দক্ষিণ সুনামগঞ্জ প্রতিনিধিঃ কোভিড-১৯ বা করোনা ভাইরাসের ভয়াবহতায় থমকে গিয়েছে পৃথিবী। থমকে আছে বাংলাদেশও। নীরব প্রাণঘাতী এ ভাইরাসে আক্রান্ত হওয়ার ভয়ে কর্মক্ষেত্র ছেড়ে ডাক্তার অনুপস্থিত থাকার খবর অনেক ক্ষেত্রেই আমাদের ব্যথিত করেছে। মারাত্মকভাবে ব্যথিত করছে প্রতিদিনই নতুন নতুন লোক আক্রান্ত ও মৃত্যুবরণ করার খবরও। এমন অবস্থায় সকল বাঁধা-ভয় উপেক্ষা করে নামমাত্র মূল্যে সার্বক্ষণিক স্বাস্থ্যসেবা দিয়ে যাচ্ছে সুনামগঞ্জ জেলার দক্ষিণ সুনামগঞ্জ উপজেলার পাগলা গণস্বাস্থ্য কেন্দ্র হাসপাতাল।
গণস্বাস্থ্য কেন্দ্র হাসপাতালটি একদিকে যেমন মানবিক দায়ীত্ব পালন করছে অপিরদিকে সূলভ মূল্য বিনিময়ে দিন-রাত ২৪ ঘন্টাই সেবা দিয়ে যাচ্ছে পশ্চিম পাগলা ইউনিয়নসহ আশপাশের ৬টি ইউনিয়নের হাজার হাজার সেবাপ্রার্থীকে। করোনার ক্রান্তিকালে অব্যাহত সেবা পেয়ে কিছুটা হলেও স্বস্তিতে আছেন স্থানীয় এলাকাবাসী।
গণস্বাস্থ্য কেন্দ্র হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের সাথে কথা বলে জানা যায়, মার্চ মাস থেকে লকডাউন শুরু হওয়ার পর বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান বন্ধ হলেও পাগলা গণস্বাস্থ্য কেন্দ্র হাসপাতালটি এক মূহেুর্তের জন্যও বন্ধ হয়নি। তিনজন এমবিবিএস (মেডিক্যাল অফিসার), প্যাথলোজিস্ট, মাইক্রোবায়লোজিস্ট ও প্রশিক্ষিত অভিজ্ঞ নার্সদের দ্বারা সার্বক্ষণিক সেবা প্রদান করা হচ্ছে। প্রতিষ্ঠানটির নেবুলাইজেশন, অক্সিজেনসহ নিজেস্ব এ্যাম্বুলেন্স ব্যবস্থা থাকায় জরুরি চিকিৎসার মূহুর্তে যে কোনও সেবাগ্রহীতাকে (প্রয়োজনের ভিত্তিতে) সিলেট কিংবা সুনামগঞ্জ পাঠানো হয়। এছাড়াও প্রায়ই দূর্ঘটনায় পড়ে কোনও রোগী আসলে বিনামূল্যেও প্রাথমিক সেবাসহ জরুরি সেবা দেয় প্রতিষ্ঠানটি। করোনার এই সময়ে যদি কোনও ব্যক্তি করোনা ভাইরাসের লক্ষণ নিয়ে হাসপাতালে যান তাদেরকে নমুনা সংগ্রহসহ প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সুনামগঞ্জ সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়।
কর্তৃপক্ষ আরও জানায়, অল্প খরচে নরমাল ডেলিভারির একটি বিশ্বস্থ প্রতিষ্ঠান হচ্ছে পাগলা গণস্বাস্থ্য কেন্দ্র হাসপাতাল। মহিলা রোগীর জন্য মহিলা ডাক্তারের সুবিধা, আল্ট্রাসনোগ্রাফি, ই সি জি ও আধুনিক এক্সরে’র ব্যবস্থা, ডাক্তারের পরামর্শ অনুযায়ী অভিজ্ঞ ফিজিওথেরাপিস্ট দ্বারা ফিজিওথেরাপি প্রদান, কম খরচে উন্নত মানের রক্ত ও পস্রাব পরীক্ষা (প্যাথলোজিক্যাল), মুসলমানি, কাটা সেলাই, ইমার্জেন্সি রোগীদের ভর্তি ও বিদেশ গমনিচ্ছু ব্যক্তিদের মেডিক্যাল চেকআপসহ উন্নত চিকিৎসা সেবা প্রদান করছে এই প্রতিষ্ঠানটি। এদিকে, করোনাকালে সামাজিক দূরত্ব রক্ষা, লোক সমাগম না ঘটানো, নিয়মিত হাত ধোয়াসহ করোনা ভাইরাস সংক্রমণ রোধে জনসচেতনতা বৃদ্ধিতেও প্রচারণা করছে প্রতিষ্ঠানটির স্থানীয় কর্তৃপক্ষ।
পাগলা গণস্বাস্থ্য কেন্দ্র হাসপাতালের ব্যবস্থাপক মো. নজরুল ইসলাম বলেন, ‘সেবা প্রদানের ব্যপারে আমরা কখনো আপোষ করিনি। করোনা কাল শুরু হওয়ার সময় থেকেই আমাদের হাসপাতালে যারা সেবা দিচ্ছেন তাদের প্রত্যেকের ছুটি আমরা বাতিল করেছি। তিনজন এমবিবিএস (মেডিক্যাল অফিসার), প্যাথলোজিস্ট, মাইক্রোবায়লোজিস্ট ও প্রশিক্ষিত অভিজ্ঞ নার্সদের দ্বারা সার্বক্ষণিক সেবা প্রদান করছি আমরা। এ্যাম্বুলেন্স সেবাসহ অনেক সেবাই আমরা এই আপদকালীন সময়েই দিয়ে যাচ্ছি। আমরা জীবনের ঝুঁকি নিয়ে কাজ করছি। যতক্ষণ সম্ভব আমরা আমাদের দায়ীত্ব পালন করেই যাবো।’
দক্ষিণ সুনামগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা (টিএইচও) মো. জসিম উদ্দিন বলেন, ‘এই মহামারিতে সরকারি প্রতিষ্ঠানের পাশাপাশিও যে বেসরকারি এই প্রতিষ্ঠানটি নিরবিচ্ছিন্ন সেবা দিচ্ছে তা প্রশংসাযোগ্য। অনেকেই এই প্রতিষ্ঠান থেকে সেবা গ্রহণ করছেন। ভালো সেবাও দিচ্ছে তারা। এমন ক্রান্তিকালে যে তারা প্রতিষ্ঠান বন্ধ না করে সেবা দিয়েছে এ জন্য তাদেরকে ধন্যবাদ।’
দক্ষিণ সুনামগঞ্জ উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ফারুক আহমদ বলেন, এটা অবশ্যই আমাদের জন্য ভালো খবর যে, একটি চিকিৎসা সেবা কেন্দ্র আমাদের এলাকায় হয়েছে। তারা সব সময় সেবা দিচ্ছেন সে বিষয়ও এখানকার জন্য অনেকটা ইতিবাচক। করোনা মহামারিতে তাদের নিরবিচ্ছিন্ন সেবা দেওয়ায় প্রতিষ্ঠানটির প্রতি এলাকার মানুষের আস্থা আরও বেড়েছে। জরুরি প্রয়োজনে চিকিৎসা প্রদান কিংবা নিজস্ব এ্যাম্বুলেন্সে রোগী বহণ করার ব্যবস্থা থাকায় এলাকার মানুষ যে কোনও সময় এসব সেবা নিতে পারবেন। পাগলা গণস্বাস্থ্য কেন্দ্র হাসপাতাল একটি জরুরি সেবা প্রতিষ্ঠান হিসেবে তার উত্তরোত্তর সাফল্য কামনা করি।’