২ এপ্রিল ২০১৯
উপজেলা প্রতিনিধি, শাল্লা

সুনামগঞ্জ : সুনামগঞ্জের শাল্লার বিভিন্ন হাওরের ফসলরক্ষা বাঁধে সামান্য বৃষ্টিতেই নাজুক অবস্থা দেখা দিয়েছে। চৈত্রের মাঝামাঝিতে বাঁধের এমন অবস্থায় আতঙ্কে রয়েছে কৃষকগণ।
সংশ্লিষ্ট পওর বিভাগের প্রকাশিত তথ্য মতে- এবছর শাল্লায় বাঁধ নির্মাণ ও মেরামত কাজের অগ্রগতি ৯৬% দেখানো হলেও তা মানতে নারাজ হাওরপাড়ের কৃষকগণ।
তারা বলছেন- ৯৬ শতাংশ কাজ সম্পন্ন হলে কেন সামান্য বৃষ্টিতেই বাঁধগুলো ধসে যাচ্ছে। তাদের মতে প্রতিটি বাঁধের কাজে ২৫ শতাংশ টাকা মাটি কম্প্রেকশনে বরাদ্দ থাকলেও তা ঠিকমতো না করায় আজ বাঁধের এ করুন অবস্থা।
সোমবার উপজেলার বিভিন্ন হাওর সরজমিন পরিদর্শনে দেখা যায় বরাম হাওর উপ-প্রকল্পের ব্রাহ্মণগাঁও গ্রামের উত্তর পাশের ১৬নং পিআইসির বাঁধ ধসে নদীতে পড়ছে। একই হাওরের শাসখাই (দত্তপাড়ার) পাশে বয়ে যাওয়া নদীর উত্তর পাড় হতে হবিবপুর-নোয়াগাঁও পর্যন্ত চারটি বাঁধে সৃষ্টি হয়েছে বড় বড় গর্ত ও বিশাল বিশাল ফাটল। পার্শ্ববর্তী ভান্ডাবিল হাওর উপ-প্রকল্পের হরিনগর বাঁধ, হবিবপুর ও নোয়াগাঁও গ্রামের মধ্যবর্তী বাঁধ, নোয়াগাঁও হতে মৌরাপুর পর্যন্ত তিনটি বাধে একই অবস্থা দেখা যাচ্ছে।
ছায়ার হাওর উপ-প্রকল্পের মাদারিয়া বাঁধ, সুখলাইন গ্রামের গজিয়াখালীর বাঁধ, ঘুঙ্গিয়ারগাঁও ব্রীজ হতে মুক্তারপুর ব্রীজ পর্যন্ত দু’টি বাধ, কার্তিকপুর হতে শ্রীহাইল পর্যন্ত তিনটি বাঁধে ফাটল ও গর্ত দেখা যায়। তাছাড়া ওই হাওরের খল্লি হতে মনুয়া-সহদেবপাশা হয়ে পাড়াখালি নামক স্থানের বাঁধ সমূহেও সামান্য বৃষ্টিতে সৃষ্টি হয়েছে ছোট বড় গর্ত ও মাঝে মধ্যে ফাটল। তবে খল্লি হতে মনুয়া পর্যন্ত তিনটি বাধের কাজ দেখে যে কারোর মনে হবে এগুলো এবারের নির্মিত নয়।
খল্লি গ্রামের কৃষক পুতুল দাস বলেন, ‘এবার পিআইসিরা বাঁধের কাজ খুবই খারাপ করেছে।’
সুখলাইন গ্রামের কৃষক শৈলেন দাস বলেন বাধে দুরমুজ না হওয়ায় একটু বৃষ্টিতেই বাঁধে ফাটল, গর্ত ও ধেবে যাচ্ছে অনেক বাঁধ। তিনি আরো বলেন, বাঁধে অর্থ বরাদ্দে অনিয়ম হয়েছে।
এব্যাপারে উপজেলা নির্বাহি কর্মকর্তা মু. আল-মুক্তাদির হোসেনের সাথে মুঠোফোনে কথা হলে তিনি বলেন, পিআইসিদের কাজে গাফিলতির কারণেই এ অবস্থা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট পিআইসিদের দ্রুত বাঁধ মেরামতের জন্য নির্দেশ দিয়েছেন বলে তিনি জানান।
এবিষয়ে সুনামগঞ্জ পওর বিভাগের নির্বাহি প্রকৌশলী খুশিমোহন সরকার বলেন, ‘এটা কোনো বিষয়ই নয়। মেরামত করলে ঠিক হয়ে যাবে। আগে যেসব পিআইসিরা কাজে গাফিলতি করেছে, তাদের বাঁধগুলোই এখন ধসে যাচ্ছে।’