৩১ আগস্ট ২০১৭
মৌলভীবাজার প্রতিনিধি : নিত্যদিনের বৃষ্টি ও উজানের পানিতে জেলার হাকালুকি ও কাউয়াদিঘি হাওরে পানি বাড়ছে। ডুবছে বিভিন্ন লোকালয়, বাড়ছে ভুক্তভোগী মানুষের হাহাকার। আগামীর চিন্তায় থামছে না মানুষের কান্না। হাওরপাড়ের মানুষের ঈদ আনন্দ মিশে আছে বানের পানিতে। বোরো ফসল হারানো ও আমন চাষ করতে না পারা কৃষকরা ভবিষ্যতের খাদ্য সংকটের দুর্ভাবনায় শঙ্কিত হয়ে পড়েছেন।
গত ১০ আগস্ট থেকে জেলার ৭ উপজেলায় পানিবন্দি মানুষের জন্য ২শ ৬০ মেট্রিক টন চাল ও ১৪ লাখ ৩০ হাজার টাকা জেলা প্রশাসন বরাদ্দ দিলেও অনেক পরিবার ত্রাণবঞ্চিত রয়েছে। অন্যদিকে জলাবদ্ধতায় রাজনগর উপজেলার ৫০টির অধিক বিদ্যালয় পানিবন্দি হয়ে পড়ায় শিক্ষার্থীদের পড়ালেখায় মারাত্মক বিঘ্ন ঘটছে।
গত ৪ মাস থেকে রাজনগর উপজেলার কাউয়াদিঘি হাওরপারের ফতেপুর, মুন্সিাবাজর, উত্তরভাগ, মনসুরনগর ও পাঁচগাঁও ইউনিয়নের বিভিন্ন গ্রাম বন্যাকবলিত হয়ে পড়ে। গত মার্চ মাসের আগাম বন্যায় কাউয়াদিঘি ও হাকালুকি হাওরের প্রায় ১৮ হাজার হেক্টর বোরো জমির ফসল নষ্ট হয়। দীর্ঘ জলাবদ্ধতায় অনেকের আমন জমি পানির নিচে পড়ে আছে।
উঁচু এলাকায় রোপণ করা অনেকের আমন ফসল তলিয়ে গেছে সাম্প্রতিক সময়ের বৃষ্টির পানিতে। পানিতে নিমজ্জিত ঘরে চাল নেই, চুলা নেই, খাবার জোগাড়ে দিন কাটে। তার মাঝে ঈদ উৎসবের কথা ভাবা গরিবের ঘোড়া রোগের শামিল বলে মন্তব্য করেন ফতেপুর ইউনিয়নের পানিবন্দি শাহবাজপুর গ্রামের ফারুক মিয়া। জেলায় অন্তত সাড়ে ৪ হাজার একর জমির আমন ফসল নষ্ট হয়েছে বলে জানায় জেলা কৃষি সম্প্রসারণ বিভাগ সূত্র।
রাজনগর উপজেলার আমিরপুর গ্রামের মাদ্রাসা শিক্ষক অলিদুর রহমান জানান, একদিন পানি এক ইঞ্চি কমলে তিন দিনে বাড়ে ৯ ইঞ্চি। কাউয়াদিঘি হাওর ও আশপাশের রোপা আমন ফসল গত কয়েক দিনের অবিরাম বৃষ্টিতে তলিয়ে গেছে। নিচু এলাকার জমিতে পানি বুক সমান পানি থাকায় রোপণ করা সম্ভব হয়নি। গত কুরবানির ঈদে এই গ্রামের অন্তত ৫০টি পরিবার কুরবানি দিয়েছে এবার ১০ পরিবারও কুরবানি দিতে পারবে না। ঘরবাড়িতে পানি থাকায় অনেকের সংগতি থাকার পরও কুরবানি দিতে পারছে না।
এদিকে, বানের পানিতে পানিবন্দি হয়ে পড়েছে রাজনগর উপজেলার ৫০টি বিদ্যালয়। তার মধ্যে ফতেপুর ইউনিয়নে ১৮ টি, পাঁচগাঁও ইউনিয়নে ২৪টি, মুন্সিবাজার ইউনিয়নে ৮টি বিদ্যালয় রয়েছে। এছাড়া বেতুহুঞ্জা, অন্তেহরি, পাঁচগাঁও, রক্তা, সারমপুর, কামালপুর বিদ্যালয়ে বন্যা আশ্রয়কেন্দ্র খোলা হয়েছে। ফতেপুর ইউনিয়নের সব ক’টি প্রাথমিক বিদ্যালয় পানিবন্দি হয়ে পড়েছে। এসব বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থী উপস্থিতি কমে গেছে। নৌকা ছাড়া পানিবন্দি এলাকায় যাতায়াতের কোনো ব্যবস্থা নাই। যাদের নৌকা রয়েছে তারা মাঝে মধ্যে বিদ্যালয়ে আসছে। ফতেপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে গত দুই মাস আগে পানি উঠেছে। ওই বিদ্যালয়ের পাঠদান চলছে পাশের একটি বাড়িতে।
ফতেহপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সাইদুর রহমান জানান, দীর্ঘদিন থেকে পানিবন্দি। কোনমতে অন্যের বাড়িতে পাঠদান চালালেও ছাত্রছাত্রী উপস্থিতি আশাব্যঞ্জক নয়।
রাজনগরের ফতেপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান নকুল চন্দ্র দাশ জানান, ইউনিয়নের প্রায় সব গ্রামের মানুষ পানিবন্দি। তিনি ৮ টন চাল বরাদ্দ পেয়েছেন। ১০ কেজি করে ৮শ পরিবারকে ত্রাণ দেওয়া সম্ভব হবে। ত্রাণ বঞ্চিত থেকে যাবে পানিবন্দি আরো অন্তত ৪ হাজার পরিবার।
জেলা প্রশাসক মো. তোফায়েল ইসলাম মোবাইলফোনে বলেন, গত ১০ আগস্ট থেকে জেলার ৭ উপজেলায় ২৬০ টন চাল ও ১৪ লাখ ৩০ হাজার টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।
(আজকের সিলেট/৩১ আগষ্ট/ডি/এমকে/ঘ.)