৬ মার্চ ২০২০
সুনামগঞ্জ প্রতিনিধি : একদল রহস্যময় মানুষ। যাযাবরের মতো ঘুরে বেড়ায় এখানে-ওখানে ওরা। এক জায়গা থেকে অন্য জায়গায় দেখা যায় এদের। দেশে দেশে বা অঞ্চলভেদে তাদের একেক নাম, আর বেঁচে থাকার জন্য বিচিত্রসব পেশা। নর-নারী, শিশুর অদ্ভুত তাদের চেহারা, অদ্ভুত তাদের কথাবার্তা। বেদে মানে ভ্রমণশীল বা ভবঘুরে। নদীনির্ভর বাংলাদেশে বেদেদের বাহন তাই হয়ে ওঠে নৌকা। নৌকায় সংসার আবার নৌকা নিয়ে ঘুরে বেড়ানো দেশ-দেশান্তরে। যাযাবর বলেই এদের জীবন বৈচিত্র্যময়।
তাদের একমাত্র পেশা সাপ ধরা, গ্রামে গ্রামে সাপের খেলা দেখানো, বানর খেলা ও বিভিন্ন রোগের তাবিজ-কবচ বিক্রি করে যা আয় হয় তাই দিয়ে কোনো রকমে খেয়ে না খেয়ে বেঁচে থাকা।
দেশের বিভিন্ন জায়গার মতো হাওরাঞ্চল বেষ্ঠিত জেলা সুনামগঞ্জে রয়েছে এই সম্প্রদায়। ৩০/৪০ টি বেদে পরিবার জেলার দক্ষিণ সুনামগঞ্জ উপজেলা বসবাস করছে। উপজেলার পশ্চিম পাগলা ইউনিয়নের পাগলা বাজারস্থ পুলের পূর্ব পাশে খোলা আকাশের নিচে তাঁবু টাঙিয়ে বসবাস করছেন। এরা সবাই সুনামগঞ্জ জেলার বিভিন্ন উপজেলা থেকে এসেছেন।
বেদে সম্প্রদায়ের কয়েকজন জানায়, ভালো নেই তাদের জীবনের গল্প। হাসান নাশের এক বেদে শিশু বলে- আমরা গরিব ঘরের সন্তান, ঠিকমত দুবেলা খেতে পারি না, বাবা সারাদিন দেড়শ থেকে দুইশত টাকা আয় করে তা দিয়ে কি আমাদের জীবন চলে। আমাদের ঠিকমতো খাবার জোটে না আবার পড়াশুনা করবো কিভাবে? আমাদের দেখছেন না আমরা তাঁবুতে থাকি।
বেদে সম্প্রদায়ের সরদার হোসেন মিয়া জানান, শুধু আমরা নই, আমাদের মতোই অনেক বেদে সম্প্রদায় আছে। তারাও আমাদের মতো করে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে খোলা আকাশের নিজে তাঁবুতে বসবাস করছেন। আমাদের বেদে সম্প্রদায়ের যতই দিন যাচ্ছে ততই করুণ পরিণতি বাড়ছে। সরকার বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা দিলেও বেদে সম্প্রদায়ের সচ্ছল পরিবাররাই এ সুযোগ-সুবিধা ভোগ করছে। আমাদের মতো গরিব অসহায় বেদে সম্প্রদায় এ সুযোগ-সুবিধা থেকে বঞ্চিত। তাই আমরা দুমুঠো খাবারের জন্য স্ত্রী সন্তানদের নিয়ে দেশে বিদেশে ঘুরে জীবন বাঁচার জন্য লড়াই সংগ্রাম করেই যাচ্ছি।
এব্যাপারে দক্ষিণ সুনামগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী অফিসার জেবুন নাহার শাম্মী বলেন, কিছুদিন আগে বৃষ্টির মাঝে গিয়েও শীতবস্ত্র বিতরণ করেছি। উপজেলা প্রশাসন তাদের পাশে আছে। তাদেরকে কিভাবে সুযোগ সুবিধা দেয়া যায় এই বিষয় নিয়ে উপজেলা প্রশাসন থেকে সহযোগিতার চেষ্টা করবো।
তিনি আরও বলেন, বেদে পরিবারগুলো ভ্রাম্যমাণ জীবন যাপন করায় কোনো স্কুলেও তাদের শিশুরা স্থায়ীভাবে লেখাপড়া করতে পারছে না। এব্যাপারে এনজিও প্রতিষ্ঠানগুলোর সাথে কথা বলবো যারা শিক্ষা বিষয়ক কর্মকান্ডের সাথে যুক্ত আছেন।