১৪ মার্চ ২০২০
কোম্পানীগঞ্জ প্রতিনিধি : সীমান্তবর্তী কোম্পানীগঞ্জে এবার প্রথমবারের মতো সূর্যমুখী ফুলের চাষ করা হয়েছে। সূর্যমুখী চাষ করে আর্থিকভাবে লাভবান ও সফল হওয়ার স্বপ্ন দেখছেন উপজেলার বেশ কয়েকজন কৃষক।
উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, এবছর উপজেলার পূর্ব ইসলামপুর ইউনিয়নের ভাটরাই-শান্তিরবাজার, ইসলামপুর পশ্চিম ইউনিয়নের তৈমুরনগর ও দক্ষিণ রনিখাই ইউনিয়নের বিভিন্ন গ্রামে ১৫ বিঘা জমিতে পরীক্ষামূলকভাবে হাইসান-৩৩ জাতের সূর্যমুখী ফুলের চাষ করা হয়েছে। ইতোমধ্যে গাছে ফুল ধরেছে। ফুল ধরার পর থেকে প্রতিদিনই বিভিন্ন এলাকার লোকজন ফুল দেখতে ভিড় করছেন।
সরজমিনে ভাটরাই, তৈমুরনগর ও বিভিন্ন গ্রামে সূর্যমুখীর বাগান দেখা গেছে।
পূর্ব ইসলামপুর ইউনিয়নের পুরান বালুচর গ্রামের চাঁন মিয়া জানান, আগে তিনি বিভিন্ন ধরনের সবজি চাষ করতেন। এবছর উপজেলা কৃষি অফিসারের পরামর্শে প্রথমবারের মতো হাইসান-৩৩ জাতের সূর্যমুখী ফুলের চাষ করেছেন। ইতোমধ্যেই প্রতিটি গাছে ফুল ধরেছে। সূর্যমুখী চাষে এবার সফলতা ও লাভের আশা করছেন তিনি।
একই গ্রামের দানু মিয়া জানান, আগে ভুট্টা, আলু, ধনিয়া, টমেটো ইত্যাদি চাষ করতেন। কৃষি কর্মকর্তার পরামর্শে এ বছরই সূর্যমুখী ফুলের চাষ করেছেন। কৃষি বিভাগের পক্ষ থেকে বিনামূল্যে বীজ ও সার দিয়েছে। বাগানে ফুল আসার পর প্রতিদিনই লোকজন আসছে বাগান দেখতে। তিনিও আশা করছেন সূর্যমুখী চাষ করে বাণিজ্যিকভাবে লাভবান হওয়ার।
উপজেলা কৃষি অফিসার মোঃ আব্দুর রাজ্জাক জানান, আগে উপজেলার কোনও কৃষক সূর্যমুখী ফুলের চাষ করতেন না। এবারই প্রথম সরকারের রাজস্ব খাতের অর্থায়নে ১০ বিঘা এবং প্রণোদনা কর্মসূচির আওতায় ৫ বিঘা জমিতে সূর্যমুখী চাষ করা হয়েছে। সূর্যমুখী বীজ রোপণের ৯০-১০৫ দিনের মধ্যেই কৃষকরা ফুল থেকে বীজ ঘরে তুলতে পারবেন।
তিনি আরও জানান, প্রতি বিঘা জমিতে ছয় থেকে সাড়ে ছয় মণ বীজ পাওয়া যাবে। প্রতি বিঘা থেকে কৃষক ১০-১১ হাজার টাকার বীজ বিক্রি করতে পারবেন।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সুমন আচার্য জানান, এই প্রথমবারের মতো কোম্পানীগঞ্জের চাষীরা সূর্যমুখী ফুলের চাষ শুরু করেছেন। এ ক্ষেত্রে নতুন একটি সম্ভাবনা জেগেছে কোম্পানীগঞ্জে।