৫ জুলাই ২০২০
কামরুল ইসলাম মাহি : বৈশ্বিক মহামারী করোনাভাইরাস গত বছরের ৩১ ডিসেম্বরে চীনের উহান থেকে ছড়িয়ে পড়ে সারা দুনিয়ায়। ভাইরাসটি বাংলাদেশে প্রথম ধরা পরে গত ৮ মার্চ। আর ১৭ মার্চ থেকে সারাদেশে বন্ধ হয়ে গেছে স্কুল, কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়।
তিন মাসেরও বেশি সময় ধরে সারাদেশের মতো সিলেটের শিক্ষার্থীরা গৃহবন্দি। ঘরের চার দেওয়ালের মধ্যেই কাটছে তাদের দিন-রাত। বন্দি ঘরে কীভাবে কাটছে সময়?
সংশ্লিষ্টরা বলেছেন, পড়ার বইয়ের সঙ্গে সম্পর্ক নেই বললেই চলে। লেখাপড়ায় মনোযোগ নেই আগের মতো। পুরো সময় কাটছে টিভি দেখে আর স্মার্ট ডিভাইসে। দিন-রাতের রুটিন বদলে গেছে। অনেকের আচার ব্যবহারেও এসেছে পরিবর্তন। এমতাবস্থায় তাদের ভবিষ্যত কোন দিকে যাচ্ছে? এ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন অভিভাবকেরা।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সারা দিন ফেসবুক-ইউটিউবে থাকলে মস্তিষ্কের সৃজনশীলতা নষ্ট হয়ে যায়। চিন্তায় পরিবর্তন আসে। ভালো চিন্তা বাদ দিয়ে খারাপ চিন্তাগুলো মস্তিষ্কে ভর করে। আচরণ পালটে যায়, মানুষের সঙ্গে ব্যবহারও খারাপ হতে থাকে। ফলে এখনই শিক্ষক ও অভিভাবকদের বিশেষ নজর দিতে হবে তরুণ শিক্ষার্থীদের দিকে।
নগরের শেখঘাট এলাকার বাসিন্দা রাজু আহমেদ জানান, আমার ভাই একটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের বিবিএ দ্বিতীয় সেমিস্টারের ছাত্র। ছুটির এই পুরো সময়টাতে আমরা চেষ্টা করেও তাকে বইয়ের কাছে নিতে পারিনি। সারা দিন রুমে বসে হয় ল্যাপটপে নতুবা মোবাইল ফোনে মাথা গুঁজে থাকে। এখন সে ভোররাতে ঘুমাতে যায়, বিকেলে ঘুম থেকে ওঠে।
একই ধরনের অভিজ্ঞতার কথা জানালেন সুবিদবাজার এলাকার বাসিন্দা আব্দুস শাহিন। তার ছেলে আল আমিন সিলেট মদনমোহন বিশ্ববিদ্যালয়ের ডিগ্রী ৩য় বর্ষের শিক্ষার্থী।
শাহিন বলছিলেন, ছেলের বেশীরভাগ সময় কাটে নিজের রুমে। সেখানে কী করে কিছুই জানি না। এখন বড়ো হয়েছে, বেশি হস্তক্ষেপ করলে মাইন্ড করে। কিন্তু বইপত্র ছেড়ে দিয়ে সারা দিন ফেসবুক নিয়ে থেকে ওর যে ক্ষতি হচ্ছে, সেটা আমরা বুঝতে পারছি।
এমন অসংখ্য অভিভাবক তাদের সন্তানদের নিয়ে চিন্তার মধ্যে আছেন। করোনাকালীন অধিকাংশ শিক্ষার্থীর সময় কাটছে মোবাইল, ল্যাপটপ আর টিভি দেখে। অনেক তরুণ ভিডিও গেমে আসক্ত হয়ে পড়েছে। এমন কথাও জানালেন অনেক অভিভাবক।