৫ জুলাই ২০১৯


হারিয়ে যাচ্ছে ‘ঝিঙার আঁশ’

শেয়ার করুন

জেলা প্রতিনিধি

মৌলভীবাজার : সারাদিনের কর্মব্যস্ততাকে মুছে তরতাজা হয়ে উঠতে গোসলের কোনো বিকল্প নেই। আর গোলস করতে গেলেই শরীরের লোমকূপে জমে থাকা ধুলো-ময়লা পরিষ্কার করা খুবই প্রয়োজন এবং তা স্বাস্থ্যসম্মতই বটে।

এক্ষেত্রে ‘ঝিঙার আঁশ’ খুবই উপকারী হলেও বর্তমানে তা বিলুপ্তির পথে। গোসলে এক সময়ের উপাদান ছিল এই ঝিঙার আঁশ। গোসলের সময় ঝিঙার আঁশে সাবান মেখে শরীরের বিভিন্ন স্থানে ঘসলে অনায়াসে ত্বকে আটকে থাকা ধুলো-ময়লা দূর হয়ে যায়। শরীর হয়ে উঠে ঝরঝরে।

এক সময় আমাদের গ্রামবাংলার একটি লোক ঐতিহ্য ছিল ‘ঝিঙার আঁশ’। কালের বিবর্তনে চোখের আড়াল হয়ে পড়েছে গোসলের প্রয়োজনীয় এই ছোট উপাদনটি। এটির সঙ্গে পরিচিত হয়ে উঠা সুযোগ হয়নি নতুন প্রজন্মের।

দক্ষিণ ভাড়াউড়া কৃষকদের চাষাবাদ সম্পর্কে খোঁজখবর নিতে গেলে দেখা যায় একজন স্থানীয় কৃষক ঝিঙাক্ষেত থেকে পাকা ঝিঙার আঁশ সংগ্রহ করছেন। আগ্রহ ভরে তার কাছে গিয়ে দেখা যায় তিনি ঝিঙার আঁশটিকে ব্যবহারের উপযোগী করে তুলতে ব্যস্ত।

এ এলাকার একজন বর্গাচাষি (অন্যের জমিতে চাষ করেন) প্রদীপ দেব বলেন, ঝিঙার আশঁটি আমরা গোসলে ব্যবহার করে থাকি। পোক্ত বা শুকনো ঝিঙা থেকে এটি তৈরি করতে হয়। বেশি ব্যবহার করলে প্রায় মাসখানেক যায়। এর ফলে শরীরের ত্বকে লেগে থাকা বাড়তি ময়লাগুলো খুব সহজেই পরিষ্কার করা যায় এবং ত্বক ভালো থাকে।

এটি তৈরি সম্পর্কে তিনি বলেন, শুকনো ঝিঙার শরীর থেকে একটু একটু করে উপরের অংশটাকে আঙুল দিয়ে তুলে ফেললেই ভেতরের ফাঁপা বা আঁশ অংশটা বের হয়ে যায়। তারপর এটিকে পানিতে ভিজিয়ে রাখলেই নরম হয়ে ব্যবহারের উপযোগী হয়। এটি এখন হারিয়ে যেতে বসেছে। অথচ এক সময় এটিই আমাদের গ্রামবাংলার গোসলের প্রয়োজনীয় একটি উপাদান ছিল।

ঝিঙার ইংরেজি নাম Luffa। ঝিঙার কোনো কোনো প্রজাতিকে মিশরীয় ধুন্দল বা ভিয়েতনামী ধুন্দল নামেও বলা হয়। এটি লতাগুল্ম জাতীয় উদ্ভিদ। এটি গ্রীষ্ম ও বর্ষাকালে চাষা করা হয়ে থাকে। ঝিঙা যখন বুড়ো হয় তখন ভেতরের অংশটি খুব আঁশাল হয়ে পড়ে।

শেয়ার করুন