২০ মার্চ ২০১৯
উপজেলা প্রতিনিধি, শাল্লা

সুনামগঞ্জ : রাজনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে হাওরাঞ্চল শাল্লায় ফসল রক্ষা বাঁধ নির্মাণের কাজ চলছে। ফলে বাঁধের মেরামত কাজ যথারীতি সঠিক সময়ে সম্পন্ন না করে বরাদ্দকৃত টাকা আত্মসাতের প্রচেষ্টা চলছে। নির্ধারিত সময় পেরিয়ে গেলেও পিআইসির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকেরা শেষ করেননি বাঁধ মেরামত কাজ।
পরে সময় আরো ১৫ দিন বাড়িয়ে দিলেও এখন পর্যন্ত হাওরের বাঁধগুলোর মাটি ফেলানোর কাজ সম্পন্ন করতে পারেনি পিআইসির লোকেরা। ফলে যথাসময়ে বাঁধের কাজ সম্পন্ন নিয়ে যথেষ্ট উদ্বেগ রয়েছে কৃষককুলে। শুধুমাত্র রাজনৈতিক প্রভাব বিস্তারের মাধ্যমে এমন ঢিলেডালা ভাবে চলছে শাল্লার হাওর রক্ষা বাঁধের কাজ। সাধারণ কৃষকরা এই বিষয়ে উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটির কাছে বার বার অভিযোগ দেয়া সত্ত্বেও কোনো কাজ হচ্ছে না।
পিআইসির সিন্ডিকেট চক্রের সদস্যদের সাথে উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটির আঁতাত রয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে। সরকারি চাল কেলেংকারীর আসামী ও সাঁজাপ্রাপ্ত আসামীরা কিভাবে পিআইসিতে স্থান পায় এমন প্রশ্ন কৃষকদের? তবে শাল্লা উপজেলার সকল বাঁধের চিত্র একই রকম।
এদিকে নির্মান কাজের আগেই কয়েকটি বাঁধের বরাদ্ধকৃত টাকা উত্তোলন করে নেওয়া হলেও বাঁধের কাজে রয়েছে ধীরগতি। ফলে পিআইসিদের এই দুর্নীতি ও অনিয়মের কারনে ২০১৭ সালের মত আবারো ফসলহানির আশঙ্কা করছেন শাল্লার কৃষকরা।
সরজমিনে শাল্লার ছায়ার হাওরের হাওর রক্ষা বাঁধের প্রকল্প নং ৭৫ এই বাঁধে এখনো পর্যন্ত ৬০ ভাগ কাজ সম্পন্ন হয়নি। এমনকি ঘাস লাগানোর কথা উল্লেখ থাকলেও এখনো পর্যন্ত কোনো দুর্বা ঘাস লাগানো হয়নি। তবে এই বাঁধের সভাপতি লক্ষীকান্ত মজুমদারকে বাঁধ এলাকায় পাওয়া যায়নি। ৮০ নং প্রকল্পের সভাপতি হারুন অর রশীদ। শুরু থেকেই এই বাঁধের সভাপতির বিরুদ্ধে অভিযোগ করে আসছে এলাকাবাসী।
দুর্নীতিবাজ ব্যাক্তিদের পিআইসিতে স্থান দেয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন সাধারণ জনগন। তবে এই বাঁধেও এখনো পর্যন্ত মাটির কাজ সম্পন্ন হয়নি। এছাড়াও সামান্য সামান্য দুরমুজ করে দায়সাড়া ভাবে কাজ করে যাচ্ছেন। এমনকি দুর্বা ঘাস লাগানোর নামে টাকা বরাদ্দ হলেও কেউ বাঁধে ঘাস লাগাচ্ছেন না। ৮১ নং প্রকল্পের সভাপতি সাজু মিয়া। তিনি সাঁজাপ্রাপ্ত আসামী। তবে এবছরের পিআইসির সভাপতিও তিনি।
রাজনৈতিক কার্যক্রমের ফাঁকফোকড়ে সবকিছু ঢেকে ফেলেছেন। কাগজে কলমে পিআইসি থেকে বরখাস্ত হলেও কার্যক্রমে তিনি। এই বাঁধেও ব্যাপক দুর্নীতি ও অনিয়ম চলছে। ৮৮ নং পিআইসির সভাপতি সানু মিয়া। উনার বাঁধেও এখনো পর্যন্ত মাটির কাজ সম্পন্ন হয়নি। আর দুর্বা ঘাস লাগানো তো দুরের কথা।
তবে উপজেলা নির্বাচনের প্রচার প্রচারণায় ব্যস্ত থাকায় বাঁধের কাজে ধীরগতি হয়েছে বলে তিনি দাবি করেন। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন কৃষক জানিয়েছেন, এই দুর্নীতিবাজ ও লুটপাটকারীরা নানা অজুহাত দেখিয়ে বরাদ্দকৃত টাকাগুলো আত্মসাতের পায়তারা চালাচ্ছে। আর এসবের পেছনে রয়েছে উপজেলার একটি বড় সিন্ডিকেট চক্র। এদিকে ৯৪ নং প্রকল্পের সভাপতি রাহুল দাস। উনার বাঁধেও একই অবস্থা। ঝুঁকিপূর্ণ বাঁধের তালিকায় থাকলেও এখনো পর্যন্ত বাঁধের কাজ সম্পন্ন করতে পারেননি। গত বৃহস্পতিবার সুনামগঞ্জ জেলা প্রশাসক বাঁধ সরেজমিন বাঁধ পরিদর্শণ করেছেন।
জেলা প্রশাসকের আগমন বার্তা পেয়ে সকল পিআইসির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক এলাকা ছেড়েছেন। জেলা প্রশাসকের পরিদর্শনকালে বাঁধ এলাকায় পাওয়া যায়নি পিআইসি সভাপতি ও সম্পাদককে। এই বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আল মুক্তাদির হোসাইন জানান, যে সকল বাঁধে এখনো পর্যন্ত কাজ সম্পন্ন করা হয়নি, তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হবে। আর যে বাঁধগুলোতে দুর্বা ঘাস লাগানো হয়নি সকলকে তাগিদ দেয়া হচ্ছে তাড়াতাড়ি ঘাস লাগাতে।