১৪ এপ্রিল ২০১৯
নিজস্ব প্রতিবেদক

সিলেট : নতুন সূর্য নিয়ে এসেছে নতুন বছর। সব গ্লানি-জরা দূর হবে নতুন সূর্যের মঙ্গলালোকে। দিকে দিকে এখন নতুনের আবাহন। ১৪২৬ বঙ্গাব্দকে স্বাগত জানিয়ে চারদিকে উৎসব সর্বস্তরের মানুষের। বর্ষবরণের এই উৎসব চলবে সারা দিন।
বাঙালির ঐতিহ্য নববর্ষ বরণের মধ্য দিয়ে সব গ্লানি-জরার অবসান আর অগ্নিস্নানে ধরা হবে শুচি, বয়ে আনবে কল্যাণ-এই কামনা সঞ্চারিত হচ্ছে প্রতিটি প্রাণে।
বর্ষবরণে দেশের সবচেয়ে বড় আয়োজনটা রমনা বটমূলে। গানে গানে নতুন বছরকে আমন্ত্রণ জানাচ্ছে ছায়ানট। সকাল নয়টায় বের হবে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা থেকে মঙ্গল শোভাযাত্রা।
কৃষিকাজ ও খাজনা আদায়ের সুবিধার জন্য বাংলা সন গণনার শুরু মোঘল সম্রাট আকবরের সময়ে। হিজরি চান্দ্রসন ও বাংলা সৌর সনের ওপর ভিত্তি করে প্রবর্তিত হয় নতুন এই বাংলা সন।
১৫৫৬ সালে কার্যকর হওয়া বাংলা সন প্রথমদিকে পরিচিত ছিল ফসলি সন নামে, পরে তা পরিচিত হয় বঙ্গাব্দ নামে। কৃষিভিত্তিক গ্রামীণ সমাজের সঙ্গে বাংলাবর্ষের ইতিহাস জড়িয়ে থাকলেও এর সঙ্গে রাজনৈতিক ইতিহাসেরও সংযোগ ঘটেছে।
পাকিস্তান শাসনামলে বাঙালি জাতীয়তাবাদের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক তৈরি হয় বর্ষবরণ অনুষ্ঠানের। আর ষাটের দশকের শেষে তা বিশেষ মাত্রা পায় রমনা বটমূলে ছায়ানটের আয়োজনের মাধ্যমে।
দেশ স্বাধীনের পর বাঙালির অসাম্প্রদায়িক চেতনার প্রতীকে পরিণত হয় বাংলা বর্ষবরণ অনুষ্ঠান। উৎসবের পাশাপাশি স্বৈরাচার-অপশক্তির বিরুদ্ধে প্রতিবাদও এসেছে পয়লা বৈশাখের আয়োজনে। ১৯৮৯ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা ইনস্টিটিউটের উদ্যোগে বের হয় প্রথম মঙ্গল শোভাযাত্রা। যা ২০১৬ সালের ৩০ নভেম্বর ইউনেস্কো এ শোভাযাত্রাকে বিশ্ব সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের মর্যাদা দেয়।
বাংলা নববর্ষ উপলক্ষে দেশ বিদেশে অবস্থানরত আজকের সিলেট ডটকম-এর সকল পাঠক, বিজ্ঞাপনদাতা ও শুভানুধ্যায়ীসহ দেশবাসীকে নববর্ষের শুভেচ্ছা। শুব নববর্ষ।