৩ সেপ্টেম্বর ২০১৭


নেই ঈদ আনন্দ, এখন শুধু বেঁচে থাকার চেষ্টা

শেয়ার করুন

মৌলভীবাজার প্রতিনিধি : ভয়াবহ এক বিপদের বলয় ঘিরে রেখেছে তাদের। নেই খাবার, নেই কোনো রুজি রোজগারের ব্যবস্থা। বেঁচে থাকলে পরের ঈদ উদযাপন করবেন। এটাই তাদের স্মরণকালের ভয়াবহ বিপদ। এরকম কথাগুলো কেঁদে কেঁদে উপস্থাপন করছিলেন হাকালুকি হাওড় পাড়ের ভুকশিমইল ইউনিয়নের সবর্স্বহারা এক গৃহবধু আলেয়া বেগম (৩৩)।

এরুপ চিত্র শুধু ভুকশিমইল ইউনিয়নে নয়, পুরো হাকালুকি হাওড় তীরের। ইতিমধ্যে সর্বনাশা বন্যায় শতভাগ বোরো ফসল হারিয়েছে মানুষ। পানিবন্দি অবস্থায় মানবেতর জীবনযাপন করছেন দুই লক্ষাধিক মানুষ। সেই সাথে নতুন করে সৃষ্টি হয়েছে খরস্রোতা মনু নদীর ভাঙ্গন। সব মিলিয়ে হাওড় পাড়ের মৌলভীবাজারের তিন উপজেলার মানুষের মাঝে নেই কোনো ঈদের আমেজ।

দু’দিন পরই ঈদ। ঘরে ঘরে চলছে ঈদের প্রস্তুতি। কিন্তু মৌলভীবাজারের বড়লেখা উপজেলার হাওড় পাড়ের বাসিন্দাদের চোখে-মুখে শুধু দুশ্চিন্তার চাপ। কিভাবে খেয়ে পরে বাঁচবেন, সে চিন্তায় এখন দিন কাটচ্ছেন তারা। তাই গত রোজার ঈদের মতো এবারও কোরবানির ঈদে তাদের মাঝে কোন অনুভূতি নেই। শূন্য অনুভূতির ঝুলি সহ একরাশ হতাশাকে সঙ্গী করে দিন গুনছেন তারা।

হাওড় পাড়ের কয়েকজন বাসিন্দা জানান, কয়েকদফা বন্যায় তাদের সব কেড়ে নিয়েছে। তাদের আয়ের একমাত্র উৎস ধান, মাছ, গরু হারিয়ে তারা এখন অনেকটা অসহায় হয়ে পড়েছেন। দু’বেলা দু’মঠো খেয়ে বেঁচে থাকাই এখন তাদের পক্ষে কঠিন হয়ে দাড়িয়েছে। এতোদিন সরকারি-বেসরকারি সংগঠন ত্রাণ বিতরণ করেছে। কিন্তু এখন ত্রাণ সহায়তা একবারে নেই বললে চলে।

এদিকে গত কয়েকদিনের ভারি বর্ষণ আর পাহাড়ি ঢলে বন্যার পানি বাড়তে শুরু করেছে। এতে তাদের মধ্যে আবারো আতঙ্ক দেখা দিয়েছে। ইতিমধ্যে আবারো নতুন করে অনেকের ঘরবাড়ি, রাস্থা-ঘাট পানির নিচে তলিয়ে গেছে। ফলে অনেকেই মানবেতর জীবনযাপন করছেন।

তালিমপুর ইউপির সাবেক সদস্য সুজিত চন্দ্র দাস বিবার্তাকে জানান, হাওড়ে পানি দিন দিন বাড়ছে। এতে বন্যা পরিস্থিতি অবনতি হচ্ছে। হাওড় পাড়ের মানুষের অনেক মানুষ খেয়ে না খেয়ে দিনযাপন করছেন। তাই এবারও হাওড় পাড়ের মানুষের মাঝে ঈদের কোন আমেজ নেই।

তালিমপুর ইউপির চেয়ারম্যান বিদ্যুৎ কান্তি দাস বিবার্তাকে জানান, ইতিমধ্যে জিআর কর্মসূচির আওতায় ৫০০ জনকে ১০ কেজি করে চাল ও ১০০ জনকে নগদ তিনশ টাকা করে দেয়া হয়েছে। সেদিনও অস্বচ্ছল-ক্ষতিগ্রস্ত আরো ৫৮০জনকে ৩০ কেজি করে চাল ও নগদ ৫০০ টাকা করে দেয়া হয়েছে।

তিনি আরো বলেন, বৃষ্টি আর পাহাড়ি ঢলের কারণে হাওড়ে পানি বৃদ্ধি পাচ্ছে। তিনদফা বন্যায় মানুষজন একেবারে নিঃস্ব হয়ে পড়েছে। সরকারের পাশাপাশি আগে বিভিন্ন সামাজিক সংগঠনগুলো বন্যার্ত মানুষকে ত্রাণ দিয়েছে। তবে তা প্রয়োজনের তুলনায় অপ্রতুল বলে জানান তিনি।

 

(আজকের সিলেট/৩ সেপ্টেম্বর/ডি/এসসি/ঘ.)

শেয়ার করুন