২৬ জুন ২০১৭


মৌলভীবাজারে যত্রতত্র গাড়ি পার্কিং, অতিষ্ট জনজীবন

শেয়ার করুন

মৌলভীবাজার প্রতিনিধি : মৌলভীবাজার শহরের জনসাধারণের দুর্ভোগ ও কষ্টের কথা কে শুনবে, কে দেখবে জনসাধারণের এই অসহনীয় দুর্ভোগ। পৌর কর্তৃপক্ষকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে একের পর এক নিজস্ব পার্কিং ব্যবস্থা না করেই তৈরি হচ্ছে বড় বড় শপিং সেন্টারসহ বাসাবাড়ির বহুতল ভবন।

এটা শহরের দীর্ঘদিনের সমস্যা হলেও নতুন পৌর পিতার ভূমিকা নিয়ে চলছে পৌরবাসীর জল্পনা-কল্পনা। অনেকেই এই প্রতিনিধির সাথে আলাপকালে বলেন- অতীতের সকল মেয়রের ব্যর্থতা মিটিয়ে পৌরবাসীর জন্য কাজ করবেন। পৌরবাসীর দাবি নতুন মেয়র ফজলুর রহমান একজন রাজনৈতিক, ক্রীড়াবিদ ও প্রথম শ্রেণির ঠিকাদার। জীবনের প্রতিটি কাজে সফল হয়েছেন। সর্বশেষে যেনো পৌর পিতার সম্মান ধরে রেখে, যানজট দূরীকরণ ও নিরাপদে চলাচলে কাজ করে যান সেই প্রত্যায় পৌরবাসীর।

মৌলভীবাজার শহরের ব্যস্ততম সেন্ট্রাল রোডে শতাধিক শপিং মল, ব্যাংক-বীমা, বস্ত্র বিতান, রেস্টুরেন্ট, বিভিন্ন কোম্পানির শো-রুমসহ বড় বড় শপিং মল এবং বহুতল ভবনগুলোতে নেই কোনো নিজস্ব পার্কিং ব্যবস্থা। বিদেশি ও দূরদুরান্ত থেকে আগত ক্রেতারা রাস্থায় গাড়ি রেখে কেনাকাটা করছেন। যার ফলে আসন্ন ঈদুল ফিতর উপলক্ষ্যে অন্যান্য বছরের মতো এই বছর ও তীব্র যানজট দেখা দিয়েছে। কিন্তু দীর্ঘ দিনের এই যানজট নিরসনে কর্তৃপক্ষের নেই কোন কার্যকরী পদক্ষেপ।

প্রশাসনের দীর্ঘদিনের সভা-সমাবেশ ও বৈঠকের কোনো ফলাফল পায়নি জনগণ। বরং প্রশাসনকে ম্যানেজ করে রাস্তায় চলছে ব্যবসায়ীদের এই পার্কিং ব্যবস্থা। আর যদি পৌরসভা ও প্রশাসন প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতো, তাহলে জনগণের এই দীর্ঘদিনের যানজট নিরসন হতো। জনগণের চরম দুর্ভোগ প্রশাসন অনেকেই দেখেও না দেখার ভান করছেন। এ পরিস্থিতিতে কেনাকাটা করতে আসা সাধারণ ক্রেতাদের মধ্যে চরম ক্ষোভ বিরাজ করছে।

প্রবাসী অধ্যুষিত এ জেলার বাসিন্দাদের কাছে এমবি ক্লথ স্টোর নামে পরিচিত। টেইলারিং ও জুতা থেকে শুরু করে এখানে পাওয়া যায় সব ধরনের পণ্যসামগ্রী। যার কারণে এখানে প্রবাসী ক্রেতাদের ভিড় থাকে সব সময়। ওই শপিং মহলটি সেন্ট্রাল রোডের পশ্চিমবাজার এলাকায় রাস্থার পাশে। নেই কোন নিজস্ব পার্কিং ব্যবস্থা। যার কারণে বিভিন্ন স্থান থেকে আসা ক্রেতারা বাধ্য হয়ে রাস্থার পাশে ঘন্টার পর ঘন্টা প্রাইভেট গাড়ি রেখে কেনাকাটা করতে দেখা যায়।

যত্রতত্র গাড়ি পার্কিংয়ের কারণে এসব শপিং মলগুলোর সামনের রাস্থার প্রায় অর্ধেক দখল হয়ে যায়। ফলে পাঁচ মিনিটের ওই রাস্তা অতিক্রম করতে হয় ৩০ মিনিটে। চরম দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন ঈদের কেনাকাটা করতে আসা সাধারণ ক্রেতারা। মৌলভীবাজারের পুরাতন হাসপাতার রোড ও সেন্ট্রাল রোডে বিভিন্ন ধরণের দোকান এবং অন্যান্য প্রতিষ্ঠান রয়েছে। যাত্রীরাও এই রোড দিয়ে বেশি চলাচল করেন। যার ফলে তীব্র যানজট লেগে থাকে সবসময়। দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন ওই রাস্থা দিয়ে চলাচল করতে আসা হাজার হাজার যাত্রী।

 

সরেজমিনে শহরের চৌমুহনী পয়েন্ট থেকে সেন্ট্রাল রোড প্রদিক্ষণ করলে দেখা যায়, ত্রমবি ক্লথ স্টোরসহ শহরের চৌমুহনী এলাকায় পাঁচতলা বিশিষ্ট আঁখি প্লাজা, তিনতলা বিশিষ্ট ওয়াছির প্লাজা, চারতলা বিশিষ্ট আহমদ ম্যানশন, বিশিষ্ট জুলিয়া শপিং সিটি, বউরাণী বিউটি পার্লার, হোসেইন মার্কেট, হাজি মন্তাজ মিয়া ম্যানশন, শরিফ ভিলা হাজেরা ভবন, হোসেন ম্যানশন, পশ্চিমবাজার এলাকায় তিন তলা বিশিষ্ট রহমান প্লাজা, সাত তলা বিশিষ্ট ওয়েষ্ট পয়েন্ট, দুই তলা বিশিষ্ট সেলিনা স্টাইল, ছয় তলা বিশিষ্ট কবির টাওয়ার, সেন্ট্রাল রোডের লট্ট শো-রুম, এপেক্স জুতার শো-রুম, সেরা টাউন প্লাজা, শাপলা ম্যানশন, দশ তলা আরণ টাওয়ার ও জেক্স টেক্সটাইলসহ রয়েছে আরও একাধিক ভবন ও দোকান। সেসব ভবনের নেই কোনো নিজস্ব পার্কিং ব্যবস্থা।

এ সকল বহুতল ভবনে শতাধিক শপিং মল, ব্যাংক এবং অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানের রয়েছে। ক্রেতারা বাধ্য হয়ে যাত্রী চলাচলের রাস্তার পাশে গাড়ি পার্কিং করে কেনাকাটা এবং ব্যাংক লেনদেন করছেন। ফলে ওই রাস্তায় চরম যানজটের সৃষ্টি হয়। চৌমুহনী হতে কুসুমবাগ যেতে পাঁচ মিনিটের রাস্তা যেতে সময় লাগে ৩০ মিনিট।

ঈদের কেনাকাটা করতে আসা কয়েকজন ক্রেতাদের সাথে কথা হলে তারা বিবার্তাকে জানান, শপিং মলগুলোতে পার্কিং ব্যবস্থা না থাকায় আমরা স্বাচ্ছন্দে কেনাকাটা করতে পারছি না। একস্থান থেকে অন্যস্থানে সহজে যাতায়াত করাও সম্ভব হচ্ছে না। যার কারণে আমাদেরকে অবর্নীয় দূর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।

এ বিষয়ে মৌলভীবাজার পৌরসভার নির্বাহী প্রকৌশলী ইঞ্জিনিয়ার আবুল হোসেন বিবার্তাকে জানান, যে সময় এই শপিং মলগুলো নির্মাণ করা হয় তখন আইনিভাবে পার্কিং রাখার এতটা বাধ্যবাধকতা ছিল না। কিন্তু ২০০৯ সালের পরে যে সকল বিল্ডিং নির্মাণ করা হয়েছে, সে গুলোতে পার্কিং এর ব্যবস্থা রাখা হচ্ছে।

 

(আজকের সিলেট/২৬ জুন/ডি/এমকে/ঘ.)

শেয়ার করুন