২৯ মে ২০১৯
নিজস্ব প্রতিবেদক

সিলেট : নগরীর উপকণ্ঠ খাদিমপাড়ায় গ্রীনহিল আবাসিক এলাকায় প্রশাসন ও স্থানীয় জনতার নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে জালালাবাদ গ্যাসের হাই বোল্ডেজ লাইনের উপর দিয়ে দোকান কোঠা নির্মান করছে একটি চক্র। জালালাবাদ গ্যাস ও স্থানীয় এলাকাবাসী বার বার নিষেধ করার পরও দোকান নির্মাণ বন্ধ হচ্ছেনা। ফলে ভয়ংকর ঝুকির মধ্যে রয়েছেন এই এলাকার বাসিন্ধারা।
সর্বশেষ গত ২৮ মে জালালাবাদ গ্যাসের উপ-মহাব্যবস্থাপক (পরিকল্পনা) প্রকৌশলী সৈয়দ ফজলুল হক সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও শাহপনার থানার ওসিকে এ বিষয়ে প্রদক্ষেপ নেয়ার জন্য চিঠি দেন। কিন্তু তার পরও দখলদাররা নির্বিঘ্নে দোকান নির্মাণ কাজ চালিয়ে যাচ্ছে।
স্থানীয়রা জানান, গত বছর সেপ্টেম্বরের দিকে সিলেট-তামাবিল সড়কের পাশে গ্রীনহিল আবাসিক এলাকায় জালাবাদ গ্যাসের হাই বোল্ডেজ লাইনের উপরে দোকান কোটা নির্মান শুরু করেন নগরীর খাসদবীর আবাসিক এলাকার ৪/২৪ নং বাসার বাসিন্ধা মো. আইয়ুব আলীর পুত্র মো. নুর উদ্দিন। দোকান নির্মান শুরুর পর স্থানীয়রা কয়েক দফা নিষেধ করলেও তা কর্নপাত করেন নি নুর উদ্দিন। পরে বাধ্য হয়ে স্থানীয়রা জালালাবাদ গ্যাসকে বিষয়টি অবগত করেন।
এর পর ২০১৮ সালের ১৮ সেপ্টেম্বর জালালাবাদ গ্যাস কর্তৃপক্ষ নির্মান কাজ বন্ধ করে ১০ দিনের মধ্যে অবৈধ স্থাপনা অপসারণ করার জন্য নির্দেশ দেন। এবং একই তারিখে এই বিষয়ে ব্যবস্থা নিতে সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও শাহপরান থানার ওসিকে চিঠি দেন।
কিন্তু তার পরও দোকান নির্মাণ বন্ধ করেননি দখলদার। এর পর গত ১২ এপ্রিল স্থানীয় এলাকাবাসীর পক্ষ থেকে অবৈধ স্থাপনা বন্ধে ব্যবস্থা নিতে শাহপনার থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দেন। পুলিশ মাঝে মধ্যে এসে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে নির্মান কাজ বন্ধ করার নির্দেশ দিলেও রাতের আধারে চলে দোকান নির্মাণ। ফলে মারাত্মক ঝুকিতে পড়েছেন স্থানীয় বাসিন্ধারা।
এর পর সর্বশেষ ২৬ মে স্থানীয় বাসিন্ধারা সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে গ্যাসলাইনের উপর অবৈধ স্থাপনা নির্মান বন্ধ করতে ব্যবস্থা নেয়ার জন্য দরখাস্ত করেন। তার পরও রাতের আধারে চলছে অবৈধ স্থাপনা নির্মান।
বিষয়টি নিয়ে জানতে দোকান নির্মাণকারী মো. নুর উদ্দিনের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি শুধু একা দোকান নির্মাণ করছিনা, আরো লোকজন করছে। আমি সংশ্লিষ্ট সবাইকে ম্যানেজ করেই দোকান নির্মাণ করছি।
শাহপনার থানার ওসি আখতার হোসেনের কাছে বিষয়টি নিয়ে জানতে চাইলে তিনি প্রথমে চিঠি পাওয়ার কথা অস্বীকার করেন। পরে যখন চিঠির কপি সংরক্ষিত আছে মর্মে বলা হলে তিনি কোন সুদুত্তর দিতে পারেন নি।
সিলেট সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মহুয়া মমতা বলেন, আমি একদম নতুন জয়েন্ট করেছি। একদিন অফিস করেছি মাত্র। বিষয়টি খোজ নিয়ে দেখব।
জালালাবাদ গ্যাসের উপ-মহাব্যবস্থাপক (পরিকল্পনা) প্রকৌশলী সৈয়দ ফজলুল হক বলেন, আমরা আইনি ভাবে তাদের উচ্ছেদের জন্য সর্বোচ্ছ চেষ্টা করছি।