১৫ মার্চ ২০২০


সেতুর অভাবে দুর্ভোগে ৩০ গ্রামের মানুষ

শেয়ার করুন

গোলাপগঞ্জ প্রতিনিধি : গোলাপগঞ্জের উপজেলার প্রাচীন একটি জনপদ হল বাঘা ইউনিয়ন। ১৯৬০ সালের প্রতিষ্ঠিত প্রাচীন এই ইউনিয়নের জনসংখ্যা প্রায় এক লাখ। ত্রিশের অধিক গ্রামের এই গ্রামীণ জনপদ থেকে গোলাপগঞ্জ বাজারে আসতে পারি দিতে নয় সুরমা নদী। কিন্তু এই অঞ্চলে সুরমা নদীর উপর কোন ব্রিজ না থাকায় নৌকাই একমাত্র ভরসা।

এজন্য গোলাপগঞ্জ থানার পিছনের একটি জায়গায় বসানো হয়েছে খেয়া ঘাট। আর এই ঘাট দিয়েই বাঘা ইউনিয়নের প্রায় ত্রিশ গ্রামের মানুষ বাজারে প্রবেশ করেন। একটি মাত্র নৌকায় এতো মানুষ পারাপারে ঝুঁকি থাকলেও বিকল্প উপায় না থাকায় মানুষ বাধ্য হয়েই নৌকায় উঠছেন।

তবে শুল্ক মৌসুমে দখল দূষণের শিকার সুরমা ছোট হয়ে আসলেও বর্ষায় পানিতে টইটুম্বুর থাকে। এসময় ছোট ছোট নৌকায় অতিরিক্ত মানুষ নিয়ে ছুটে চলা নৌকায় থাকে নানান শঙ্কা। আর এই শঙ্কা মাথায় নিয়েই বছরের বছর পর ধরে চলতে হচ্ছে প্রায় এক লাখ মানুষকে।

এলাকার মানুষ জীবনের ঝুঁকি কমাতে সুরমার বুকে একটি ব্রিজ নির্মাণের দাবিতে মানববন্দন, স্মারকলিপি, বিক্ষোভ করলেও কোন কাজ হয়নি। মিলেছে শুধুই আশ্বাস। আর সেই আশ্বাসের বৃত্তে বন্দি হয়ে ভোগান্তি সহ্য করে চলছেন স্কুল শিক্ষার্থী, শিশু, কিশোর, যুবক, থেকে প্রসূতি মায়েরাও। তবে এখনও আশ্বাস ছাড়া আর কোন খবর দিতে পারেনি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার অফিস।

এই যেমন বাঘা ইউনিয়নের লালনগর এলাকার বাসিন্দা নুরুল ইসলাম জানেনই না মৃত্যুর আগে সেতু দেখে যেতে পারবেন কি না। আক্ষেপ আর হতাশার সুরে তিনি বলেন, আমরা জানি না সুরমা নদীর উপর কবে একটা সেতু নির্মাণ হবে। তিনি বাঘা বাসির এই স্বপ্ন পূরণ করতে জনপ্রতিনিধিসহ সংশ্লিষ্ট সকলের প্রতি আহবান জানান।

অন্যদিকে কালাকোনা গ্রামের শিক্ষার্থী হাছান আহমদ জানান, নৌকা ছোট হওয়ায় অনেক সময় একসাথে সবাই পাড়ি দেওয়া সম্ভব হয় না। এতে অনেক সময় কলেজে যেতে দেরি হয়ে যায়।

রুস্তমপুরে ষাটোর্ধ সুনাবা বেগম জানান, সকাল ৯টার সময় নৌকার জন্য এসে দাঁড়িয়েছি। কিন্তু নৌকার সংকটের জন্য নদী পাড় হতে ১ঘন্টা সময় লেগেছে। যদি একটি সেতু থাকত তাহলে এত সময় লাগত না। অনেকটা ভয় নিয়ে নদী পার হতে হয়।

আর বাঘা ইউনিয়নের চেয়ারম্যান ছানা মিয়া জানান, অনেক সময় বাঘাবাসি সুরমা নদীতে সেতু স্থাপনে আশ্বাস পেলেও তাদের এই আশ্বাস বাস্তবে রূপ নেয় না। সুরমা নদীতে সেতু স্থাপন করা হলে কয়েক হাজার মানুষের কষ্ট লাগব হবে।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মামুনুর রহমান জানান, আমাদের উপজেলার যে বাজেট সেটা দিয়ে এতো বড় কাজ করানো সম্ভব নয়। সুরমা নদী ও কুশিয়ারা নদীর উপর সেতুর জন্য ইঞ্জিনিয়ারের সাথে কথা হয়েছে। মন্ত্রণালয়ে আবেদন করার জন্য। আশাকরি শীঘ্রই তারা আবেদন করবে।

শেয়ার করুন