১৩ নভেম্বর ২০১৯
হবিগঞ্জ প্রতিনিধি : এক বছরের মধ্যে দুটি ‘ভয়াবহ’ ট্রেন দুর্ঘটনা ঘটলো। চলতি বছর মৌলভীবাজারের কুলাউড়ায় ট্রেনের বগি লাইনচ্যুত হয়ে ৪ জন নিহতের পর এবার ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কসবায় দুই ট্রেনের সংঘর্ষে হবিগঞ্জের ৭ জনসহ ১৬ জনের মৃত্যু হলো। আহত হয়েছেন শতাধিক যাত্রী। এ ঘটনায় হবিগঞ্জ জেলায় ট্রেন যাত্রীদের মধ্যে আতঙ্ক বিরাজ করছে। রেল জংশনে কমে গেছে মানুষের উপস্থিতি। দুর্ঘটনার খবরে অনেকেই ফিরে গেছেন স্টেশন থেকে।
শায়েস্তাগঞ্জ রেল জংশনে সরেজমিনে দেখা যায়, যাত্রীদের উপস্থিতি একেবারেই নেই। স্থানীয়রা জানান, অন্যান্য দিন টিকিটধারী যাত্রীসহ আরো শতাধিক যাত্রী পাহাড়িকার জন্য অপেক্ষমান থাকেন। অথচ ওই স্টেশন থেকে উঠেছেন প্রায় ২০ জন যাত্রী।
শায়েস্তাগঞ্জ রেলজংশনের মাস্টার সাইফুল ইসলাম জানান, দুর্ঘটনার পর থেকে ট্রেনের শিডিউলে বড় বিপর্যয় না ঘটলেও যাত্রী সংখ্যা অনেক কমে গেছে। অন্যান্য দিনের তুলনায় টিকিট ক্রেতাদের ভিড় নেই। তবে দুয়েকদিনের মধ্যে যাত্রীদের আতঙ্ক দূর হয়ে যাবে বলেও মনে করছেন তিনি।
প্রসঙ্গত, মঙ্গলবার ভোররাতে কসবা উপজেলার মন্দবাগ এলাকায় চট্টগ্রাম থেকে ঢাকা অভিমুখী ‘তূর্ণা নিশীথা’র সঙ্গে সিলেট থেকে চট্টগ্রাম অভিমুখে যাত্রা করা ‘উদয়ন এক্সপ্রেস’ ট্রেনের সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় ১৬ জন নিহত হয়েছে। আহত হয়েছে শতাধিক। নিহতদের মধ্যে হবিগঞ্জ জেলার ৭ জনের নাম-পরিচয় জানা গেছে।
তারা হলেন- হবিগঞ্জ শহরতলীর আনোয়ারপুরের আলী মো. ইউনুছ (৩০), বহুলা গ্রামের আলমগীর আলমের ছেলে ইয়াছিন আলম (১২), চুনারুঘাট উপজেলার উলুকান্দি পশ্চিম তালুকদার বাড়ির ফটিক মিয়ার ছেলে রুবেল মিয়া (২২), একই উপজেলার পীরের গাঁওয়ের আব্দুল হাসিমের ছেলে সুজন মিয়া (২৫), আবুল কালামের স্ত্রী পিয়ারা বেগম (৬২) বানিয়াচং উপজেলার মর্দন মুরত গ্রামের ইউসুফ মিয়ার ছেলে আল আমিন মিয়া (৩৪) ও একই উপজেলার টাম্বলী টুলা গ্রামের সোহেল মিয়ার মেয়ে আদিবা আক্তার (৩)।