১ জুলাই ২০২০
ডেস্ক রিপোর্ট : সিলেটে নদ-নদীর পানি বৃদ্ধি না হওয়ায় বন্যা পরিস্থিতি অপরিবর্তিত রয়েছে। সুরমা-কুশিয়ারার পানি সিলেট সুনামগঞ্জের বিভিন্ন স্থানে পিবদসীমার উপর দিয়ে প্রবাহিত হলেও গতকাল মঙ্গলবার থেকে পানি আর বৃদ্ধি পায়নি। অনেক জায়গায় পানি কমতে শুরু করেছে। তবে পানি বৃদ্ধি না হলেও রাস্তাঘাট বাড়িঘর তলিয়ে যাওয়ায় পানিবন্দি মানুষের দুর্ভোগ বেড়েই চেলেছে। আশ্রয় কেন্দ্র আশ্রয় নেওয়া বিভিন্ন্ উপজেলার হাজার হাজার মানুষ ত্রাণের জন্য অপেক্ষা করছেন। কিছু কিছু জায়গায় সরকারি উদ্যোগে ত্রাণ তৎপরতা চালালেও দুর্গত মানুষের তুলনায় তা খুবই কম বলে জানা গেছে।
এদিকে, আবহাওয়া অফিস আগামী ২৪ ঘন্টার পূর্বাভাসে সিলেটের কিছু এলাকায় হালকা, মাঝারি ও ভারি বৃষ্টিপাতের আগাম সংকেত দিয়েছে। গতকাল মঙ্গলবার সন্ধ্যায় সিলেট আবহাওয়া অফিস আগামী ২৪ ঘন্টা আবহাওয়ার পূর্বাভাস বিজ্ঞপ্তিতে জানায়, সিলেটের বিভিন্ন এলাকায় হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টি /বজ্রসহ বৃষ্টিপাতের সাথে অস্থায়ী দমকা বাতাস সহ বেশ কয়েকটি জায়গায় মাঝারি থেকে ভারী থেকে ভারী জলপ্রপাতের সম্ভাবনা রয়েছে। গত ২৪ ঘন্টায় সিলেট বৃষ্টিপাত হয়েছে ৩. ৬ মিলিমিটার।
সিলেটে সুরমা নদীর পানি কমার ফলে সিলেট নগরের কাজিরবাজার, তালতলা, কালিঘাট,ছড়ারপাড়, শাহজালাল উপশহর, তেররতন, গোলাপবাগ, সোবহানীঘাটসহ অনেক এলাকা থেকে পানি নামতে শুরু করেছে। সুনামগঞ্জ শহরেরও তেঘরিয়া, উত্তর আরপিন নগর, ষোলঘর, কাজিরপয়েন্ট, নবীনগর, উকিলপাড়ার সড়ক থেকে পানি নামতে শুরু করেছে।
পানি উন্নয় বোর্ড (পাউবো) সূত্র জানায়, মঙ্গলবার বেলা ১২টা পর্যন্ত সুরমা নদীর পানি সিলেট কানাইঘাট পয়েন্ট ছাড়া অন্যান্য জায়গায় কমতে শুরু করেছে। কানাইঘাট পয়েন্টে বিপদসীমার ১০ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হয়েছে। যেখানে সোমবার সন্ধ্যা ৬টায় বিপদসীমার ২৬ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে এ পয়েন্টে পানি প্রবাহিত হয়েছিল। এছাড়া, সুরমা-কুশিয়ারা-সারিসহ অন্য সব নদ-নদীর পানিই কয়েক সেন্টিমিটার কমেছে। সুনামগঞ্জের ষোলঘর পয়েন্টে সুরমা নদীর পানি বিপদসীমার ১৫ সে.মি. উপর দিয়ে প্রাবাহিত হয়েছে।
এদিকে, নদীর পানি কমে যাওয়ায় সুনামগঞ্জ শহরের অধিকাংশ জায়গা থেকে বন্যার পানি নেমে গেছে। পানি নেমে যাওয়ায় শহরের বিভিন্ন সড়কে যান চলাচল স্বাভাবিক হয়েছে। যদিও শহরের মধ্যে হাজিপাড়া এলাকায় কিছু এলাকায় জলামগ্ন আছে।
জেলা শহরের সঙ্গে বিশ্বম্ভরপুর উপজেলার সড়ক যোগাযোগ স্বাভাবিক হলেও তাহিরপুর উপজেলার সঙ্গে এখনও সড়ক যোগাযোগ বন্ধ রয়েছে।
পাউবো জানায়, আর যদি বৃষ্টিপাত না হয় তাহলে সুনামগঞ্জে সুরমা নদীর পানি বিপদসীমার নিচে নেমে যাবে।
পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী সহিবুর রহমান জানান, বৃষ্টিপাত না হলে সুরমা নদীর পানি বিপদসীমার নিচে নেমে যাবে।
তবে সুনামগঞ্জ শহরে পানি কিছুটা কমলেও জেলার বিভিন্ন উপজেলায় পানিবন্দি সাধারণ মানুষদের ভোগান্তি চরমে উঠেছে। বন্যা কবলিত উপজেলা গুলোর সব সড়কই ৫ থেকে ১০ ফুট পানির নিচে তলিয়ে আছে। ফলে সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগে পড়েছেন তাহিরপুর, বিশ্বম্ভরপুর, দোয়াবাজার ও জামালগঞ্জ উপজেলার মানুষজন।
কোম্পানীগঞ্জ প্রতিনিধি জানান, সিলেটের কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার বন্যা পরিস্থিতির উন্নতি হয়েছে। কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা সদরের অনেক রাস্তার উপর থেকে নামতে শুরু করেছে বন্যার পানি। তবে, এখনও উপজেলা সদরের সাথে সরাসরি সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন রয়েছে। বন্যা কবলিত এলাকায় ৩৫টি আশ্রয়কেন্দ্রে কয়েক হাজার মানুষ অবস্থান করছেন। জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে বিভিন্ন আশ্রয় কেন্দ্রে শুকনো খাবার বিতরণ করা হচ্ছে।
এদিকে, পানিবন্দী অনেক এলাকায় খাবারের সংকট দেখা দিয়েছে। ত্রাণের জন্য বানভাসিরা অপেক্ষা করছেন। কিন্তু বেশিরভাগ এলাকায় এখনও ত্রাণ পৌঁছায়নি।
উপজেলা নির্বাহী অফিসার সুমন আচার্য জানান, জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে শুকনো খাবার বিতরণ অব্যাহত আছে। তেলিখাল ইউনিয়নের বিভিন্ন আশ্রয়কেন্দ্রে শুকনো খাবার বিতরণ করা হয়। তাছাড়া বন্যা দুর্গতদের জন্য সরকারি বরাদ্দ আসছে। শিগগির জনপ্রতিনিধিদের মাধ্যমে বন্টন করা হবে।
দোয়ারাবাজার প্রতিনিধি জানান, সুনামগঞ্জের দোয়ারাবাজারে রোববার মধ্যরাত থেকে হালকা ও মাঝারি বৃষ্টিপাত হলেও ভাটিতে পানির টান না থাকায় বন্যার পানি কমতে শুরু করেছে। সুরমাসহ উপজেলার সকল নদনদীর পানি কমতে শুরু হলেও হাওর এলাকায় বানের পানি বাড়ছে। ফলে দুর্ভোগ বেড়েছে পানিবন্দি মানুষের। উপজেলা সদরের সাথে ৯টি ইউনিয়নের সড়ক যোগাযোগ বন্ধ রয়েছে।