৮ জুলাই ২০২০
ছাতক (সুনামগঞ্জ) প্রতিনিধি : ছাতকে অপরিকল্পিত পাথর পরিবহন, ডাম্পিং এবং লোডিং-আনলোডিংয়ের কারণে হুমকির মুখে পড়েছে সোনাই নদীর বেড়িবাঁধ ও রাবারড্যাম প্রকল্প। কতিপয় অতি-লোভী পাথর ব্যবসায়ীরা পাথর লোডিং-আনলোডিংয়ে সহজ সুবিধা নিতে বেড়িবাঁধ কেটে ক্ষত-বিক্ষত করে গোটা প্রকল্পকে হুমকির মুখে ঠেলে দিয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। পে লোডার দিয়ে নৌকায় পাথর লোডিং করতে বাঁধের বেশ কয়েকটি জায়গা কেটে ফেলা হয়েছে। আবার কোন-কোন ব্যবসায়ীকে রাবার ড্যাম এর গোড়ায় পাথর ডাম্পিং করে নৌকায় লোড করতেও দেখা গেছে। সরকারী সম্পদ নষ্ট করে স্থানীয় এসব প্রভাবশালী ব্যবসায়ীরা দাপটের সাথে সোনাই নদীর বেড়িবাঁধের উপর জমজমাট ব্যবসা করে যাচ্ছে।
স্থানীয়রা এর প্রতিবাদ করলেও এসব পাথর ব্যবসায়ী অশুভ শক্তির কাছে হার মানতে হচ্ছে তাদের । বেড়িবাঁধ ক্ষত-বিক্ষত হওয়ায় আগামী বোরো মৌসুমে চাষাবাদের ক্ষেত্রে পানি সেচের তীব্র সংকটে পড়ার আশংকা স্থানীয় কৃষকদের।
জানা যায়, উপজেলার ইসলামপুর ইউনিয়নের ভারত সীমান্তবর্তী বাহাদুরপুর বৈশাকান্দি এলাকার ১০ সহস্রাধিক একর অনাবাদী জমিকে আবাদের আওতায় আনতে ২০০৮ সালে প্রায় ১৫ কোটি টাকা ব্যয়ে সোনাই নদীর উপর রাবারড্যাম ও উভয় পারে বেড়িবাঁধ নির্মাণ করা হয়। রাবার ড্যাম প্রতিষ্ঠার পর এখানকার কৃষকদের সম্ভাবনার এক নতুন দ্বার উন্মোচিত হয়। বর্ষা মৌসুমের শেষে রাবার ফুলিয়ে সোনাই নদীর পানি আটকে বোরো চাষাবাদে এসব পানি ব্যবহার করেন এখানের কৃষকরা।
গত কয়েক বছর ধরে নদীর পূর্ব পারে বেড়িবাঁধ সংলগ্ন এলাকায় পাথর ডাম্পিং করে ব্যবসা পরিচালনা করতে থাকে স্থানীয় কতিপয় ব্যবসায়ী। বর্ষা মৌসুমে পাথর লোডিং-আনলোডিংয়ে পে লোডার বা ট্রাক্টর ব্যবহারের সুবিধার্থে এসব ব্যবসায়ী সরকারী বেড়িবাঁধকে কেটে বাড়তি সহজ সুবিধা ভোগ করে থাকে। আবার বর্ষা শেষে ক্ষত-বিক্ষত বেড়িবাঁধ মেরামতের কথা বলে এসব ব্যবসায়ী সিন্ডিকেট স্থানীয় কৃষকদের কাছ থেকে চাঁদাও আদায় করে থাকে। গত কয়েক বছর ধরে এই বাঁধের উপর পাথর ব্যবসায়ীদের চলে আসা তান্ডবে অস্তিত্ব হারাতে বসেছে সোনাই নদীর রাবার ড্যাম প্রকল্পের বেড়িবাঁধ।
মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল কাদির, স্থানীয় ইউনুস আলী, আমির উদ্দিন, আবু তাহের, মাওলানা রফিকুল ইসলাম, মনিরুজ্জামান, মোন্তাজ আলী, বিল্লাল মিয়াসহ লোকজন জানান, বেড়িবাঁধটি বর্তমানে খুবই নাজুক অবস্থায় রয়েছে। বাঁধের বিভিন্ন স্থান কেটে ফেলা হয়েছে পাথর পরিবহনের সুবিধার জন্য। কেউ প্রতিবাদী হলে বিভিন্ন মামলায় জড়িয়ে দেয়ার হুমকি দেয় সংশ্লিষ্টরা। বর্ষা শেষে বেড়িবাঁধ পুনঃনির্মাণ করা না হলে কাটা অংশ দিয়ে পানি বেরিয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা থাকে। ফলে বাঁধ মেরামতের জন্য অনেকটা বাধ্য হয়েই প্রতি কৃষককে জমির বিঘাপ্রতি ৩০০ টাকা করে ওই ব্যবসায়ীদের দিতে হয়।
তারা আরো জানান, রাবার ড্যাম এর উপরে নৌকা উঠার ক্ষেত্রে সরকারীভাবে নিষেধাজ্ঞা রয়েছে। কিন্তু প্রভাবশালী এসব ব্যবসায়ী নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে রাবার ড্যাম এর উপর দিয়ে বড়-বড় ইঞ্জিন চালিত নৌকায় পাথর পরিবহন করছে। ফলে নৌকার ঢেউয়ে বেড়িবাঁধের উভয় পারে ভাঙ্গন ধরেছে। এ ব্যাপারে স্থানীয় কৃষকরা প্রশাসনের উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন। অন্যথায় সরকারী রাবার ড্যাম প্রকল্প এক সময় বন্ধ হয়ে যেতে পারে। মারাত্মক ক্ষতির সম্মুখীন হবে এখানকার কৃষক। পক্ষান্তরে আর্থিক লাভবান হবে সরকারী সম্পদ নষ্টকারী এসব অসাধু ব্যবসায়ী।
বিএডিসি পানি ব্যবস্থাপনা সমবায় সমিতির সভাপতি আব্দুল জব্বার খোকন জানান,অসাধু পাথর ও বালু ব্যবসায়ীদের কারণে প্রতি বছরই রাবারড্যাম্প ও বেড়িবাঁধের ক্ষতি হচ্ছে। কৃষি এবং কৃষকের স্বার্থে পানি উন্নয়ন বোর্ড কর্তৃক ফসল রক্ষার জন্যে স্থায়ী বাঁধ নির্মাণেরও দাবী জানান তিনি।
এ ব্যাপারে উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোঃ গোলাম কবির জানান, রাবার ড্যাম্পের ত্রিশ গজের মধ্যে নদী থেকে বালু উত্তোলনের কারণে সম্প্রতি দুই লাখ টাকা জরিমানা আদায় করা হয়েছে। রাবারড্যাম রক্ষায় প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে বলে জানান ইউএনও।