১ এপ্রিল ২০১৯
উপজেলা প্রতিনিধি, জগন্নাথপুর

সুনামগঞ্জ : হাওরের বুকে সবুজ ফসলের ঢেউ দেখে যে কৃষকের মন খুশিতে দোলছিল ঝড় বৃষ্টি শিলার তাণ্ডবে ঝলমলে সেই মুখে ভর করেছে বিষাদ। বৃষ্টি আর ঝড় শুরুর ফলে কৃষকের মনের আকাশে উঁকি দিচ্ছে শঙ্কার কালো মেঘ।
সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুর উপজেলার নলুয়ার হাওরের রাজনগর গ্রামের কৃষক সফিক মিয়া। সোমবার তার কষ্টার্জিত সোনালি ফসল ঘরে তোলার কথা।
রবিবার সকালে বৃষ্টির কারনে ধান কাটতে পারেননি। আশাছিল বৃষ্টি থামলে সোমবার ধান কাটবেন। কিন্তুু বিকেলের শীলাবৃষ্টিতে তার সেই স্বপ্ন ভেঙ্গে গেছে। শীলাবৃষ্টিতে তার এক কেদার জমির ধান ঝড়ে গেছে।
নলুয়ার হাওরে গিয়ে কথা হয় কৃষক সফিক মিয়ার সঙ্গে। তিনি জানান, এবার দুই হাল জমিতে বোরো আবাদ করেছেন। তারমধ্যে ব্রি-২৮ জাতের তিন কেদার জমির ধান পেকে গেছে। সোমবার সেই ধানগুলো গোলায় তোলার কথা। কিন্তু শিলা বৃষ্টিতে সব ধান ঝড়ে গেছে। শুধু সফিকই নন তাঁরমতো আরো অনেক কৃষকের পাকাধান শীলাবৃষ্টিতে ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
হাওর বাঁচাও সুনামগঞ্জ বাঁচাও আন্দোলন সংগঠনের আহ্বায়ক সিরাজুল হক বলেন, ‘বোরো ধানের ওপর জগন্নাথপুরের কৃষকরা নির্ভরশীল। ধান কাটার শুরুতেই প্রাকৃতিক বিপর্যয় শীলাবৃষ্টিতে পড়ে কৃষকরা ক্ষতিগ্রস্ত হওয়া দু:খজনক।’
জগন্নাথপুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা শওকত ওসমান মজুমদার বলেন, শীলাবৃষ্টিতে পাকাধান ঝড়েপড়ার খবর পাওয়া গেছে। কাচা ধানের কোন ক্ষতি হয়নি। আমরা ক্ষয়ক্ষতি নির্ধারণের কাজ করছি।
জগন্নাথপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মাহফুজুল আলম মাসুম বলেন, ‘শিলাবৃষ্টিতে পাকাধানের ক্ষতি হয়েছে। আমরা বৃষ্টিতে ক্ষতিগ্রস্ত ফসলরক্ষা বেড়িবাঁধ শ্রমিক লাগিয়ে ঠিক করতে সব প্রকল্পের সভাপতিকে নির্দেশ দেব।’