২৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৩


বিশ্বম্ভরপুরে ফসলরক্ষা বাঁধ নির্মাণে কচ্ছপ গতি, কাজ শেষ না হওয়ার শঙ্কা

শেয়ার করুন

বিশ্বম্ভরপুর (সুনামগঞ্জ) প্রতিনিধি : সুনামগঞ্জের বিশ্বম্ভরপুরে হাওরের ফসলরক্ষা বাঁধ নির্মাণে চলছে কচ্ছপ গতি। এ কারণে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে ফসলরক্ষা বাঁধ নির্মাণ কাজ শেষ না হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। তবে, সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ইতোমধ্যে বাঁধে ৮১ ভাগ মাটি ভরাটের কাজ শেষ হয়েছে। এখন চলছে কম্পেকশন ও বাঁধে ঘাস লাগানোর কাজ। নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই বাঁধ নির্মাণ সম্পন্ন হবে। এ নিয়ে দুশ্চিন্তার কোনো কারণ নেই।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, বিশ্বম্ভরপুর উপজেলার খরচার হাওর, আঙ্গারুলি হাওর শনির হাওর ও হালির হাওরে চলতি বোরো মওসুমে ১৭ হাজার হেক্টর জমির ফসল আগাম বন্যার হাত থেকে রক্ষায় পানি উন্নয়ন বোর্ড ও স্থানীয় উপজেলা প্রশাসনের মাধ্যেমে ৫৪ টি প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটি মাধ্যমে ৩১ কিলোমিটার ফসলরক্ষা বাঁধ নির্মাণ করা হয়। বাঁধ নির্মাণে ব্যয় ধরা হয় ১১ কোটি ১২ লাখ ৭০ হাজার টাকা। গেল বছর ডিসেম্বর মাসে বাঁধ নির্মাণের কাজ শুরু হয়। খরচার হাওর তীরবর্তী ফসলরক্ষা বাঁধের কাজ মাটির কাজ শেষ হলেও রবার ড্যাম তীরবর্তী এলাকায় বাঁধে মাটি ফেলা দুর্মজ ও ড্রেসিংয়ের কাজ এখনো চলমান রয়েছে। বাঁধের অধিক ঝুকিপূর্ণ অংশে বাঁশের খুটি স্থাপনের কাজও চলছে। এসব কাজ শেষ করার পরে শুরু হবে বাঁধের ঝুঁকিপূর্ণ অংশে মাটিভর্তি বস্তা ফেলার কাজ।

সরেজমিনে দেখা যায়, বিশ্বম্ভরপুর উপজেলার পুরানবাজার এলাকা থেকে কয়েক কিলোমিটার এলাকায় বাঁধের মাটির কাজ শেষ হলেও এখনো ঘাস লাগানো হয়নি। কিছু কিছু অংশে বাঁশ পোতা ও মাটির বস্তা ফেলার কাজ শুরু হয়নি।

ফতেহপুর ইউনিয়নের নয়াবারুঙ্কা গ্রামের কৃষক আব্দুল জলিল জানান, এখনো বৃষ্টি-বাদল শুরু হয়ে গেছে। বাঁধের মাটির কাজ শেষ হলেও বাঁশ, বস্তা ফেলার কাজ শেষ হয়নি। এসব কাজ দ্রুত শেষ করতে হবে।

ফুলভরি গ্রামের কৃষক ময়না মিয়া বলেন, কয়েক দিন পরে নদীতে জোয়ার আসবে, অনেক বাঁধে ঢাল ঠিক মতো করা হয়নি। মাটির কাজ শেষ হলেই বাঁধ নিরাপদ হয় না, অন্যান্য কাজগুলো যথা সময়ে শেষ করতে হয়।

এদিকে, সলুকাবাদ ইউনিয়নের চলতি নদীর বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ নির্মাণের সার্বিক অগ্রগতি খুবই কম। সেখানে বালি মাটি দিয়ে ধীর গতিতে তৈরি করা হচ্ছে ফসলরক্ষা বাঁধ।

বাঁধ নির্মাণের অগ্রগতিতে সন্তুষ্ট নন এলাকাবাসী। তাদের অভিযোগ, যেভাবে টেকসই কাজ হওয়ার কথা সেভাবে হচ্ছে না।মাটির পরিবর্তে বালি দিয়ে চলছে বাঁধ নির্মাণ। এতে আকস্মিক পাহাড়ি ঢলে বাঁধ ভেঙে যাওয়ার আশঙ্কা প্রবল। এতে শুধু ফসলহানি হবে তা নয়, ঘরবাড়িও ক্ষতিগ্রস্ত হবে।

বিশ্বম্ভরপুর উপজেলার পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপ সহাকারী প্রকৌশলী মুনছুর রহমান বলেন, ৭ মার্চের মধ্যে হাওরের ফসলরক্ষা বাঁধের শতভাগ কাজ শেষ করা হবে। বাঁধ ও বাঁধের ঝুকিপূর্ণ অংশে মাটি ফেলার কাজ প্রায় শেষের পথে। এখনো ড্রেসিং দুর্মুজ ও ঘাস লাগানো হবে। যাদের কাজের অগ্রগতি কম ও ত্রুটিপূর্ণ রয়েছে সেসব বাঁধ দেখে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেয়া হচ্ছে।

উপজেলা কাবিটা কমিটির সভাপতি ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সাদি উর রহিম জাদিদ বলেন, হাওরের ফসল রক্ষা বাঁধ নির্মাণে কোন ধরনের অনিয়মের কোন সুযোগ নেই। প্রতিদিন বাঁধ নির্মাণের কাজ প্রশাসনের পক্ষ থেকে কঠোর মনিটরিং করা হচ্ছে। কোথাও কোনো ত্রুটি পেলে তাৎক্ষণিক নির্দেশনার মাধ্যমে সংস্কার করা হচ্ছে। হাওরের ফসল কৃষকের ঘরে ওঠার আগে পর্যন্ত প্রশাসন মাঠে তদারকির কাজ করবে।

শেয়ার করুন