১৮ জুলাই ২০২০


অফিস টাইমেও প্রাইভেট চেম্বার করেন বালাগঞ্জ হাসপাতালের আরএমও

শেয়ার করুন

বালাগঞ্জ সংবাদদাতা : ডা. মামুন আহমদ। উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আরএমও। প্রতিদিন হাসপাতালের কোয়ার্টারেই প্রাইভেট রোগী দেখেন। ফি নেন তিশ শত টাকা, তাও আবার অফিস চলাকালিন সময়ে। অফিসে যান শুধুই হাজিরা দিতে। হাজিরা দিয়েই চলে যান উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের ডাক্তার কোয়ার্টারের চেম্বারে। কোয়ার্টারের চেম্বারে রোগী না আসা পর্যন্ত সময় কাটান টিএইচওর অফিস রুমে বসে। নিজের মতো করেই স্বাধীনভাবে সরকারি প্রতিষ্ঠানে আউটডোর সহ আবাসিক বিভাগের দায়িত্ব ফাঁকি দিয়ে প্রাইভেটে চেম্বার করে যাচ্ছেন তিনি। তার পরও রহস্যজনভাবে নিরব দর্শকের ভূমিকা পালন করছেন উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা। এনিয়ে উপজেলার বিভিন্ন এলাকা থেকে চিকিৎসা নিতে আসা লোকজনের মধ্যে চরম ক্ষোভ বিরাজ করছে। বলছিলাম বালাগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের ভারপ্রাপ্ত আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডা. মামুন আহমদের কথা।

জানা যায়, প্রতিদিন হাসপাতালে হাজিরা খাতায় স্বাক্ষর দিয়ে মাসিক সরকারি বেতন-ভাতা ভোগ করলেও সরকারি প্রতিষ্ঠানে দায়িত্ব পালনে তেমন গুরুত্বই দিচ্ছেন না। কোনো কিছুকেই তোয়াক্কা না করে প্রতিদিন হাজিরা দেয়ার পর পরই চলে যাচ্ছেন ব্যক্তিগত চেম্বারে।

ডা. মামুন আহমদ দীর্ঘ প্রায় ৮ বছর থেকে একই স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে কর্মরত আছেন। এখানে নিয়োগ লাভের পর থেকে সরকারি এই প্রতিষ্ঠানে তিনি দায়সারাভাবে দায়িত্ব পালন পালন করে যাচ্ছেন। সরকারি নিয়ম অনুযায়ী যেখানে প্রতিদিন ডিউটি করার কথা, কিন্তু সেখানে তিনি তা না করে নিয়মিত রোগী দেখছেন হাসপাতালের কোয়ার্টারে।

স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের ডাক্তার কোয়ার্টারেতোর সার্বক্ষনিক থাকার কথা থাকলেও তিনি সেখানে না থেকে থাকেন সিলেট শহরে। অফিস টাইমের তোয়াক্কা না করেই সিলেট থেকে ইচ্ছামত আসা-যাওয়া করেন বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। অফিসে এসেই শুধুমাত্র হাজিরা খাতা সহ অন্যান্য খাতায় স্বাক্ষর দিয়ে রোগী দেখার জন্য চেম্বারে চলে যান। দিনের বাকি সময়টুকু সেখানেই কাটে ওই চিকিৎসকের। এনিয়ে খোদ হাসপাতালের অন্য কর্মকর্তা কর্মচারীদের মধ্যে চাপা ক্ষোভ বিরাজ করলেও টিএইচওর আস্থাভাজন হওয়ায় কেউ প্রকাশ্যে মুখ খুলেন না।

মামুন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাকে ম্যানেজ করে নিজের মতো করে আবাসিক বিভাগের দ্বায়িত্ব পালন করেই যাচ্ছেন। যদিও তিনি দাবি করেছে আবাসিক মেডিকেল অফিসারের ভারপ্রাপ্ত দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছেন।

এই প্রতিবেদকসহ উপজেলায় কর্মরত বেম কয়েকজন সংবাদকর্মী কয়েকদিন থেকেই হাসপাতালে গিয়ে বিষয়টি পর্যবেক্ষণ করছেন। সরজমিন গিয়ে দেখা গেছে, বালাগঞ্জ উপজেলা মেডিকেল অফিসারের দায়িত্ব রেখে ডা. মামুন আহমদ সকাল ১১টা বা সাড়ে ১১টার পর থেকেই ওই কোয়ার্টারে প্রাইভেট রোগী দেখছেন। সর্বশেষ গত ৩ জুন দুপুর সাড়ে ১২ টায় ও ১লা জুলাই একই সময়ে হাসপাতালে থেকে কোয়াটারের চেম্বারে বেশ কয়েকজন রোগীকে নিয়ে যাওয়া হয়।

তবে বিষয়টি সম্পূর্ণ অস্বীকার করে ডা. মামুন আহমদ বলেন, করোনার এই সময়ে প্রায় ৪ মাসে আমি রোগী দেখেছি মাত্রা ৮ দিন তাও আবার অফিস টাইমের পরে। তিনি সকল তথ্যপ্রমানকেও অস্বীকার করেন।

হাসাপাতালের একাধিক কর্মকর্তা নাম প্রকশ না করার শর্তে বলেন, তিনি সপ্তাহে এক দিন রাতে ডিউটি করার কথা কিন্তু টিএইচওকে ম্যানেজ করে রুটিন থেকে তার নাম কৌশলে বাদ দীর্ঘদিন থেকে রাতে ডিউটি করেছেন না। হাসপাতালের আউটডোরে রোগী দেখার কথা থাকলেও তিনি কোন দিন সেখানে বসেছেন বলে মনে হয়না। এছাড়াও একদম প্রাথমিক রোগের জন্য রোগীদের হাসপাতালে চিকিৎসা না দিয়ে সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেলের কলেজ হাসপাতালে রেফার্ড করারও অভিযোগ রয়েছে।

বিষয়টি নিয়ে জানতে চাইলে হাসপাতাল পরিচালনা কমিটির সদস্য, উপজেলা আওয়ামীলীগের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক ও বালাগঞ্জ বাজার কমিটির সভাপতি মো: জুনেদ মিয়া বলেন, সরকারি অফিস সময় প্রাইভেট রোগী দেখেন বিষয়টি আমি জানিনা, আগামী সভায় এব্যাপারে আলোচনা করবো।

হাসপাতাল পরিচালনা কমিটির সদস্য ও উপজেলা ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক তুহিন মনসুর বলেন, বিষয়টি নিয়ে বেশ কিছুদিন থেকে পত্রপত্রিকায় লেখালেখি হচ্ছে দেখেছি, হাসপাতাল নিয়ে কোন দুর্নীতি হলে এটাকে প্রশ্রয় দেয়া হবেনা।

অভিযোগের বিষয়ে বালাগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের দায়িত্বে থাকা পরিবার পরিকল্পনা ও স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডাক্তার এস এম শাহরিয়ার বলেন, অফিস টাইমে প্রাইভেট রোগী দেখার কোন নিয়ম নেই। অফিস টাইম পরে হয়তবা দেখতে পারেন। আপনার কাছে উপযুক্ত প্রামাণ থাকলে দেন আমি ব্যবস্থা নেব।

তবে এই ব্যাপারে যেন কোন দায়িত্ব অনেকটা এড়িয়েই সিলেট সিভিল সার্জন ডাক্তার প্রেমানন্দ মণ্ডল বলেন, অফিস চলাকালীন সময়ে প্রাইভেট চেম্বার করার নিয়ম নেই। সব বিষয়ে আমাকে বলার প্রয়োজন নেই উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা বিষয়টি অবগত করুন।

প্রসঙ্গত, এর আগে গত ২৫ জুন আজকের সিলেটে ‘বালাগঞ্জ স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভূয়া খাবার বিল, টাকার ভাগ নিচ্ছেন ডাক্তার-স্টাফরা‘ শিরোনামে একটি সংবাদ এবং ৩ জুলাই ‘রোগীদের ভাতের বদলে চিড়া দিচ্ছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ‘ শিরোনামে আরো একটি সংবাদ প্রকাশিত হয়। এর পর পুরো উপজেলাজুড়ে তোলপাড় শুরু হলেও বিষয়টি নিয়ে সিভিল সার্জন অফিসের কোন তৎপরতা লক্ষ করা যায়নি। এনিয়ে সচেতন মহলে চাপা ক্ষোভ বিরাজ করছে।

শেয়ার করুন