৮ মার্চ ২০২০
নিজস্ব প্রতিবেদক : নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে সিলেট নগরীর বিভিন্ন সড়কে অবাধে চলছে ব্যাটারিচালিত অবৈধ ‘টমটম’। এসব টমটম নগরীতে চলাচল নিষিদ্ধ থাকলেও প্রকাশ্যে চলছে নগরী বিভিন্ন এলাকায় ছুটে বেড়াচ্ছে এসব টমটম। দিনের বেলা নগরীর প্রধান সড়কগুলো কিছুটা এড়িয়ে চললেও সন্ধ্যার পর পুরো নগরীজুড়ে চলে এসব অবৈধ টমটম। এতে করে বাড়ছে দুর্ঘটনা, বাড়ছে যানজটও।
এছাড়া এসব যানবাহন ব্যাটারি চালিত হওয়ায় চার্জের কারণে বিদ্যুতের অপচয় হচ্ছে। আর এই টমটম স্ট্যান্ড নিয়ন্ত্রণে রয়েছে জনি নামের এক ব্যক্তি ও তার সহযোগীরা। এই স্ট্যান্ড থেকে প্রতি মাসে ৩ লাখ টাকা আদায় করছেন তারা।
নগরীর বিভিন্ন পাড়া-মহল্লার কলোনিগুলোতে অবৈধভাবে সংযোগ নিয়ে রাতভর এসব যানবাহনে চার্জ দেয়া হয়। এটে করে একদিকে যেমন বিদ্যুতের ঘাটতি দেখা দিচ্ছে অন্যদিকে বাড়ছে লোডশেডিংও।
তবে বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড সিলেটের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী প্রবির কুমার দে বলছেন, ‘অবৈধ বিদ্যুৎ সংযোগের কারণে লোডশেডিং বাড়ছে না। আর অবৈধ সংযোগের সন্ধান পেলে আমরা অভিযান পরিচালনা করে থাকি।’
জানাযায়, ২০১২ সালের শুরুর দিকে সিলেট নগরীতে টমটম অটোরিকশা নিষিদ্ধ করা হলে সিলেট ব্যাটারি চালিত রিকশা মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক মো. ওলিউর রহমান এই নিষেধাজ্ঞার বিরুদ্ধে উচ্চ আদালতে রিট করেন। রিটের প্রেক্ষিতে আদালত স্থানীয় সরকার সচিব, সিলেট সিটি করপোরেশনের মেয়র, সিলেটের জেলা প্রশাসক ও সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনারের প্রতি রুল জারি করেন।
সিলেট নগরীতে অবৈধ হয়ে পড়ে ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা-টমটমের চলাচল। কারণ টমটম অটোরিকশা মোটরযান আইন কিংবা সিটি করপোরেশনের আইন অনুযায়ী রুট পারমিট পাওয়ার যোগ্য নয়। কারণ, যান্ত্রিক যানবাহনের পারমিট বিআরটিএ দিতে পারে। সিটি করপোরেশন কিংবা পৌরসভা এ ধরণের যান্ত্রিক রিকশার পারমিট দিতে পারে না।
এদিকে, হাইকোর্টে রিট খারিজ হওয়ার চার বছর হয়ে গেলেও এখনও পুরোপুরি কার্যকর হয়নি মেট্রো আইনের ২৭(গ) অনুযায়ী দেয়া পুলিশ কমিশনারের সেই আদেশ। এখন নগরীর বিভিন্ন সড়কে প্রতিনিয়ত চলছে এসব যানবাহন।
নগরীর বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা যায়, ১০নং ওয়ার্ডের বেতের বাজার থেকে ক্বীনব্রীজ এলাকা, মেডিকেল টু মদিনা মার্কেট, মেডিকেল টু কানিশাইল নদীর পাড়, কানিশাইল নদীর পাড় টু কাজীরবাজার ব্রিজ, কাজীরবাজার ব্রিজ টু কোতোয়ালী থানার সামন, দর্শন দেউড়ি টু কলাপাড়া, মদিনা মার্কেট টু আখালিয়া নয়া বাজার, শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের গেইটসহ নগরীর বিভিন্ন এলাকায় রীতিমতো স্ট্যান্ড করে এসব যানবাহন চলছে।
এ ব্যাপারে সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশের উপ কমিশনার (ট্রাফিক) ফয়ছল মাহমুদ বলেন, ‘আমরা নিয়মিত এসব যানবাহনের বিরুদ্ধে অভিযান পরিচালনা করে থাকি। তবুও আমাদের অগোচরে হয়তো অনেকেই চালায়। আসলে যেখান থেকে এসব যানবাহন বিক্রি হচ্ছে সেই জায়গাগুলো বন্ধ করে দিলেই এই সমস্যার বেশির ভাগ সমাধান হয়ে যাবে। তাই আমাদের পাশাপাশি যাতে এর আমদানী বন্ধ করা যায় সেই বিষয়টি নিশ্চিত করতে হবে।’