং সবগুলো ভবনই পরিত্যক্ত ঘোষণা করা হয়েছে। তারপরও পরিত্যক্ত ভবনেই অফিসের কার্যক্রম চলছে। আবাসিক ভবনগুলোরও একই অবস্থা।
হবিগঞ্জ বন বিভাগের সহকারী বন সংরক্ষক মো. মারুফ হোসেন জানান, নতুন ভবন নির্মাণ করার জন্য মন্ত্রণালয়ে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র জমা দেয়া হয়েছে। আগামী বছরের প্রথম দিকে নতুন ভবন নির্মাণে আশাবাদি।