৬ জুন ২০২০


সিএনজি-অটোরিক্সা ও লেগুনায় ‘উধাও’ স্বাস্থ্যবিধি

শেয়ার করুন

অতিথি প্রতিবেদক : প্রাণঘাতী করোনাভাইরাস সংক্রমণরোধে সিলেট নগরীতে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলছে না গণপরিবহন খ্যাত লেগুনা ও সিএনজি-অটোরিক্সা। করোনা আক্রান্তের সংখ্যা বাড়তে থাকলেও মানা হচ্ছে না সরকারের দেয়া বিধি-নিষেধ ও শর্ত। লেগুনা ও সিএনজি-অটোরিক্সায় চাপাচাপি করে উঠানো হয় যাত্রী। দুই বা তিনজন যাত্রী নিয়ে দাপিয়ে বেড়াচ্ছে রিকশাও। যানবাহনের ভিড় বাড়ায় কোন কোন সড়কে যানজট সামলাতে হচ্ছে ট্রাফিক পুলিশকে। ফলে সিলেটে করোনা ভয়াবহ রূপ নেওয়ার আশঙ্কা করছেন সচেতনমহল।

সিলেট নগরীতে এবং আশপাশ এলাকায় দেখা গেছে, সামাজিক দূরত্ব মেনে যাত্রী পরিবহন করতে বলা হলেও তা মানা হচ্ছে না অধিকাংশগুলোতে। প্রায় প্রতিটি লেগুনায়ই চালকের পাশের আসনে বসা দেখা গেছে দু’জনকে। পেছন দিকে দু’পাশে ছয় জন করে মোট ১২ জন যাত্রী পরিবহন করা হচ্ছে। এতে প্রতিজনের মধ্যে এক ফুটেরও কম দূরত্ব থাকছে। আবার দু’পাশের যাত্রীরা বসছেন মুখোমুখি। সাধারণ ছুটি চলাকালীন মোট তিনজন যাত্রী নিয়ে সিএনজি অটোরিক্সা চললেও বর্তমানে সবমিলিয়ে পাঁচজন যাত্রী নিয়ে গন্তব্যে ছুটছে তারা।

এছাড়াও সিলেট শহরতলীর বিভিন্ন জায়গায় কম দূরত্বে গন্তব্যে পৌঁছানোর জন্য অনেকে ইজিবাইকে চড়ছেন। অবৈধ এসব ইজিবাইকেও সামাজিক দূরত্ব না মেনে চালকের আসনের দু’পাশে বসছেন দু’জন। পেছনে চার আসনে মুখোমুখি চারজন যাত্রী নিয়ে চলাচল করছে এই পরিবহনটি।

এদিকে, বেশ কয়েকটি লেগুনা ও সিএনজি অটোরিক্সায় মাস্ক ও গ্লাভস ছাড়া চালক, হেলপার ও যাত্রীদের দেখা গেছে। হাতেগোনা দুই একজনের হাতে হ্যান্ড গ্লাভস থাকলেও বাকিদের হাতে নেই। বৃষ্টির জল আর কাদায় অপরিচ্ছন্ন হয়ে আছে যানবাহনের ভেতরের অংশ।

সরেজমিনে দেখা যায়, নগরীর আম্বরখানা, মদিনা মার্কেট, কোর্ট পয়েন্ট, বন্দর বাজার, ক্বীন ব্রিজের মোড়, শাহী ঈদগাহ, জেলরোড, টিলাগড়, কদমতলী, স্টেশন রোডসহ যেখানেই যাত্রী মেলে সেখানেই স্ট্যান্ড বানিয়ে অটো রিক্সাচালকরা নির্দ্ধিধায় আগের মতো যাত্রী উঠিয়েই চলাচল করছে। কোন যানবাহনে নির্ধারিত আসনের চেয়ে বেশি যাত্রী নেয়া হচ্ছে। এছাড়া স্বাস্থ্যবিধি ও সামাজিক দূরত্বের বিষয়টি তোয়াক্কা না করে এক যাত্রী অন্যজনের গা ঘেঁষে বসা, মাস্ক-হ্যান্ড গ্লাভস ব্যবহার না করার ভয়াবহ দৃশ্য দেখা গেছে এসব গণপরিবহনে।

জৈন্তাপুর থেকে লেগুনায় ধোপাদিঘির পাড়ে আসা যাত্রী সাহাব উদ্দিন জানান, গাড়ি চালক ও হেলপারের মুখে মাস্ক, হাতে গ্লাভস কোনটাই ছিল না। গাড়ির সিটগুলো অপরিচ্ছন্ন। অতিরিক্ত যাত্রী উঠানোর কারণে বাধ্য হয়ে গাদাগাদি করে আসতে হয়েছে তাদেরকে। তাছাড়া যত্রতত্র গাড়ি থামিয়ে যাত্রী উঠানো ও নামানো হয়েছে। রাস্তায় নজরদারীর জন্য সরকার ঘোষিত আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কোন চেকপোস্টও দেখা যায়নি।

বন্দরবাজারে অটোরিক্সাচালক আব্দুর রহিম বলেন, মাস্ক পকেটে আছে। অনেকেই তো মাস্ক ব্যবহার করে না। প্রয়োজন হলে ব্যবহার করবো। যাত্রীরা আগের ভাড়াই পরিশোধ করায় আগের মতোই যাত্রী পরিবহন করছি। সবার যা গতি আমারও তাই হবে। সরকার বাধ্য করলে যাত্রীরা যখন ব্যবহার করবে তখন আমরাও মাস্ক ব্যবহার করবো। করোনার ভয়ে ঘরে থাকলে তো পেট চলবে না।

তুহিন মিয়া নামের একজন যাত্রী বলেন, প্রয়োজনে বাইরে বের হতে হচ্ছে। নিজের গাড়ি নেই। তাই ঝুঁকিপূর্ণ হলেও অটোরিক্সায় যাতায়াত করতে হচ্ছে। এছাড়া নগরীতে তো বাস নেই। তাই ঝুঁকিপূর্ণ হলেও অটোরিক্সা বা সিএনজিই আমাদের ভরসা।
অপর যাত্রী আব্দুস সালাম বলেন, সরকারের উচিত এসব গণপরিবহনেও শতভাগ স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার ব্যবস্থা করা। প্রতিটি স্ট্যান্ডে হাত ধোয়া ও হ্যান্ড স্যানিটাইজারের ব্যবস্থা রাখা। অন্যথায় ভয়াবহতায় রূপ নেবে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশের উপ-পুলিশ কমিশনার (ট্রাফিক) ফয়সল মাহমুদ বলেন, গণপরিবহন বলতে যাত্রী পরিবহনের যেকোনো যানবাহনকে অবশ্যই সরকারি নির্দেশ মেনে চলতে হবে। নগরীর ২১টি পয়েন্টে আমাদের চেকপোস্ট বসানো হয়েছে। এজন্য আমরা কাজ শুরু করছি। এটা সফল করতে প্রয়োজনে অভিযান চালানো হবে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

শেয়ার করুন