১৯ মার্চ ২০২০


সিলেটে হোম কোয়ারেন্টাইনে ৬২৪ জন প্রবাসী

শেয়ার করুন

ডেস্ক রিপোর্ট : করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ রোধে সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে হোম কোয়ারেন্টাইনে প্রবাসী ও তাদের স্বজনদের রাখা হচ্ছে। করোনা সন্দেহে সিলেট বিভাগে এ পর্যন্ত ৬২৪ জনকে হোম কোয়ারেন্টাইনে রাখা হয়েছে।

বুধবার সন্ধ্যায় এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন স্বাস্থ্য অধিদফতরের সিলেটের বিভাগীয় পরিচালক ডা. দেবপদ রায়।

অধিদফতরের হিসাব মতে, বুধবার বিকাল পর্যন্ত সিলেট জেলায় হোম কোয়ারেন্টাইনে রয়েছেন ৪১০ জন। মৌলভীবাজার জেলায় আছেন ১৫১ জন। সুনামগঞ্জ জেলায় ৪০ জন এবং হবিগঞ্জে ২২ জন।

স্বাস্থ্য অধিদফতর সিলেটের সহকারী পরিচালক ডা. আনিসুর রহমান বলেন, কোয়ারেন্টাইনে রাখা লোকজনের বেশিরভাগই প্রবাস ফেরত ও তাদের স্বজনরা।

কোয়ারেন্টাইনের সমীক্ষার বিষয়টি নিশ্চিত হওয়ার বিষয়ে  আনিসুর রহমানবলেন, প্রতিটি উপজেলায় ইউএনও’র তত্ত্বাবধানে একটি করে, জেলা পর্যায়ে জেলা প্রশাসকের তত্ত্বাবধানে একটি করে কমিটি আছে। আর বিভাগীয় কমিশনারের তত্ত্বাবধানে বিভাগীয় পর্যায়ে কমিটি রয়েছে সার্বিক মনিটরিংয়ের জন্য। পাশাপাশি সিটি কর্পোরেশন এলাকার জন্য আরেকটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। ওইসব কমিটির প্রতিবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে তারা কোয়ারেন্টাইনের সংখ্যাটি নিশ্চিত হতে পেরেছেন। স্থানীয় প্রশাসন রিপোর্ট দেওয়ার পাশাপাশি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা, চেয়ারম্যান-মেম্বারদের যুক্ত করে হোম কোয়ারেন্টাইনের বিষয়টি পর্যবেক্ষণে রাখছেন।

বিভাগীয় পরিচালক স্বাস্থ্য ডা. দেবপদ রায় বলেন, প্রবাসীদের যারা আক্রান্ত দেশ হয়ে দেশে আসছেন, তারাই আমাদের জন্য বিপদ। তারা যাতে বাইরে বের না হন, কারো সঙ্গে না মিশেন এজন্য সতর্ক করে দেওয়া হয়েছে।

এদিকে সিলেটে সব মিলিয়ে ৪১০ জন প্রবাসীকে হোম কোয়ারেন্টাইন করে রাখা হয়েছে। এছাড়া নগরীর শহীদ শামছুদ্দিন আহমদ হাসপাতালের কোয়ারেন্টাইনে রয়েছেন ১ জন। বিষয়টি নিশ্চিত করেন সিলেটের সিভিল সার্জন ডা. প্রেমানন্দ মণ্ডল।

তিনি বলেন, এখন পর্যন্ত হাসপাতালে মোট ১১ জন কোয়ারেন্টাইনে ছিলেন। এরমধ্যে ১০ জন ভালো হয়ে বাড়ি ফিরেছেন। বাকী যে একজন আছেন তার অবস্থাও স্থিতিশীল বলেও জানান তিনি।

অপরদিকে মৌলভীবাজারে করোনাভাইরাস প্রতিরোধে হোম কোয়ারেন্টাইনে রাখা ব্যক্তির সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৫১ জনে। প্রবাসীদের সংস্পর্শে থাকা নিকট আত্মীয়দের সংখ্যাও বাড়ছে।

সিভিল সার্জনের কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, মৌলভীবাজার সদর উপজেলায় ১০ জন, কুলাউড়ায় ২৪ জন, জুড়িতে ১৩ জন, বড়লেখায় ১৭ জন, শ্রীমঙ্গলে ৪১ জন, কমলগঞ্জ ৩৭ জন এবং রাজনগর ৯ জন মিলিয়ে সর্বমোট ১৫১ জনকে হোম কোয়ারেন্টাইনে রাখা হয়েছে। যাদের রাখা হয়েছে তারা ইতালি, আমেরিকা এবং মধ্যপ্রাচ্য ফেরত এবং তাদের নিকট আত্মীয়।

মৌলভীবাজারের সিভিল সার্জন ডা. তৌহীদ আহমদ বলেন, করোনা প্রতিরোধে সরকারি নির্দেশনা মেনে চলুন। শিশুদের, বৃদ্ধদের এবং গর্ভবতী মায়েদের বাসার বাইরে যেতে দেবেন না। সঠিক উপায়ে হাত ধোয়া এবং হাঁচি-কাশির নিয়ম মেনে চলুন। ১৪ দিন হোম কোয়ারেন্টাইন শেষ না হওয়ার আগ পর্যন্ত বিদেশ থেকে আগত লোকজন থেকে নিজেকে এবং পরিবারকে দূরে রাখুন।

এদিকে সুনামগঞ্জে যুক্তরাজ্য, যুক্তরাষ্ট্র, ইতালি, ওমান ও স্পেন ফেরত ৪০ জনকে হোম কোয়ারেন্টাইনে থাকার নির্দেশ দিয়েছে জেলার স্বাস্থ্য বিভাগ। বুধবার সন্ধ্যায় সিভিল সার্জন শামস উদ্দিন এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

জেলা স্বাস্থ্য বিভাগ সূত্রে জানা যায়, সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুর উপজেলায় ১৮ জন প্রবাসী হোম কোয়ারেন্টাইনে রয়েছেন। এছাড়া জেলার অন্য উপজেলাগুলোতে রয়েছেন ২২ জন। এদিকে আজ বিকেলে হোম কোয়ারেন্টাইনের নির্দেশনা না মানায় এক সৌদি আরব প্রবাসীকে ১০ হাজার টাকা জরিমানা করেছে মোবাইল কোর্ট।

সিভিল সার্জন কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, গত ১৪ মার্চ থেকে ১৮ মার্চ সন্ধ্যা পর্যন্ত ৪০ জন প্রবাসীকে হোম কোয়ারেন্টাইনে থাকার জন্য বলা হয়েছে। এ ছাড়াও জন সাধারণকে সচেতন করতে জেলার বিভিন্ন স্থানে মাইকিং করা হয়েছে। যদি কোন প্রবাসী নিয়ম না মানেন তাহলে প্রচলিত আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে সতর্ক করা হয়েছে।

সিভিল সার্জন ডা. শামস উদ্দিন জানান, এখন পর্যন্ত জেলায় ৪০ জনকে হোম কোয়ারেন্টাইনে থাকার নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। স্বাস্থ্য বিভাগের সবাই সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। উপজেলা থেকে প্রবাসীদের তথ্য সংগ্রহ ও গতিবিধি খেয়াল রাখা হচ্ছে।

এদিকে হবিগঞ্জের সিভিল সার্জন কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, এখন পর্যন্ত জেলায় ২২ জন প্রবাসীকে হোম কোয়ারেন্টাইনে রাখা হয়েছে। করোনা প্রতিরোধে সরকারি নির্দেশনা মেনে চলার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। এবং ১৪ দিন হোম কোয়ারেন্টাইন শেষ না হওয়ার আগ পর্যন্ত বিদেশ থেকে আগত লোকজন থেকে নিজেকে এবং পরিবারকে দূরে রাখার পরামর্শ দিয়েছেন হবিগঞ্জের সিভিল সার্জন।

শেয়ার করুন