২৬ জুন ২০১৭
বিশেষ প্রতিবেদক : ঈদ এলে পর্যটকদের পদচারণায় মুখর থাকে সিলেটের পর্যটন কেন্দ্রগুলো। কিন্তু এবার ঈদে সিলেট পর্যটনশিল্পে ধসের আশঙ্কা রয়েছে। হাওরে ফসলহানি এবং টিলা ধসের আশঙ্কায় সিলেটে এবার পর্যটকদের সংখ্যা কম হতে পারে। আর এজন্য হোটেল-মোটেল ও বিভিন্ন আকর্ষণীয় স্থানে বাইরের পর্যটকদের আগমন হ্রাস পাওয়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে। পর্যটক আগমন কম হলে এ খাতে আয় কমার সম্ভাবনা রয়েছে।
অবশ্য সিলেটের জেলা প্রশাসক মো. রাহাত আনোয়ার সবুজ সিলেটকে জানিয়েছেন, হাওরে ফসলহানি এবং টিলা ধস আতঙ্ক সিলেটে পর্যটনকেন্দ্রগুলোতে পর্যটক আগমনে প্রভাব ফেলবে না। আবহাওয়া ভালো থাকলে প্রতি বছরের ন্যায় এবারো পর্যাপ্তসংখ্যক পর্যটক সিলেটে আসবেন।
তিনি বলেন, পর্যটকদের নিরাপত্তায় আমরাও ব্যাপক প্রস্তুতি নিয়েছি। যাতে পানিতে কোনো পর্যটন ডুবে না যান এজন্য স্পিডবোটসহ অন্যান্য সরঞ্জাম রয়েছে। যেগুলো উদ্ধার কাজে ব্যবহার হবে। প্রতিটি পর্যটনকেন্দ্রে নিরাপত্তায় থাকবে বিপুল সংখ্যক আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। সুতরাং অন্য বছরের চেয়ে এবার পর্যটন শিল্পে আরো বেশি ব্যবসা হবে বলে আমরা বিশ্বাস।’
মৌলভীবাজার জেলার বড়লেখা উপজেলার মাধবকুন্ড জলপ্রপাত পর্যটকদের কাছে অন্যতম আকর্ষণীয় স্থান। ঈদসহ বিভিন্ন ছুটিতে বিপুলসংখ্যক ভ্রমণপিপাসুর পদচারণে মুখর হয়ে এ ওঠে জলপ্রপাত এলাকা। আকস্মিক দুর্যোগে মাধবকুন্ডে পর্যটন ব্যবসায় ধস নামার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। প্রতি ঈদকে উপলক্ষ্য করে ১০-১৫ দিন আনন্দ উপভোগ করতে জলপ্রপাত ও ইকোপার্ক এলাকায় হাজার হাজার পর্যটকের ভিড় জমে। গত বৃহস্পতিবার পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত দর্শনার্থীদের সেখানে প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে কর্তৃপক্ষ। পর্যটন কেন্দ্রে প্রবেশের প্রধান ফটক ও স্থানীয় কাঁঠালতলী বাজারের সামনে সতর্ক করে ব্যানার টাঙিয়ে দেওয়া হয়েছে।
এদিকে, সময়ের সাথে পাল্লা দিয়ে সিলেটে পর্যটনকেন্দ্রের সংখ্যা বাড়লেও যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়ন হয়নি। এর ফলে সিলেটে সম্ভবনাময় এই খাত এবার হুমকির মুখে রয়েছে। সিলেটের সাথে পর্যটন স্পটের যোগাযোগ ব্যবস্থা অত্যন্ত নাজুক। বিশেষ করে সিলেট থেকে জাফলং ও বিছনাকান্দি যাওয়ার রাস্তা চলাচলের অনুপযোগী। এছাড়া পর্যটন স্পটের সাথে নেই সরাসরি বাস যোগাযোগ ব্যবস্থা।
আর পাথররাজ্য গোয়াইনঘাট উপজেলার প্রকৃতির অপরূপ লীলাভূমি জাফলংকে ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে নিয়ে গিয়েছেন পাথরখোকোরা। গত কয়েক বছর বিভিন্ন কারণে খবরের শিরোনাম রয়েছে জাফলং ও বিছনাকান্দি। গত বছরে পাথর উত্তোলন করতে গিয়ে অর্ধশতাধিক মানুষের প্রাণহানির ঘটনা ঘটেছে। পাথর উত্তোলনের ফলে জাফলং তার নিজস্ব সৌন্দর্য হারাচ্ছে। বিভিন্ন স্থানে বড় বড় গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। এসব গর্তে পড়ে ঘুরতে আসা পর্যটকদেরও মৃত্যু ঘটেছে। নানা কারণে সিলেটের বিভিন্ন পর্যটন স্পট দিনের পর দিন পিছিয়ে পড়েছে। তবুও পর্যটন ব্যবসায়ীরা আশায় আছেন ঈদ মৌসুমকে নিয়ে।
ব্যবসায়ীরা বলছেন, দু তিন বছর আগেও সিলেটের বিভিন্ন পর্যটন স্পটগুলোতে মানুষের ভিড় ছিল। কিন্তু গত বছর থেকে সিলেটের বিভিন্ন পর্যটন স্পটগুলোতে আগের মতো পর্যটকদের ভিড় নেই। ব্যবসায়ীরা যোগাযোগ ব্যবস্থা আর পাথরখোকোদের কারণে জাফলং ও বিছনাকান্দির সৌন্দর্য হারানোকেই দায়ী করছেন।
তারা বলেন, বর্তমানে পাথরখোকোদের কারণে জাফলং ও বিছনাকান্দিতে পর্যটন আসা কমিয়ে দিয়েছেন। রাস্তার অবস্থা নাজুক হওয়ায় পর্যটকরা জাফলংয়ে আসছেন না। আর যারা আসছেন, তারাও প্রাইভেট গাড়ি কিংবা ভাড়া করা গাড়ি করে আসছেন। এতে পর্যটকদের খরচ বেড়েছে।
বাস মালিক সমিতির নেতারা বলছেন, রাস্তা সংস্কার হলে আমাদের বাস নামাতে আপত্তি নেই। কিন্তু বর্তমানে রাস্তার যে-দশা, তাই বাস নামালে আমাদের ক্ষতি হবে বেশি । এজন্য আমরা চাইলেও মালিকেরা এই রাস্তায় বাস নামাবো না।
হোটেল ব্যসায়ীরা বলছেন, এবারের ঈদে এখনও আশানুরূপ পর্যটকের সাড়া পাওয়া যায়নি। এখন পর্যন্ত মাত্র ১০-১৫টা রুম বুৃকিং হয়েছে। যা আশানুরূপ নয়। অন্যান্য বছর এই সময় হোটেলের অর্ধেকের বেশি রুম বুকিং করা হয়।
সিলেট মহানগর পুলিশের অতিরিক্ত উপকমিশনার (গণমাধ্যম) জেদান আল মূসা বলেন, পর্যটকদের নিরাপত্তায় সর্বোচ্চ ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে। সিলেট মহানগরীর সব পর্যটনকেন্দ্রে ঈদের দিন থেকে পর্যাপ্ত পুলিশ থাকবে।
ট্যুরিস্ট পুলিশের ভারপ্রাপ্ত পুলিশ সুপার মো. আব্দুল নুর বলেন, পর্যটকদের পর্যাপ্ত নিরাপত্তা দেওয়া হবে। জাফলংয়ে রয়েছে একটি স্থায়ী ক্যাম্প। যেখানে একজন পরিদর্শকের নেতৃত্বে ৭-৮ জন পুলিশ থাকবে। এছাড়া বিছনাকান্দি ও লালাখালে সিলেটে থেকে পুলিশ নিরাপত্তা দেবে।
(আজকের সিলেট/২৬ জুন/ডি/এমকে/ঘ.)