২৪ ফেব্রুয়ারি ২০২০


ওসমানী বিমানবন্দরের উন্নয়ন কাজের অগ্রগতি ‘নেই’

শেয়ার করুন

ডেস্ক রিপোর্ট : সিলেট সিলেট ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের উন্নয়ন প্রকল্পের কাজের অগ্রগতি শূন্য। জানুয়ারি মাস শেষে এখানে আর্থিক বরাদ্দ শূন্য, বাস্তবায়নও শূন্য, এমনকি করা হয়নি পরিদর্শনও। অথচ সিলেট ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে বিদ্যমান রানওয়ে, ট্যাক্সওয়ে শক্তি বৃদ্ধিকরণ প্রকল্পের মেয়াদ জুলাই ২০১৭ থেকে জুন ২০২১ পর্যন্ত।

এ প্রকল্পের ধীরগতির কারণে ক্ষোভ প্রকাশ করেছে সংসদীয় কমিটি। প্রকল্প তৈরির কিছু দিন পরপর প্রকল্পের মেয়াদ আর শত শত কোটি টাকা বাড়ানোর প্রবণতা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে কমিটি। সম্প্রতি সংসদ ভবনে অনুষ্ঠিত পরিকল্পনা মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির বৈঠকে এ নিয়ে আলোচনা হয়।

এর আগে ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর সম্প্রসারণ কাজের জন্য ২০১৮ সালে দরপত্র আহ্বান করে বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ (বেবিচক)। এর ধারাবাহিকতায় চলতি বছরের ৬ ফেব্রুয়ারি অংশগ্রহণকারীদের কারিগরি মূল্যায়ন করা হয়। তবে এই মূল্যায়নের বৈধতা নিয়ে ন্যাশনাল ডেভেলপমেন্ট ইঞ্জিনিয়ার্স লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক হাইকোর্টে রিট করেন।

এরপর ১৩ ফেব্রুয়ারি রুল জারি করে আহবান করা দরপত্র প্রক্রিয়ার পরবর্তী সব কার্যক্রম স্থগিত করেন হাইকোর্ট। এই আদেশ স্থগিত চেয়ে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন সচিব এবং বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের (বেবিচক) চেয়ারম্যান আবেদন করেন। পরে ১৯ ফেব্রুয়ারি দরপত্রের কার্যক্রম স্থগিত করে হাইকোর্টের দেয়া আদেশ স্থগিত করেন আপিল বিভাগের চেম্বারজজ আদালত।

এদিকে হাইকোর্টের আদেশ স্থগিত হওয়ায় ওসমানী বিমানবন্দর সম্প্রসারণ প্রকল্পে দরপত্র প্রক্রিয়ার পরবর্তী কার্যক্রম চালাতে আইনগত বাধা নেই। একই সাথে আগামী ২৬ ফেব্রুয়ারি শুনানির জন্য আবেদনটি আপিল বিভাগের নিয়মিত বেঞ্চে পাঠানো হয়েছে।

এ বিষয়ে পরিকল্পনা মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি আবুল কালাম আজাদ বলেন, প্রকল্প তৈরি করে কিছু দিন পরপরই প্রকল্পের সময় বাড়ানো হয়। দেড়-দুই বছর পর প্রকল্পগুলো আবার রিভাইজড করতে হয় অর্থাৎ প্রজেক্ট যখন তৈরি করা হয়েছে তখন সঠিকভাবে করা হয়নি। আবার তখন যে অর্থ বরাদ্দ দেয়া হয় এক বছর যেতে না যেতেই দুই-তিন গুণ বাড়িয়ে দিতে বলা হয়। এটা অত্যন্ত দুঃখজনক। এজন্য কমিটি ক্ষোভ প্রকাশ করেছে।

পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নান বলেন, এগুলো মাঠ পর্যায়ের পরিদর্শনের পরে স্থায়ী কমিটিকে জানানো হয়েছে। আইএমইডি সচিব এর ব্যাখ্যা দেবেন। কর্তৃপক্ষ প্রকল্পটি তৈরি করে পাঠালেও সেই কর্তৃপক্ষই ডিউ ওয়েতে দ্বৈত কারণেই এক বছর বা ছয় মাস বা ৯ মাস পরে রিভিশন করে। নতুন আইটেম যোগ হয়, আপগ্রেডিং হয়। সুতরাং খরচ বাড়ে। এটিকে ব্যয় বৃদ্ধি বলা যাবে না, এটি রিভাইজড ব্যয়। ব্যয় বৃদ্ধি শব্দটা এখানে ব্যবহার করা যাবে না।

পরিকল্পনা কমিশনের সিনিয়র সচিব ড. শামসুল আলম বলেন, প্রজেক্টগুলো তড়িঘড়ি করে আসায় বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচিতে (এডিপি) অন্তর্ভুক্ত করে কোনোভাবে অনুমোদন নিতেই সাত-আট মাস চলে যায়। বাস্তবায়নের আগেই রিভিশনের প্রস্তাব চলে আসে। প্রকল্প ব্যবস্থাপনায় এটি কিছুটা হলেও বিশৃঙ্খলার ইঙ্গিত দেয়। এই ডিপিপিগুলো জনগণের ট্যাক্সের টাকায় হওয়া দেশের উন্নয়নের প্রধান মাধ্যম। এ বিষয়ে মন্ত্রীর নির্দেশনা প্রয়োজন। এ অবস্থা থেকে বেরিয়ে আসা দরকার।

শেয়ার করুন