১৫ মার্চ ২০২০


কমলগঞ্জ-শ্রীমঙ্গল সড়ক : ৩১টি পাহাড়ি বাঁকে দুর্ঘটনার ঝুঁকি

শেয়ার করুন

মৌলভীবাজার প্রতিনিধি : মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জ-শ্রীমঙ্গল সড়কের লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যানের ভিতরের ১৩ কিলোমিটার রাস্তার ছোট-বড় ৩১টি পাহাড়ী বাঁকে দুর্ঘটনার ঝুঁকি বাড়ছে। সড়কের আঁকা বাঁকা মোড়ের ইউ ড্রেনের উপর পিলার বসানো এবং ঝোপ ঝাড়ের কারণে সড়ক সংকুচিত হয়ে পড়েছে। ফলে গাড়ি গুলো একটি অপরটিকে অতিক্রম করার সময় দুর্ঘটনার আশংকা দেখা দিয়েছে। সড়কের বাঁকগুলো অতিক্রমের সময় একপাশ থেকে অন্য পাশের যানবাহন দেখা যায় না বলে যে কোন সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে বলে জানান স্থানীয়রা।

সরেজমিনে দেখা যায়, লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যানের প্রায় ১৩ কিলোমিটার জুড়ে সড়কের উভয় পার্শ্বে বিভিন্ন গাছগাছালি বড় হয়ে ঘন ঝোপ-ঝাড় ও জঙ্গল সৃষ্টি হয়েছে। জঙ্গলের কারণে ১৮ ফুট সড়ক ১৩ ফুটে নেমে এসেছে। সড়ক সংকুচিত হয়ে যাওয়ায় সড়কের ৩১টি ছোট-বড় বাঁক ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে। গত কয়েক মাসে ছোট-ছোট প্রায় ১২/১৫টি দুর্ঘটনা ঘটেছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা।

এদিকে, সম্প্রতি শমশেরনগর এয়ারপোর্ট এলাকা থেকে শ্রীমঙ্গল পর্যন্ত ২০ কিলোমিটার সড়ক প্রায় ৪৭ কোটি ৬৪ লাখ টাকা ব্যয়ে পুনঃসংস্কার ও উন্নয়নমূলক কাজ করা হয়েছে। লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যানের ভেতর দিয়ে যাওয়া সড়কের বিভিন্ন জায়গায় আঁকাবাঁকা মোড়গুলো সম্প্রসারণ না করে অপরিকল্পিত ভাবে বিভিন্ন মোড়ে পিলার বসানো হয়েছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা। সড়কটি সংকীর্ণ হওয়ায় একটি গাড়ি অপর গাড়িটিকে ঠিকভাবে পাস দিতে না পারায় দুর্ঘটনায় পতিত হতে হচ্ছে বলে জানান। অপরদিকে, লাউয়াছড়া বনের ভেতরের সড়ক দিয়ে ব্রাহ্মণবাজার ভায়া শ্রীমঙ্গলের দূরত্ব কম হওয়ার কারণে, কমলগঞ্জসহ কুলাউড়া ও এর আশপাশের কর্মজীবী, ব্যবসায়ী এবং সাধারণ যাত্রীরা এই সড়ক দিয়েই যাতায়াত করেন।

এছাড়াও কমলগঞ্জ উপজেলায় লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যান, মাধবপুর লেক, বীরশ্রেষ্ঠ হামিদুর রহমানের স্মৃতি সৌধ, হামহাম জলপ্রপাতসহ নান্দনিক আরো কয়েকটি দর্শনীয় স্থান থাকায় দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে পর্যটকরা বড় বড় গাড়ী নিয়ে এই সড়ক দিয়ে ঘুরতে আসেন। সেই সাথে চাতলাপুর স্থল বন্দর দিয়ে পণ্য পরিবহনের জন্য প্রতিদিন সড়কটিতে শত শত বড় বড় ট্রাক সিমেন্ট, ফলসহ প্রয়োজনীয় সামগ্রী নিয়ে চলাচল করছে।

সড়কের মোড়গুলো প্রশস্তকরণ ও অপরিকল্পিতভাবে পিলার বসানো এবং বিপদজনক স্থানে গার্ড ওয়াল না দেয়ার বিষয়ে জানতে চাইলে, সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তরের সহকারী প্রকৌশলী নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, লাউয়াছড়ার মোড়গুলো প্রশস্তকরণ ও বিপদজনক স্থানে গার্ডওয়াল তুলতে গ্যাসলাইন ও বনবিভাগ বাঁধা দেয়ায় তা বড় করা সম্ভব হয়নি। তিনি আরো জানান, বিভিন্ন মোড়ে আপ ডাউন থাকায় পানি নিষ্কাশনের জন্য ড্রেন গভীর করায় পিলার দেয়া হয়েছে-যাতে কোন গাড়ির চাকা ড্রেনে পড়ে কোন দুর্ঘটনা না ঘটে।

লাউয়াছড়া বন্যপ্রাণী ব্যবস্থাপনা ও প্রকৃতি সংরক্ষণ বিভাগের সহকারী বন সংরক্ষক আনিছুর রহমান জানান, লাউয়াছড়ার ভেতরের আঁকাবাঁকা মোড় বড় করার কাজে বাঁধা দেইনি। তাদেরকে লাউয়াছড়া মেইন গেটের সামনে পাহাড় কাটতে নিষেধ করা হয়েছিলো।

তিনি আরো জানান, বাঘমারা ক্যাম্প, লাউয়াছড়া মেইন গেইট ও জানকিছড়া এলাকায় আমাদের বন্যপ্রাণী অবাধ বিচরণে বাঁধাগ্রস্ত সহ তাদের জীবন বিপন্ন হতে পারে। তাদেরকে ৩ টি স্থানে স্পীডব্রেকার বসানোর অনুরোধ করলেও তারা তা রক্ষা করেনি।

শেয়ার করুন