১৪ এপ্রিল ২০২০


মানুষ মানুষের জন্য – জীবন জীবনের জন্য

শেয়ার করুন

পৃথিবী বদলে গেছে। বদলে গেছে তার রূপ রং। মানুষের আশা ক্ষীণ থেকে ক্ষীণতর হচ্ছে। ভবিষ্যতের আশায় অবিশ্বাসের ছায়া। চারদিকে অদৃশ্য ভাইরাসের বিষাক্ত নিঃশ্বাস। ক্রমশ দমবন্ধ হয়ে আসছে বাংলাদেশ তথা পুরো বিশ্বের। এমন কঠিন দুর্বিষহ দিনে ও ঘরে বসে নেই ডাক্তার নার্স প্রশাসনের কর্মকর্তা কর্মচারী,পুলিশ, বি জি বি,র‍্যাব, আর্মি সহ সবাই। আছেন খবরের ফেরিওয়ালা। তাদের কল্যাণে পুরো বিশ্বের সংবাদ হাতের মুঠোয়। আজ তারা বাংলার লড়াকু সৈনিক। জীবন বাজি রাখা এক একজন অতন্দ্র প্রহরী। ওরা এক একজন আলোর দিশারী। একেক টা আলোক বর্তিকা জীবন প্রদ্বীপ জ্বালিয়ে রাখতে সদা তৎপর।

ঝিনাইদহে করোনা উপসর্গ নিয়ে মৃত্যুবরণকারীর জানাজা পড়ালেন ইউ এন ও মহোদয়। মাত্র পাঁচজন কে নিয়ে জানাজা পড়ালেন। মৃত্যুর পর লাশ নিতে ও এলো না কেউ। ফোন বন্ধ করে পালালো আত্মীয়, পরিবার-পরিজন। দোয়ারা বাজারে করোনা উপসর্গ নিয়ে নিয়ে মৃত যুবকের লাশ বহন করতে খাটিয়া পর্যন্ত দেওয়া হয়নি। নারায়ণগঞ্জে মৃত ব্যক্তি কে গেইটের সামনে রাস্তায় ফেলে রেখেছিল তার পরিবার। কুমিল্লার লাঙলকোটে লাশ ফেলে পালিয়ে যায় তার পরিবার।

কী ভয়াবহ দৃশ্য। ভাবা যায়! অথচ ঐ সব ব্যক্তি ব্যক্তির শেষকৃত্য করেছেন প্রশাসন, পুলিশ সদস্যরা। মৃত্যুকালীন যন্ত্রণায় যখন কাতরাচ্ছিলেন তখন শেষ চেষ্টা করেছিলেন চিকিৎসক, নার্সরাই।

অথচ ঐ মৃত ব্যক্তিরা জীবদ্দশায় পরিবার পরিজনের ভাগ্য উন্নয়নে প্রাণান্ত চেষ্টা করেছিল।

যদি জীবনের এই করুণ পরিনতির শিকার হতে না চান তাহলে দয়া করে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলুন। আঁধার শেষে আলো আসবে ই। আলোর মুখ দেখার জন্য ই অন্ধকারে থাকুন। লুকিয়ে থাকুন, একাকী থাকুন। যাতে ভবিষ্যতে উজ্জ্বল আলোয় প্রিয়জনদের নিয়ে আড্ডায় মেতে উঠতে পারেন।

হ্যাঁ আপনাদের ই বলছি। যারা অকারণে ঘুরে বেড়াচ্ছেন, হোমকোয়ারেন্টাইন মানছেন না।এই বিপদ সংকুল সময়ে কেন এমন করছেন বলুন তো? কেন বিপদ ডেকে আনছেন? দয়া করে ইঁদুর বিড়াল খেলবেন না। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর চোখ কে ফাঁকি দিলেও করোনা নামক মরনঘাতি ভাইরাস কে ফাঁকি দিতে পারবেন না। আপনার উদাসীনতা, আপনার অসচেতনতা, আপনার গোয়ার্তুমি মৃত্যুর মিছিলে শামিল করতে পারে যে কাউকে যে কোনো সময়। তাই নিজে বাঁচুন, অন্য কে বাঁচতে সহযোগিতা করুন। হোম কোয়ারেন্টাইন মেনে চলুন। রাষ্ট্রীয় কাজে সহযোগিতা করুন।

একবার ভাবুন তো তাদের কথা। যারা আপনার অবহেলার কারণের শিকার। আপনার থেকে করোনা আক্রান্ত হয়ে মৃত্যু কে আলিঙ্গন করল অথচ শেষ যাত্রায় কাউকে পেলো না। যাদের পেলো তাদের কাউকে ই হয় তো সে চিনে না। আজন্ম অপরিচিত অথচ শেষ বিদায়ে একান্ত স্বজন হিসেবে উপস্থিত।

যারা আজ নিজ জীবনের ঝুঁকি নিয়ে কাজ করছেন তাদের কথা ভাবুন। তাদের ও আছে দারা পুত্র পরিবার পরিজন। আছে রঙীন স্বপ্ন। আছে জীবন কে সাজিয়ে নেবার সুন্দর পরিকল্পনা। অথচ তারা জানেন না সুস্থভাবে ঘরে ফিরতে পারবেন কি না জানেন না স্বীয় পরিবার কে সুস্থ রাখতে পারবেন কি না। চরম অনিশ্চয়তার মাঝে নিরলস কাজ করছেন তারা।

স্থবির দেশ একদিন কর্মচঞ্চল হবে ই, ধ্বংস স্তুপের আড়াল থেকে মাথা তুলে দাঁড়াবে ই ইনশা আল্লাহ্।

সেই দিন যেন দেশ সেবায় নিয়োজিত যারা তারা যেন যোগ্য সম্মান পান।স্বীকৃতি পান নিজ নিজ কর্মের। আজ যারা নিজের জীবন তুচ্ছ করে মাঠে ময়দানে কাজ করছেন তারা ই প্রকৃত বীর। তারা যেন কালের আবর্তে হারিয়ে না যান —-এই প্রত্যাশা আমার আপনার সবার। পরিশেষে ভুপেন হাজারীর দুটি লাইন আপনাদেরকে স্মরণ করিয়ে দিতে চাই,

“মানুষ মানুষের জন্য, জীবন জীবনের জন্য

একটু সহানুভূতি কি মানুষ পেতে পারে না ও বন্ধু”

 

ভালো থাকুন তারা।
ভালো থাকুক আমার দেশ।
ভালো থাকুক পুরো বিশ্ব।।

 

 

লেখকঃ জাকির হোসেন, দক্ষিণ সুনামগঞ্জ

সহকারী শিক্ষক, পাথারিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়।

শেয়ার করুন