২২ অক্টোবর ২০১৯
তাহিরপুর (সুনামগঞ্জ) প্রতিনিধি : একুশ শতকে বাংলাদেশকে ডিজিটাল বাংলাদেশ হিসেবে গড়ে তোলার লক্ষ্য নিয়ে শেখ হাসিনা বাংলাদেশ সরকারের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে মতো শপথ নেন। সরকারের সবকটি সেক্টরে ডিজিটালাইজে সংযুক্ত হলেও পিছিয়ে রয়েছে রাষ্ট্রায়ত্ত একমাত্র মোবাইল অপারেটর নেটওয়ার্ক টেলিটক। বিশেষ করে পর্যটন খ্যাত ও প্রাকৃতিক সম্পদে সমৃদ্ধ তাহিরপুর উপজেলার জনসাধারণ এ ডিজিটাল যুগেও টেলিটকের সেবা থেকে হচ্ছে বঞ্চিত, পোহাচ্ছে অবর্ণনীয় ভোগান্তি!
২০১৬ সালে টেলিটক নেটওয়ার্ক টাওয়ার স্থাপনের দাবিতে মানববন্ধন করেছিল তাহিরপুর উপজেলার বৃহত্তর শিক্ষা ও সামাজিক উন্নয়ন সংগঠন স্বপ্নচূড়া কিন্তু কাজের কাজ কিছুই হয়নি। মানববন্ধন বিষয়ে সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক ইঞ্জিনিয়ার সাইদুল ইসলাম শাহীনের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, বৃহত্তর তাহিরপুরে চাকুরী প্রার্থী, স্কুল-কলেজের ছাত্রছাত্রীদের ভর্তি, রেজিষ্ট্রেশন সংক্রান্ত আবেদন ও আবেদন ফি’র টাকা পরিশোধ করতে যে অপূরনীয় ভোগান্তির সম্মুখীন হতে তা লাগবের জন্য আমরা সংগঠনের উদ্যোগে এলাকাবাসীদের সাথে নিয়ে মানববন্ধন ও স্মারকলিপি প্রদান করেছিলাম কিন্তু গত ৩ বছর পার হয়ে গেলেও নেটওয়ার্ক টাওয়ার স্থাপনের কোন পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে বলে আমাদের নজরে আসেনি, যা খুবই দুঃখজনক।
বর্তমান সময়ে প্রতিযোগিতামূলক বাজার ব্যবস্থায় দেশে বিদ্যমান সবকটি মোবাইল নেটওয়ার্ক অপারেটর তাদের থ্রিজি/ফোর জি সেবা চালু করে রেখেছে তাহিরপুর উপজেলা সদর ও বাণিজ্যিক কেন্দ্র বাদাঘাট ও তার আশপাশের এলাকাসমূহে। অথচ দেশের একমাত্র রাষ্ট্রায়ত্ত মোবাইল নেটওয়ার্ক অপারেটর টেলিটকের থ্রিজি-ফোর জি তো বহুদূরের পথ, নেটওয়ার্ক টাওয়ার পর্যন্ত এখনো স্থাপন করতে পারেনি।
বর্তমান সময়ে চাকুরীর আবেদন, ভর্তি পেমেন্ট থেকে শুরু করে নানাবিধ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে গিয়ে মোবাইল অপারেটরের ভিত্তিক পেমেন্ট পদ্ধতিতে অনেকাংশে টেলিটক নেটওয়ার্কের বিকল্প পদ্ধতিগত দিক থাকে না। তখনই, চাকুরী প্রার্থী, ছাত্রছাত্রী, অভিভাবকদের দুর্ভোগের শুরু হয়, যেন তা আর শেষ হবার নয়। সাথে কপাল জুড়ে থাকা চিন্তার ভাজ তো রয়েছেই।
গত প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগ ও শিক্ষক নিবন্ধন নিয়োগ পরীক্ষার আবেদন প্রার্থী আয়েশা সুলতানা আজমী ও তৌহিদুল ইসলাম তপু জানান, অনলাইনে নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই আবেদন করার পরও তাদেরকে চিন্তায় ফেলে দেই আবেদনের টাকা পরিশোধ করতে গিয়ে, কারণ আবেদন ফি’র টাকা পরিশোধ করতে হয় টেলিটকের মাধ্যমে কিন্তু তাহিরপুরে টেলিটকের নেটওয়ার্ক যেন এ ডিজিটাল বাংলাদেশে দূর্লভ চাওয়া!
তখন আবেদন ফি’র টাকা পরিশোধ করতে পোহাতে হয় নানান ভোগান্তি, ধর্না দিতে বিভিন্ন অনলাইন ভিত্তিক কম্পিউটারের দোকানগুলোতে। অনেকে নিরুপায় হয়ে শুধুমাত্র আবেদন ফি’র টাকা পরিশোধ করতে দ্বিগুণ টাকা খরচ ও সময়ের অপচয় করে, রওয়ানা হয় জেলা সদরের উদ্দেশ্য। অনেকের আবার অনলাইনে আবেদন করার পর শুধুমাত্র টেলিটকের মাধ্যমে টাকা পরিশোধ করতে না পেরে আবেদন বাতিল হয়েছে।
বাণিজ্যিক কেন্দ্র বাদাঘাট বাজারের অনলাইন প্রতিষ্ঠান আইটি এক্সপ্রেস, পুপুলার ডিজিটাল কম্পিউটার, মেঘালয় ডিজিটাল স্টুডিও, বৈশাখী ডিজিটাল স্টুডিও সহ একাধিক ব্যবসায়ীক প্রতিষ্ঠানের মালিকেরা জানান, বছরের পর বছর যাবত শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষা, বিভিন্ন সরকারি চাকুরির আবেদন, কলেজ, বিশ্বিবদ্যালয়ের ভর্তি আবেদন, রেজিষ্ট্রেশন ফি জমাদানের জন্য টেলিটক নেটওয়ার্কের দ্বারস্থ হতে হয় কিন্তু তাহিরপুর উপজেলায় টেলিটকের নেটওয়ার্ক না থাকার কারনে আবেদন প্রার্থী, ছাত্রছাত্রী, অভিভাবকসহ আমাদেরকে নানা ধরনের ভোগান্তির শিকার হতে হচ্ছে। অনেক সময় দেখা গেছে, অনলাইনে আবেদন প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার পর টাকা পরিশোধের জন্য টেলিটক নেটওয়ার্কের দ্বারস্থ হতে গিয়ে নেটওয়ার্ক না থাকার কারনে টাকা পরিশোধ করা সম্ভবপর হয়নি, এতে করে অনেক চাকরী প্রার্থীর আবেদন, ছাত্রছাত্রীর ভর্তির আবেদন বাতিল হয়েছে, শেষ অবধি এসব ঘটনাকে কেন্দ্র করে আবেদনকারী, ছাত্রছাত্রী, অভিভাবকদের সহিত ঝগড়া বিবাদেরও সৃষ্টি হয়েছে।
এমন ভোগান্তির বিষয়ে উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান করুণা সিন্ধু চৌধুরী বাবুল বলেন, আমি বিটিসিএল কর্তৃপক্ষের সাথে আজই বিষয়টি নিয়ে কথা বলব, যেন এ অঞ্চলে দ্রুত টেলিটকের নেটওয়ার্ক টাওয়ার স্থাপনের পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়, যাতে করে এ অঞ্চলের চাকরী প্রার্থীদের আবেদন, আবেদন ফি’র টাকা ও কলেজের বিভিন্ন ভর্তি, রেজিষ্ট্রেশন ফি’র টাকা পরিশোধে তাদের ভোগান্তির লাঘব হয়।