৬ জানুয়ারি ২০২০


জগন্নাথপুর-বিশ্বনাথ-সিলেট সড়কের বেহাল দশা

শেয়ার করুন

জগন্নাথপুর (সুনামগঞ্জ) প্রতিনিধি : জগন্নাথপুর-বিশ্বনাথ-সিলেট আকাঁবাকাঁ বেহাল সড়ক এখন মরণ ফাঁদে পরিণত হয়েছে। একদিকে আকাঁবাকাঁ ও সরু আর অন্যদিকে বড় বড় গর্তের সৃষ্টি হয়ে বেহাল দশায় পরিণত হয়ে সড়কটিতে প্রায়দিনই ঘটছে দুর্ঘটনা। সড়কটিতে প্রয়োজনের তাগিদে প্রতিদিনই শতশত লোক জীবনের ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করছেন। দ্রুত সময়ের মধ্যে সড়কটি মেরামত জরুরী হয়ে পড়েছে। অন্যথায় দুর্ঘটনার হার বাড়বে বলে মনে করছেন এলাকাবাসী।

সস্প্রতি এ সড়কের পীরের বাজার, ভবের বাজারসহ কয়েকটি স্থানে যাত্রীবাহী মিনিবাস দুর্ঘটনার শিকার হয়ে বহু লোক আহত হন। এছাড়া বিগত দিনে উপজেলার আটঘর গ্রামের লন্ডন প্রবাসী মন্তাজ খান (৬৫) এ সড়কের কেউনবাড়ি আটঘর বাকাঁ মোড়ে মিনিবাস দুর্ঘটনার শিকার হয়ে মর্মান্তিকভাবে নিহত হন। অন্যদিকে উক্ত সড়কের মিয়ার বাজার মোড়ে ইকড়ছই গ্রামের শাহেদুর রহমান (২৫) দুর্ঘটনার শিকার হয়ে মারা যান।

এধরনের দুর্ঘটনা প্রায়ই ঘটছে। এছাড়া এ সড়কের সবগুলো ব্রীজই অত্যন্ত সরু ও দীর্ঘ দিনের পুরাতন হওয়ায় দুইটি গাড়ি একসাথে আসা-যাওয়া করতে গেলে যানজটের সৃষ্টি হয়ে ঘন্টার পর ঘন্টা অপেক্ষা করতে হয়। এমতাবস্থায় পুরাতন ব্রীজ দিয়ে জীবনের ঝুকি নিয়ে যাত্রীবাহী গাড়িগুলো পারাপার হচ্ছে। এ ব্রীজগুলো ভেঙে নতুন প্রসস্থ ব্রীজ করা জরুরী ।

এদিকে এ বেহাল সড়ক পুনঃনির্মাণের দাবিতে বাস মালিক শ্রমিকসহ এলাকাবাসী দীর্ঘদিন ধরে একাধিকবার যানবাহন চলাচল বন্ধ রেখে ধর্মঘট করেছেন। দীর্ঘ দিন ধরে ভাঙা-চোরা বেহাল এ সড়কটি নিয়ে দৈনিক গণমাধ্যমগুলোতে একাধিকবার রিপোর্ট প্রকাশিত হলে সরকার এ সড়কের জগন্নাথপুর ও বিশ্বনাথ অংশের ২৬ কিলোমিটার সড়ক পুনঃনির্মাণের জন্য ৪৬ কোটি টাকা বরাদ্দ দেয়। তন্মধ্যে বিশ্বনাথ অংশের ১৩ কিলোমিটার সড়ক পুনঃনির্মাণের দায়িত্ব পায় শাওন এন্টারপ্রাইজ এবং জগন্নাথপুর অংশের ১৩ কিলোমিটার সড়কের পুনঃনির্মাণের দায়িত্ব পায় সালেহ হামিম (জেপি)। কিন্তু ঠিকাদার কাজ পেলেও এখন পর্যন্ত কাজ শুরু না হওয়ায় এলাকাবাসী চরম দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন।

স্থানীয় এমপি ও পরিকল্পনা মন্ত্রী এম এ মান্নান বলেন, কাজটি যাতে দ্রুত সময়ের মধ্যে শুরু হয় এবং আকাঁবাকাঁ ও সরু সড়কটি সোজা ও প্রসস্থকরণ করা হয় এব্যাপারে আমি সংশ্লিষ্টদের নির্দেশনাসহ প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবো।

তিনি আরও বলেন, এ সড়কের জগন্নাথপুর-বিশ্বনাথ অংশের ২৬ কিলোমিটার সড়ক পুনঃনির্মাণে ৪৬কোটি টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। রাস্তার কাজ যাতে টেকসই ও গুণগত মান বজায় রেখে করা হয় এজন্য মোটা অংকের টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। এবার যদি কোনো অনিয়ম বা দুর্নীতি করা হয় তবে কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না।

এব্যাপারে জগন্নাথপুর উপজেলা প্রকৌশলী গোলাম সারোয়ার বলেন, এখনও সড়কের নির্মাণ কাজের কার্যাদেশ দেওয়া হয়নি। আশা করছি কিছুদিনের মধ্যে দেওয়া হবে। তিনি বলেন আকাঁবাকাঁ ও সরু এ সড়কটি সোজা ও প্রসস্থকরণের জন্য আমরা ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানিয়েছি।

উল্লেখ্য, ২০১৭ সালের জুন মাসে জগন্নাথপুর হইতে কেউন বাড়ি পর্যন্ত পৌনে ৩ কোটি টাকা ব্যয়ে জগন্নাথপুর থেকে কেউন বাড়ি পর্যন্ত ১৩ কিলোমিটার সড়কে ২নং ইটের সুরকি ও নিম্ন মানের বিটুমিন ও অত্যন্ত নিম্ন মানের নির্মাণ সামগ্রী দিয়ে সংস্কার কাজ করা হলে ৪ মাসের মাথায় সড়কটির পিচ ঢালাই উঠে ভেঙে বড় বড় গর্তের সৃষ্টি হয়। তখন থেকে সড়কটির বেহাল অবস্থা বিরাজ করছে। পর্যবেক্ষণে দেখা গেছে এ সড়ক সহ উপজেলার বিভিন্ন সড়কে সরকার মোটা অংকের টাকা বরাদ্দ দিলেও দায়সারা কাজ করে অধিকাংশ টাকাই লুটপাট হয়ে যায়। এলাকাবাসী উক্ত গুরুত্বপূর্ণ সড়কসহ উপজেলার সকল জরাজীর্ণ সড়কগুলো অবিলম্বে পুণঃনির্মাণের জোর দাবি জানিয়েছেন। সেই সাথে সরকারি টাকা যাতে লুটপাট না হয় এব্যাপারে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কঠোর নজরদারি এবং কাজ যেন প্রাক্কলন অনুযায়ী উন্নতমানের নির্মাণ সামগ্রী দিয়ে সঠিকভাবে করা হয় এবং দীর্ঘস্থায়ী ও টেকসই হয় এব্যাপারে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করছেন এলাকাবাসী।

শেয়ার করুন