৬ ডিসেম্বর ২০১৯
নিজস্ব প্রতিবেদক : শফিকুর রহমান চৌধুরী। সিলেটের রাজনীতিতে ২৪ ঘন্টার রাজনীতিবীদ হিসেবেই পরিচিত তিনি। দলকে সুসংগঠিত করতে চষে বেড়িয়েছেন জেলার প্রত্যন্ত অঞ্চলে। দলীয় কর্মসূচীর বাহিরেও বিয়ে, জন্মদিন, জানাজা এমনকি কর্মীদের পারিবারিক অনুষ্ঠানেও সরব দেখা যেত এই নেতাকে। ২০১৪ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দল ও জোটের স্বার্থে নিজের আসনে নির্বাচন থেকেও সরে দাড়ান এই নেতা। দলের প্রতি এতো ত্যাগ ও তিতীক্ষার পর দলের সম্মেলনে বাদ পড়লেন তিনি।
তবে কি কারনে বাদ পড়লেন এই ত্যাগী নেতা এ নিয়ে পুরো জেলাজুড়ে চলছে চুলছেড়া বিশ্লেষণ।
দলীয় সূত্র জানা যায়, শফিকুর রহমান চৌধুরী সিলেটের প্রতিটি উপজেলায় দলকে সুসংগঠিত করতে নিজের সর্বোচ্চ শক্তি দিয়ে কাজ করেছেন। তিনি ইতিমধ্যে চব্বিশ ঘন্টার রাজনীতিবীদ হিসেবে খ্যাতি লাভ করেছেন।
জেলা আওয়ামী লীগের সম্মেলনে সভাপতি পদে প্রার্থী ছিলেন শফিকুর রহমান চৌধুরী। তাকে নিয়ে জোরালো আলোচনাও ছিল। জেলা কমিটিতে বয়সের কারনে ভারপ্রাপ্ত সভাপতি এ্যাডভোকেট লুৎফুর রহমান বাদ পড়ার আবাস পাওয়া গেলেও শেষ পর্যন্ত তিনিই হয়েছেন ভারমুক্ত । আর সাধারণ সম্পাদক পদ থেকে বাদ পড়লেন শফিকুর রহমান চৌধুরী। তার কর্মতৎপরতায় প্রমোশন না হোক স্বপদে বহাল থাকাটাই ছিল নেতাকর্মীদের কাম্য। দলের এত ত্যাগ থাকার পরও কেন এই বাদ পড়া?
দলীয় একাধিক নির্ভরযোগ্য সূত্রে জানা যায়, সর্বশেষ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে মহাজোটের স্বার্থে সিলেট-২ আসনটি জাতীয় পার্টিকে ছাড় দেয় আওয়ামী লীগ। কিন্তু এই নির্বাচনে দলীয় মনোনয়ন না পেয়ে বেঁকে বসেন শফিকুর রহমান চৌধুরী। দল ও জোটের পক্ষ থেকে বার বার তাকে মহাজোটের প্রার্থীর পক্ষে মাঠে কাজ করার জন্য অনুরোধ করলেও তিনি একটি বারের জন্য নির্বাচনী প্রচারণায় অংশগ্রহন করেননি। বরং তাঁরই অনুসারী হিসেবে পরিচিত এনামুল হক সরদারকে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে জোটের প্রার্থীর বিপক্ষে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দিতা করান। আর তার সাথে প্রকাশ্যে মাঠে কাজ করেন শফিকুর রহমান চৌধুরীর ও তার অনুসারী দলীয় কর্মী-সমর্থকরা।
দলীয় নির্বাচন সেল ও মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে একাধিকবার শফিকুর রহমান চৌধুরীকে মহাজোট প্রার্থীর পক্ষে মাঠে কাজ করতে বলা হয়। তারপরও তিনি এতে কর্ণপাত করেননি। ফলে এই আসনটিতে গণফোরামের প্রার্থী উদীয়মান সূর্য প্রতিক নিয়ে প্রতিদ্বন্দিতাকারী মোকাব্বির খানের কাছে সূচনীয় পরাজয় হয় মহাজোট প্রার্থী ইয়াহইয়া চৌধুরীর।
দলীয় সূত্র বলছে, বিষয়টি নিয়ে আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বিরক্ত ছিলেন শফিকুর রহমান চৌধুরীর উপর। আর এরই প্রভাব পড়েছে দলীয় কাউন্সিলে।
সার্বিক বিষয়ে জানতে শফিকুর রহমান চৌধুরীর মোবাইল ফোনে একাধিকবার কল দিলেও তিনি রিসিভ করেননি।