৬ জানুয়ারি ২০২০
অতিথি প্রতিবেদক : সিলেট নগরীতে যানজট নিরসন ও সড়কের ক্ষয়ক্ষতি কমাতে নগরীতে ট্রাক প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা থাকলেও তা মানছেন না ট্রাকচালকরা। নিষেধাজ্ঞা অমান্য করেই নগরীতে প্রবেশ করছে পণ্যবাহী ট্রাক। এতে যানজটের পাশাপাশি ক্ষতি হচ্ছে সড়কের। তাছাড়া সিলেট কেন্দ্রীয় ট্রাক টার্মিনালে ট্রাক না রেখে সড়কে দাঁড় করে রাখায় যানজটের সৃষ্টি হচ্ছে।
নগরীর যানজট কমাতে সিলেট-ফেঞ্চুগঞ্জ সড়কের দক্ষিণ সুরমার পারাইরচকে নির্মাণ করা হয়েছে ট্রাক টার্মিনাল। কিন্তু অধিকাংশ চালকেরা ওই ট্রাক টার্মিনাল ব্যবহার করেন না। তারা নগরীর বিভিন্ন প্রবেশ মুখে ট্রাক দাঁড় করিয়ে অবৈধ স্ট্যান্ড গড়ে তুলেছেন। যার ফলে যানজট আরও প্রকট আকার ধারণ করেছে।
গত বছরের ১৯ অক্টোবর পারাইরচকে সিলেট কেন্দ্রীয় ট্রাক টার্মিনালের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হয়। ২৫ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত এই টার্মিনাল উদ্বোধন করেন পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নান এমপি।
উদ্বোধনকালে পরিকল্পনামন্ত্রী বলেছিলেন, ট্রাক চালকরা এখানে বিশ্রাম করে কাজে বের হতে পারেন এ জন্য টার্মিনাল নির্মাণ করা হয়েছে। টার্মিনাল খালি পড়ে থাকলে হবেনা। এখানে ট্রাক রাখতে হবে। টার্মিনালে ট্রাক রাখলে প্রয়োজনে টার্মিনাল আরো বর্ধিত করা হবে। বাস্তবতা দেখতে ট্রাক টার্মিনালে গিয়ে দেখা যায়, খালি পড়ে রয়েছে টার্মিনাল, নামমাত্র কয়েকটি ট্রাক রয়েছে টার্মিনালে। জানা যায়, সিলেট সিটি কর্পোরেশনের কাছ থেকে টেন্ডারের মাধ্যমে ৩৪ লাখ ৬ হাজার টাকায় এক বছরের জন্য ট্রাক টার্মিনালটির ইজারা গ্রহণ করে সিলেট জেলা ট্রান্সপোর্ট মালিক গ্রুপ।
ইজারাদার সড়কের উপর দাঁড়িয়ে থাকা ট্রাকগুলোকে টার্মিনালে রাখার জন্য ট্রাক শ্রমিকদের প্রতি অনুরোধ জানালেও ট্রাকগুলো টার্মিনালে না গিয়ে সড়কের উপর দাঁড় করিয়ে রাখা হচ্ছে। এতে করে ইজারা গ্রহিতা আর্থিক ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছেন। পাশাপাশি ট্রাকগুলোকে সড়কের উপর দাঁড় করে রাখার কারনে বাড়ছে যানজট।
গত বৃহস্পতিবার রাতে পাথর বোঝাই একটি ট্রাক নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে নগরীর মীরের ময়দান এলাকায় প্রবেশ করে। এ সময় সড়কের মধ্যে দেবে যায় ট্রাকটি। ট্রাকটিতে অতিরিক্ত পাথর বোঝাই ছিলো। এর আগের দিন বুধবার রাত পৌনে ১২টার দিকে একই জায়গার আরেকটি অতিরিক্ত পাথর বোঝাই ট্রাক দেবে যায়। পরে সেখানে গিয়ে সিলেট সিটি কর্পোরেশনের মেয়র আরিফুল হক চৌধুরী ওই ট্রাকসহ অতিরিক্ত মালামাল বোঝাই আরও ৬টি ট্রাক আটক করে নগর ভবনে নিয়ে যান।
বৃহস্পতিবার রাতেও মেয়র খবর পেয়ে ঘটানাস্থলে গিয়ে ট্রাকটিকে আটক করেন। পরে তিনি পুলিশকে খবর দিলে পুলিশও ঘটনাস্থলে পৌঁছে। একই সময়ে এই এলাকা দিয়ে ২০টির মতো ট্রাক নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে নগরীতে প্রবেশ করে। এর প্রতিটি ট্রাককেই আটক করে পুলিশ। নগরীতে ট্রাক প্রবেশ করার কারণে গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টগুলোতে দেখা দেয় যানজট।
জাফলং, ভোলাগঞ্জ ও ছাতক থেকে প্রতিদিন শ’ শ’ ট্রাক পাথর, কয়লা ও বালু নিয়ে বিভিন্ন জায়গায় যায়। এসব ট্রাক নগরীর দু’টি বাইপাস সড়ক ব্যবহার করে। জাফলং ও ছাতক থেকে পণ্য নিয়ে আসা ট্রাক চালকদের চেয়ে বেশি বেকায়দায় পড়েন ভোলাগঞ্জের ট্রাকচালকরা। বিকল্প কোনো সড়ক না থাকায় আম্বরখানা পয়েন্ট ছুঁয়েই তাদের বাইপাস রুটে যেতে হচ্ছে। বিমানবন্দর এলাকা থেকে ডানে কিংবা বামে ট্রাক চলাচলের জন্য কোন বাইপাস নাই। এ কারণে সন্ধ্যা নামলেই আম্বরখানা-বিমানবন্দর সড়কে যানজট নিত্য নৈমিত্তিক ব্যাপার হয়ে দাঁড়িয়েছে।