২ জানুয়ারি ২০২০


বিয়ের জন্য চাপ দেওয়ায়ই কাল হলো আকলিমার

শেয়ার করুন

হবিগঞ্জ প্রতিনিধি : হবিগঞ্জ সদর উপজেলার দক্ষিণ রাজিউড়া গ্রামের পাশে ভেড়িখাল থেকে আকলিমা আক্তার (২৫) নামে এক নারীর লাশ উদ্ধারের ঘটনার রহস্য উদঘাটন করেছে পুলিশ। নিহত আকলিমা বিয়ের জন্য চাপ দেওয়ায় কথিত প্রেমিক আনোয়ার হোসেন ওরফে সোবহান মিয়া তার সহযোগীদের নিয়ে তাকে হত্যা করেছে। বুধবার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (হবিগঞ্জ সদর সার্কেল) মো. রবিউল ইসলামের নেতৃত্বে হবিগঞ্জ সদর মডেল থানা পুলিশের একটি টিম অভিযান চালিয়ে সোবহান মিয়াকে গ্রেফতার করে। বুধবার সন্ধ্যায় সে আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিও দিয়েছে।

সোবহান হবিগঞ্জ সদর উপজেলার রাজিউড়ার আব্দুল আহাদের ছেলে। তার স্বীকারোক্তির বরাত দিয়ে হবিগঞ্জ সদর মডেল থানার ওসি মাসুক আলী জানান, ‘আকলিমা আক্তারের সঙ্গে সাত-আট মাস আগে মোবাইল ফোনের মাধ্যমে আনোয়ার হোসেন ওরফে সোবহান মিয়ার পরিচয় হয়। সোবহান পেশায় ফার্নিচার মিস্ত্রি। সে বিবাহিত। তার স্ত্রীর সঙ্গে বনিবনা না হওয়ায় স্ত্রীকে ছয়-সাত মাস আগে বাবার বাড়ি পাঠিয়ে দেয়। এরপর থেকে আকলিমার সঙ্গে মোবাইল ফোনে প্রতিদিন কথাবার্তা চলতো সোবহান মিয়ার। তবে স্ত্রী থাকার বিষয়টি আকলিমার কাছে গোপন রাখে সোবহান। মাঝে মধ্যে দুজনের মধ্যে ঢাকায় দেখা-সাক্ষাৎ হতো। একপর্যায়ে তাদের মধ্য শারীরিক সম্পর্ক তৈরি হয়। এরপর আকলিমা সোবহানকে বিয়ের জন্য চাপ দিতে থাকে। কিন্তু সোবহান তাকে বিয়ে না করে বিভিন্ন কৌশলে সময় পার করছিল। এ অবস্থায় সোবহান আকলিমাকে হত্যার পরিকল্পনা করে।’

ওসি জানান, ‘প্রায় চার মাস আগে আকলিমা গার্মেন্টস এ কাজ করার জন্য ঢাকার গাজীপুরে চলে যায়। গত ২৩ ডিসেম্বর সোবহান ফোন করে বিয়ের আশ্বাস দিয়ে আকলিমাকে হবিগঞ্জ আসতে বলে। তার কথামতো আকলিমা ওইদিন টঙ্গী থেকে এনা পরিবহনের একটি বাসে এসে সন্ধ্যায় অলিপুরে নামে। আগে থেকে অপেক্ষমাণ আসামি সোবহান মিয়া আকলিমাকে নিয়ে তার নিজ বাড়িতে গোপনে তার ঘরে নিয়ে রাখে। পরদিনও (২৪ ডিসেম্বর) আকলিমা সেখানেই ছিল। ফের বিয়ের জন্য সোবহানকে চাপ সৃষ্টি করে আকলিমা। কিন্তু সোবহান বিভিন্ন কৌশলে এড়িয়ে যায়। এক আত্মীয়ের বাড়ি গিয়ে বিয়ে করবে এই কথা বলে ২৫ ডিসেম্বর ফজরের সময় সোবহান আকলিমাকে নিয়ে বাড়ি থেকে বের হয়। আকলিমা তার কথায় বিশ্বাস করে রওনা হয়। পরে শুকনো হাওড় দিয়ে যাওয়ার সময় খালের পাড়ে আকলিমাকে গলায় ওড়না পেঁচিয়ে শ্বাসরোধে হত্যা করে লাশ সেখানে ফেলে রেখে চলে যায় সোবহান।

ওসি আরও জানান, আকলিমাকে হত্যার পর সোবহান লাশ রেখে বাড়িতে চলে আসে এবং স্বাভাবিক চলাফেরা করতে থাকে। গত ২৫ ডিসেম্বর রাতে সদর থানা পুলিশ লাশটি উদ্ধার করে ময়নাতদন্ত শেষে পরিবারের জিন্মায় হস্তান্তর করে। লাশটি উদ্ধার হওয়ার পরই সন্দেহ হয় এটি একটি হত্যাকাণ্ড। এরপর এনা বাসের টিকেট ও কল লিস্টের সূত্র ধরে ঘাতক হিসবে সোবহানকে শনাক্ত করে পুলিশ। তিনি আরও জানান, ‘ঘাতক নিজেই তার দোষ স্বীকার করেছে। অচিরেই তদন্ত শেষে আদালতে চার্জশিট দাখিল করা হবে।’

উল্লেখ্য, ২৫ ডিসেম্বর রাতে হবিগঞ্জ সদর উপজেলার দক্ষিণ রাজিউড়া গ্রামের পার্শ্ববর্তী ভেড়িখাল থেকে অজ্ঞাত এক নারীর লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। উদ্ধারের পর পুলিশ তার ছবি বিভিন্ন মিডিয়ায় দিলে স্বজনরা এসে লাশ শনাক্ত করে। নিহত আকলিমা আক্তার মৌলভীবাজার জেলার শ্রীমঙ্গল থানার জাম্বুরাছড়ার হেলাল মিয়ার কন্যা। পরে হবিগঞ্জ সদর আধুনিক হাসপাতালে ময়নাতদন্ত শেষে নিহতের বড় ভাই আমির উদ্দিনের কাছে লাশ বুঝিয়ে দেয় পুলিশ। এ ঘটনায় নিহতের ভাই আমির উদ্দিন হবিগঞ্জ সদর মডেল থানায় অজ্ঞাত আসামিদের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা দায়ের করেন।

শেয়ার করুন