৬ ডিসেম্বর ২০১৯


সুনামগঞ্জ মুক্ত হয় ৬ ডিসেম্বর

শেয়ার করুন

সুনামগঞ্জ প্রতিনিধি : আজ ৬ ডিসেম্বর, সুনামগঞ্জ মুক্ত দিবস। ১৯৭১ সালের এই দিনে মুক্তিযোদ্ধাদের ভয়ে সুনামগঞ্জ থেকে পালিয়ে যায় পাকহানাদার বাহিনী। শত্রু মুক্ত হয় সুনামগঞ্জ, মুক্ত সুনামগঞ্জে উল্লাসে মেতে উঠেন মুক্তিযোদ্ধা-জনতা।নেমে আসেন রাস্তায়। পাক-হানাদরবাহিনী ও তাদের দোষরা শহর ছেড়ে পালিয়ে যায়। জয়বাংলা শ্লোগানে শ্লোগানে সেদিন মুখর দিল সুনামগঞ্জ শহর।

১৯৭১ সালের ৬ ডিসেম্বর সুনামগঞ্জ পাকহানাদার মুক্ত হয়। এই দিনে ভোর থেকে সাব-সেক্টর কমান্ডার মেজর মোতালেব এর নেতৃত্বে মুক্তিবাহিনিরা হানাদার বাহিনী ও রাজাকার-আলবদরদের উপর হামলা চালালে সেই দিন পালিয়ে যায় পাকিস্তানিরা। ১৯৭১ সালে সুনামগঞ্জ শহরতলির ডলুরা ও নলুয়া গ্রামে রাজাকারদের সহায়তায় কয়েক শত মুক্তিযুদ্ধাদের ব্যারাকের ভিতর হামলা চালিয়ে হত্যাযজ্ঞ চালায়।

এছাড়া দোয়ারাবাজার, জগন্নাথপুর, ছাতক, সদর উপজেলাসহ জেলার সব জায়গায় পাকিস্তানিরা বর্বর হামলা চালায়। এই শহীদদের স্মরণে এখানে স্মৃতিফলক নির্মাণ করেন মুক্তিযোদ্ধারা। যা এখন পিটিআই বধ্যভুমি নামে পরিচিত।

এ ছাড়া সুনামগঞ্জ সদর উপজেলার বেরিগাঁও ৫ নম্বর সেক্টর ছিল ভারতের বালাট সাব সেক্টরের অধীনে। এখানে ’৭১ সালের ১৫আগস্ট ভোরে মুক্তিযোদ্ধাদের সাথে পাকিস্থানী বাহিনীর সম্মুখে সমরে ভয়াবহ যুদ্ধ হয়। জেলার অন্যতম যুদ্ধ ছিল এটি। এ যুদ্ধে অনেক পাকবাহিনীর সদস্যরা ও নিহত হন। এ যুদ্ধে ৮ জন মুক্তিযোদ্ধা শহীদ হন। ২৬ জন মুক্তিযোদ্ধাকে জীবিত ধরে নিয়ে যায় পাক হানাদার বাহিনী। ২ জন মুক্তিযোদ্ধা পালিয়ে আসলেও ২৪ জনকে মেরে ফেলে পাকবাহিনী। শহীদ মুক্তিযোদ্ধাদের নলুয়া গ্রামে গনকবর দেয় পাকিস্তানীরা । বাকীদের ধরে নিয়ে হানাদার বাহিনীর সদস্যরা সুনামগঞ্জের আহসানমারা ফেরীঘাটে নিয়ে গুলি করে নদীতে ফেলে দেয়।এলাকার মুক্তিকামী মানুষ পরে নদী থেকে নিহত মুক্তিযোদ্ধাদের লাশ এনে দক্ষিণ সুনামগঞ্জ উপজেলার উজানীগাঁও গ্রামে তাদের সমাহিত করা হয়।

সুনামগঞ্জ শহরের পিটিআই ও বেরীগাও স্কুলে চলে হানাদার বাহীনির ভয়াবহ বরবরতা। পাকিস্তানী বাহিনী ও তাদের দুষররা এখানে দিনের পর দিন অমানুষিক নির্যাতন করত। এর নাম দেয় লালঘর টর্চার সেল। এখানে হত্যা করে গনকবর দেয় শতশত বীর মুক্তিযোদ্ধা, নারী ও শিশুদের ।

সুনামগঞ্জ জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ আব্দুল আহাদ জানান, সুনামগঞ্জ মুক্ত দিবস উদযাপন উপলক্ষে নানা কর্মসূচি নিয়েছে জেলা প্রশাসন, মুক্তিযোদ্ধা সংসদসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠন।

শেয়ার করুন