১২ জুলাই ২০২০


সুনামগঞ্জে আবারো বন্যা, নিম্নাঞ্চল প্লাবিত

শেয়ার করুন

সুনামগঞ্জ প্রতিনিধি : ভারত থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে ও টানা বৃষ্টিপাতের ফলে সুরমা নদীর পানি বিপৎসীমার আরও ২৯ সেন্টিমিটার বেড়ে সুনামগঞ্জে বন্যা পরিস্থিতি অবনতি হয়েছে। পানিতে প্লাবিত হতে শুরু করেছে নদী তীরবর্তী বাড়িঘর ও দোকানপাট।

পানি উন্নয়ন বোর্ড জানায়, ভারতের মেঘালয়-চেরাপঞ্জিতে ভারী বৃষ্টিপাতের ফলে উজানের ঢল ও টানা বৃষ্টির ফলে সুনামগঞ্জে বিভিন্ন নদ-নদীর বাড়তে শুরু করেছে।

সুনামগঞ্জে সুরমা নদীর পানি বিপৎসীমার ৫৪ সেন্টিমিটার ও যাদুকাটা নদীর পানি বিপৎসীমার ১৩৪ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। সর্বশেষ ২৪ ঘণ্টায় সুনামগঞ্জে বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে ১৩৩ মিলিমিটার। টানা বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকলে সুনামগঞ্জের বন্যা পরিস্থিতি আরও খারাপের দিকে যাবে বলে জানায় কর্তৃপক্ষ।

এদিকে টানা বৃষ্টিপাত ও ঢলের পানি বাড়ায় সুনামগঞ্জ শহর ও হাওরের মানুষের মধ্যে আতঙ্ক দেখা দিয়েছে। শহরের উকিলপাড়ার, কাজির পয়েন্ট, হোসেন বখত চত্বর এলাকার রাস্তাগুলো দিনের বেলা পানি না থাকলেও রাতের দিকে পানি ঢুকতে থাকে।

এছাড়া শহরের উত্তর আরপিন নগর, বড়পাড়া, মল্লিকপুর পশ্চিম তেঘরিয়া, কাজির পয়েন্ট, উকিলপাড়া, হোসেন বখত চত্বরসহ বেশ কয়েকটি এলাকায় পানি মানুষের ঘরবাড়িতে প্রবেশ করেছে।

এদিকে জেলার দোয়ারাবাজার উপজেলার সঙ্গে বিভিন্ন ইউনিয়নের যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন অবস্থায় রয়েছে। অন্যদিকে বিশ্বম্ভরপুর, তাহিরপুর, ছাতক ও জামালগঞ্জ উপজেলার বিভিন্ন নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হওয়া শুরু করেছে এবং এসব উপজেলাও বাড়িঘর দোকানপাটে পানি প্রবেশ করেছে।

অন্যদিকে দ্বিতীয় দফার বন্যার কবলে পড়ে চরম দুর্ভোগে পড়েছেন সাধারণ মানুষ। পানি বেড়ে বন্যা দেখা দিলে ত্রাণ সংকট দেখা দিতে পারে বলে ধারণা অনেকের, তবে জেলা প্রশাসন জানিয়েছে বন্যা মোকাবিলায় তারা প্রস্তুত রয়েছেন।

নবীনগর এলাকার নজরুল মিয়া জানান, আগের বন্যায় ঘর ছেড়ে আশ্রয়কেন্দ্রে উঠলাম এখন আবার রাত থেকে ঘরে হাঁটু পানি। ছেলে মেয়ে বউ নিয়া বড় সমস্যাত আছি, কাজ কাম নাই তার উপর আবার পানি। ঘরে তো চুলা জ্বলছে না, বড় সমস্যায় আছি।

কাজির পয়েন্ট এলাকার দোকানি জাহিদ তালুকদার বলেন, রাতে দোকান লাগানোর সময়ও পানি উঠেনি, কিন্তু সকালে এসে দেখি দোকানে হাঁটু পানি। এরকম পানি বৃদ্ধি পেতে থাকলে ব্যবসার অনেক ক্ষতি হয়ে যাবে।

সুনামগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী সহিবুর রহমান জানান, বন্যা পরিস্থিতি অবনতি হয়েছে। সুরমা নদীর পানি বিপৎসীমার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। গতরাত থেকে আরও ২৯ সেন্টিমিটার বেড়ে সকালে ৫৪ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। টানা বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকলে পরিস্থিতি আরও অবনতি হবে।

জেলা প্রশাসক মো. আব্দুল আহাদ বলেন, দ্বিতীয়বার বন্যা মোকাবিলায় প্রশাসন প্রস্তুত রয়েছে। ইতোমধ্যে কন্ট্রোল রুম খোলা হয়েছে এবং আশ্রয়কেন্দ্র খুলে দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

শেয়ার করুন