১৪ মার্চ ২০১৯
উপজেলা প্রতিনিধি

ফেঞ্চুগঞ্জ : আইনী জটিলতা শেষে দীর্ঘ দশ বছর পর ফেঞ্চুগঞ্জ উপজেলা নির্বাচনকে কেন্দ্র করে উপজেলাজুড়ে উৎসবের আমেজ সৃষ্টি হয়েছে। আগামী ১৮ মার্চ উপজেলার ৭২ হাজার ৬শ ৯২ জন ভোটার তার ভোটাধিকার প্রয়োগ করে পছন্দের প্রার্থীদের নির্বাচিত করবেন।
উপজেলায় চেয়ারম্যানপদে ৭ জন প্রার্থী নির্বাচনে অংশ নিলেও মূল লড়াই হবে হেভী ওয়েট ৪ শক্তিশালী প্রার্থীর মধ্যে এমন আলোচনা ভোটারদের মুখেমুখে।
ফেঞ্চুগঞ্জ উপজেলার চেয়ারম্যানপদে ৭ জন প্রার্থী মনোনয়নপত্র দাখিল করেছেন। চেয়ারম্যানপদে যারা প্রতিদ্ব›দ্বীতা করছেন তারা হলেন, শাহ মুজিবুর রহমান জকন (নৌকা) ওহিদুজ্জামান ছুফি চৌধুরী(দোয়াত কলম),নুরুল ইসলাম(কাপ পিরিচ) মাওলানা হারুনুর রশীদ( মোটর সাইকেল) হারুল আহমদ ঘোড়া), মনির আলী নানু (ব্যাটারী) মাহতাব আহমেদ (আনারস)।
নির্বাচনী মাঠে চেয়ারম্যানপদে ৭ জন থাকলেও মূল লড়াই হবে আওয়ামীলীগ প্রার্থী শাহ মুজিবুর রহমান জকন, উপজেলা বিএনপির সদ্য বহিস্কৃত নেতা ওহিদুজ্জামান ছুফি চৌধুরী ও সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান নুরুল ইসলাম ও শিক্ষক নেতা হারুনুর রশীদের মধ্যে এমন আলোচনা ভোটারদের মধ্যে।
উপজেলা নির্বাচনে আওয়ামীলীগের মনোনয়ন পেয়ে চমক দেখান সাবেক উপজেলা আওয়ামীলীগের যুগ্ম সাধারন সম্পাদক শাহ মুজিবুর রহমান জকন। উপজেলা আওয়ামীলীগের সাধারন সম্পাদক আব্দুল বাছিত টুটুলের নাম ছিলো মনোনয়ন প্রত্যাশিত প্রস্তাবিত তালিকার শীর্ষে।
তালিকার প্রথম ব্যক্তিকে বাদ দিয়ে তালিকার দ্বিতীয় অবস্থানে থাকা জকনকে কেন্দ্র মনোনয়ন প্রদান করে। ফেঞ্চুগঞ্জ সরকারি কলেজের সাবেক ভিপি জকন এলাকায় ব্যক্তিগত ইমেজকে কাজে লাগিয়ে নির্বাচনী বৈতরণী পার হতে ভোটারদের দ্বারে দ্বারে ভোট প্রার্থনায় ব্যস্ত রয়েছেন। ওহিদুজ্জামান ছুফি চৌধুরী নির্বাচনী মাঠে অন্যতম হেভিওয়েট প্রার্থী।
উপজেলা নির্বাচনে বিএনপির অংশ না নিলেও ফেঞ্চুগঞ্জ উপজেলা বিএনপির সহসভাপতি ওহিদুজ্জামান ছুফি চৌধুরী নির্বাচনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসাবে অংশ নেওয়ায় দল থেকে বহিস্কার করা হয়েছে। দল ছুফি চৌধুরীকে বহিস্কার করলেও নির্বাচনী মাঠে এর প্রভাব পড়েনি। ছুফি চৌধুরী উপজেলা নির্বাচন করার লক্ষ্যে বিগত দশ বছর ধরে নির্বাচনী মাঠে রয়েছেন।
২০১৪ সালে চতুর্থ উপজেলা নির্বাচনে বিএনপির সমর্থিত প্রার্থী হিসাবে মনোনয়ন দাখিল করেছিলেন ছুফি চৌধুরী। কিন্ত আইনী জটিলতার কারণে চতুর্থ উপজেলা নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়নি। উপজেলা ছাত্রদলের সাবেক আহবায়কের দায়িত্ব পালনকারী ছুফি চৌধুরীর নির্বাচনী মাঠে বিশাল কর্মী বাহিনী কাজ করছে।
সম্প্রতি ইউপি নির্বাচনে উপজেলার ৫টি ইউনিয়নের মধ্যে তিনটিতেই বিএনপির প্রার্থী জয়লাভ করায় বিএনপির প্রতি সমর্থন রয়েছে এমন বিশ্বাস বিএনপির নেতাকর্মীদের। রাজনৈতিক কারণে বর্তমান উপজেলা চেয়ারম্যান, জামায়াত নেতা সাইফুল্লাহ আল হোসাইন নির্বাচনে অংশ না নেয়ায় জামায়তের হিংসভাগ ভোট ছুফি চৌধুরীর দোয়াত কলম প্রতীকে পড়তে পারে এমন ধারণা রাজনৈতিক নেতাকর্মীদের। দলীয় নেতাকর্মীদের পাশাপাশি নতুন প্রজন্মের ভোটারদের পছন্দেন শীর্ষে থাকা ছুফি চৌধুরী নির্বাচনে চমক দেখাবেন এমন ধারণা স্থানীয় জনসাধারনের।
সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান ও সাবেক আওয়ামীলীগ নেতা নুরুল ইসলাম ও মূল লড়াইয়ে রয়েছেন। সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান নুরুল ইসলাম একজন সালিশ ব্যক্তিত্ব হিসাবে এলাকায় বেশ পরিচিতি রয়েছে। তৃণমুলের ত্যাগী, পদ বঞ্চিত ও আওয়ামীলীগের নিস্ক্রীয় নেতাকর্মীরা নুরুল ইসলামের সাথে রয়েছে। এছাড়া সংখ্যালঘু ও মৎস্যজীবি সম্প্রদায়ের সিংহভাগ ভোট সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যানের কাপ পিরিচে পড়বে এমন দাবী নুরুল সমর্থকদের ।
সিলেটের অন্যানো হেভীওয়েট প্রার্থীদের মত ভোটারদের আলোচনায় রয়েছেন মোটর সাইকেল প্রতীক নিয়ে নির্বাচনে প্রতিদ্ব›দ্বীতাকারী মাওলানা মোঃ হারুনুর রশীদ। ফেঞ্চুগঞ্জ উপজেলা আঞ্জুমানে আল ইসলাহ’র সভাপতি এবং উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্বে রয়েছেন এই শিক্ষক নেতা।
উপজেলার প্রত্যন্ত অঞ্চলে সাইকেল প্রতীক নিয়ে গণসংযোগে চালিয়ে যাচ্ছেন মাওলানা হারুন। ফেঞ্চুগঞ্জ উপজেলায় ছাহেব ক্বিবলা ফুলতলীর ভক্ত ও অনুসারীদের শক্ত অবস্থান থাকায় ভোটের হিসাবে নিকাশে আলোচনায় রয়েছেন আল-ইসলাহ’র এই নেতাও।
আওয়ামীলীগের ভোট জকন ও নুরুলের মধ্যে ভাগাভাগি হয়ে গেলে সুবিধাজনক অবস্থানে চলে যেতে পারেন বিএনপির বহিস্কৃত প্রার্থী ছুফি চৌধুরী। জয়ের মালা কার গলায় উঠবে। কে শেষ হাসি হাসবেন তা জানা যাবে ভোটারদের রায়ের মাধ্যমে।