২৭ আগস্ট ২০১৭


তিন উপজেলায় দু বছরে ৯০ জনের আত্মহত্যা

শেয়ার করুন

মৌলভীবাজার প্রতিনিধি : গত দু বছরে মৌলভীবাজার জেলার তিনটি উপজেলায় ৯০ জন আত্মহত্যা করেছেন। কুলাউড়া, বড়লেখা এবং জুড়ী থানায় ফাঁসিতে এবং বিষপানে ৯০ জন আত্মহত্যা করেন। আর এই জেলায় আত্মহত্যার সংখ্যা অনেক বেশি বলে মনে করছেন মনোবিজ্ঞানীরা। এদিকে আত্মহত্যা প্রতিরোধে চা-বাগান, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও ইমামদেরকে নিয়ে বিভিন্ন পদক্ষেপ হাতে নিয়েছেন মৌলভীবাজার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার কুলাউড়া সার্কেল মো. আবু ইউছুফ।

গত দু বছরে (জুলাই ২০১৫-জুন ২০১৭) কুলাউড়া, বড়লেখা এবং জুড়ী থানায় ফাঁসিতে এবং বিষপানে ৯০ জন আত্মহত্যা করেছেন। এরমধ্যে চা-বাগানগুলোতে ১৯জন রয়েছে। কুলাউড়া থানায় ৮৪ আত্মহত্যা করেছেন ২৮ জন, বড়লেখা থানায় আত্মহত্যা করেছে ২৪জন এবং জুড়ীতে আত্মহত্যা করেছেন ২৫ জন। শুধু ফুলতলা চা-বাগানেই আত্মহত্যা করেছেন ৩ জন।

আত্মহত্যার কারণ সম্পর্কে কুলাউড়া ডিগ্রি কলেজের অধ্যক্ষ মনোবিজ্ঞানী সৌম্য প্রদীপ ভট্টাচার্য্য বলেন, সামজিক অস্থিরতা আত্মহত্যার প্রধান কারণ। এছাড়া পারিবারিক বন্ধনের অভাব, মাদক, হতাশা, পারস্পরিক সহমর্মিতার অভাব এবং দুঃখ ও হতাশা প্রকাশের সুযোগ না পেয়ে মানুষ আত্মহত্যা করেন।

মৌলভীবাজার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার কুলাউড়া সার্কেল মো. আবু ইউছুফ বলেন, গত ছয় মাসে ১০-১২টি আত্মহত্যার ঘটনাস্থলে গিয়েছি। কিন্তু একটিরও যথাযথ কারণ খুঁজে পাইনি। আত্মহত্যা প্রতিরোধের বিভিন্ন মাধ্যম খুঁজতে শুরু করি। প্রথমে গত ১৩ জুন কুলাউড়া সার্কেলের আওতাধীন কুলাউড়া, বড়লেখা ও জুড়ী থানার সকল জামে মসজিদের ইমামকে চিঠি পাঠাই। চা-বাগানের শ্রমিকের আত্মহত্যার যথাযথ কারণ খুঁজে না পেয়ে চা-বাগানের ম্যানেজারদের কাছে চিঠি পাঠিয়েছি। গত দু বছরে আত্মহত্যাকারী ৯০ জনের পেশা বিশ্লেষণ করে বেশ কয়েকজন শিক্ষর্থী থাকায় স্কুল, কলেজ ও মাদ্রাসায় চিঠি পাঠানো কার্যক্রম হাতে নিয়েছি। কুলাউড়া ডিগ্রি কলেজের শিক্ষার্থীদের সাথে কথা বলে অধ্যক্ষ সৌম্য প্রদীপ ভট্টাচার্য্য এবং ঝিমাই চা বাগানের সহকারী ম্যানেজার মো. মনির হোসেনের কাছে চিঠি দিয়েছি। সকল চা-বাগানের ম্যানেজার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান প্রধান এবং ইমামদের কাছেও চিঠি পাঠানো হয়েছে।

 

(আজকের সিলেট/২৭ আগষ্ট/ডি/এমকে/ঘ.)

শেয়ার করুন