১৭ সেপ্টেম্বর ২০১৭


‘আমার ফুয়ার দোষ কিতা আছিল?’

শেয়ার করুন

বিশেষ প্রতিবেদক : ‘মিছিল-মিটিংয়ে বড় ভাইয়েরা ডাকতা। আমার ফুয়া (ছেলে) সবর বিপদ-আপদে যাইত। ইতার লাগি আমার ফুয়া ওগুতারে মারিলাইছে। আমার ফুয়ার দোষ কিতা আছিল?’

এ প্রশ্ন রেখে চোখ মুছছিলেন সিলেটে ছুরিকাঘাতে নিহত ছাত্রলীগের কর্মী জাকায়িরা মোহাম্মদ মাসুমের (২৪) মা আছিয়া বেগমের। কান্না সংবরণ করে আবার বলতে থাকেন, ‘আমার মাসুম ঘরের সবর বড়, পরিবারের খরচ একলাই চলাইত। ওখন আমরার কিতা ওইবো…।’

গত বুধবার বিকেলে ছোট ভাই সাইফুল্লাহ মোহাম্মদ খালেদকে জিম্মি করে তাঁর মাধ্যমে মাসুমকে ডেকে এনে ছুরিকাঘাতে হত্যা করা হয়। মাসুম যুক্তরাজ্য আওয়ামী লীগের এক নেতার সমর্থিত জেলা ছাত্রলীগের নতুন একটি পক্ষের (সুরমা গ্রুপ) কর্মী ছিলেন।

শুক্রবার মাসুমের মা বাদী হয়ে ১০ জনের নাম উল্লেখ করে ও অজ্ঞাত আরও ১২ জনকে আসামি করে মামলা করেছেন।

নগরীর কামালগড় এলাকার বাসায় গেলে আছিয়া জানালেন, ছোট ছেলের সামনে বড় ছেলেকে হত্যার ঘটনা ঘটেছে। এ রকম বর্বর ঘটনা সমাজে ঘটে না। আছিয়ার এক কথা, ‘মাসুমরে যারা মারছে সবর ফাঁসি দেখতাম চাই, তারার ফাঁসি ছাড়া আর কোনো সান্ত্বনা নাই!’

কামলগড়ে তাপু মিয়ার কলোনির একটি ঘরে বসবাস তাঁদের। বাড়ি দক্ষিণ সুনামগঞ্জের শান্তিগঞ্জের ডুংরিয়া গ্রামে। সংসারে বাবা, মা, দুই ভাই আর এক বোন। মাসুম ছিলেন সবার বড়। বাবা ফেরি করে পেঁয়াজ বিক্রি করেন। টানাপোড়েনের সংসারে পরিবারে আর্থিক সহায়তা দিতে মাসুম স্থানীয় একটি খেলাধূলাসামগ্রীর দোকানে খণ্ডকালীন চাকরি করতেন। চাকরির পুরো টাকা মায়ের হাতে তুলে দিতেন। সংসার চলত এ টাকায়। বড় ছেলেকে হারিয়ে ভরসার জায়গাও চিরতরে হারিয়ে গেছে বলে জানালেন আছিয়া।

মাসুম হত্যার প্রত্যক্ষদর্শী তাঁর ছোট ভাই সাইফুল্লাহ মোহাম্মদ খালেদ। বুধবার বেলা তিনটার দিকে খালেদকে জিম্মি করে মাসুমকে ফোন দেওয়া হয়েছিল।

খালেদ বলেন, ‘আমার ভাইরে তারা ফোন দিয়া কইছে আমি অ্যাকসিডেন্ট করছি। ইতা কইয়া তারা নেওয়াইছে। আমার ভাইর মোবাইল এখন খুঁজিয়া পাওয়া যায় না। আমার ভাইর নাম্বারে কোন নাম্বার তনে ফোন দিছিল ওউ নাম্বার খুঁজলে বোঝা যাইব কে ফোন দিছিল, কারা কারা আছলা। আমার ভাইরে আমার চউকর সামনে চাক্কু দিয়া পাড়াইছে, দা দিয়া ছেদাইছে (কোপ)।’

 

(আজকের সিলেট/১৭ এপ্রিল/ডি/প্রআ/ডিআর/ঘ.)

শেয়ার করুন