১১ ডিসেম্বর ২০২৩
সুনামগঞ্জ প্রতিনিধি : ঘনিয়ে এসেছে নির্বাচন। আর মাত্র কয়েকদিন বাকি। চারদিকে এখন প্রার্থীদের দৌড়ঝাঁপ। চেষ্টার বাকি রাখছেন না কেউই। আসন্ন নির্বাচনে সুনামগঞ্জের ৫টি আসনের মধ্যে তিনটিতেই নতুন প্রার্থী দিয়েছে শেখ হাসিনার দল আ.লীগ। আর এ তিন আসনে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীরাও আওয়ামী লীগের প্রভাশালী নেতা। ফলে এখানে ভোটের লড়াই হবে আওয়ামী লীগ বনাম আওয়ামী লীগই।
সুনামগঞ্জ-১ আসনে নৌকা পেয়েছেন এড. রনজিত সরকার। তার আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচন করবেন বর্তমান সংসদ সদস্য মোয়াজ্জেম হোসেন রতন ও জেলা আওয়ামী লীগের সদস্য সেলিম আহমদ। বর্তমান এমপি রতনের বিশাল একটি ভোট ব্যাংক রয়েছে আসনটিতে। এছাড়া সেলিম আহমদেরও রয়েছেন হাজার হাজার কর্মী-সমর্থক।এই আসনে দুইজন স্বতন্ত্র প্রার্থী শক্তিশালী হওয়ার কারণে নৌকাকে লড়তে হবে তাদের সঙ্গে। ত্রিমুখী ভোটের লড়াই হতে পারে বলে ধারণা স্থানীয়দের।
সুনামগঞ্জ-২ (দিরাই-শাল্লা) আসনে নৌকার প্রার্থী হলেন শাল্লা উপজেলার সদ্য পদত্যাগকারী চেয়ারম্যান চৌধুরী আব্দুল্লাহ আল মাহমুদ।মূলত জাতীয় নির্বাচনে অংশ নিতে উপজেলা চেয়ারম্যানের পদ থেকে পদত্যাগ করেন তিনি।
এ আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হলেন প্রয়াত জাতীয় নেতা সুরঞ্জিত সেনগুপ্তের স্ত্রী ড. জয়া সেনগুপ্তা। জয়া সেনগুপ্তা দিরাই ও চৌধুরী আব্দুল্লাহ আল মাহমুদ (আল আমিন চৌধুরী) শাল্লা উপজেলার সম্ভ্রান্ত পরিবারের সদস্য এবং আওয়ামী লীগের একনিষ্ট সমর্থক। দুটি প্রভাবশালী পরিবারের দুইজন প্রার্থী নির্বাচনে অংশগ্রহণ করায় দিরাই-শাল্লার আওয়ামী লীগের নেতাকর্মী থেকে সমর্থক ও সাধারণ ভোটাররা দুই ভাগে বিভক্ত। উপজেলা ও ইউনিয়ন ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতারা তাদের সঙ্গে রয়েছেন। এ আসনে নৌকার বিজয় দেখতে হলে স্বতন্ত্র প্রার্থী জয়াসেন গুপ্তাকে শক্তভাবে মোকাবিলা করে এগিয়ে যেতে হবে।
সুনামগঞ্জ-৪ আসনে গেল দু’বার প্রার্থী না দিলেও এবার পিএসসির সাবেক চেয়ারম্যান ড. মোহাম্মদ সাদিককে নৌকার মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে। এখানে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচন করবেন জেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও জাতীয় কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার এম এনামুল কবীর ইমন। দু’জনই আ.লীগের প্রভাবশালী নেতা হওয়ায় ভোটের লড়াই জমবে বলে ধারণা সচেতন মহলের।
সুনামগঞ্জ-৫ আসনে নৌকার প্রার্থী হলেন বারবারের নির্বাচিত সংসদ সদস্য মুহিবুর রহমান। এবার তাকে জিততে হলে কঠিনভাবে মোকাবিলা করতে হবে জেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক শামীম আহমদ চৌধুরীকে। শামীম আহমদ চৌধুরী ছাতকের প্রভাবশালী জনপ্রিয় আওয়ামী পরিবারের সদস্য। তিনি ছাতক পৌর সভার বারবারের নির্বাচিত মেয়র আবুল কালাম চৌধুরীর ছোট ভাই। ছাতক-দোয়ারাবাজার আসনে কালাম গ্রুপ ও মানিক গ্রুপের নিজস্ব অবস্থান ও কর্মী বাহিনী রয়েছে। স্থানীয় নির্বাচনে দুই গ্রুপের সমর্থন নিয়ে চেয়ারম্যান মেম্বার নির্বাচিত হন। বিগত ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে কালাম গ্রুপের বেশ কয়েক জনপ্রিয় ব্যক্তি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছেন।
অন্যদিকে মানিক গ্রুপের নেতারাও ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছেন। উভয় গ্রুপের জনপ্রতিনিধিগণ নিজ নিজ গ্রুপের সমর্থনে এবারে ভোটের ময়দানে কাজ করছেন। তাই এবার নৌকাকে জিততে হবে কঠিন লড়াই পিছনে ফেলে।
উল্লেখ্য,সুনামগঞ্জের ৫টি আসনের মধ্যে কেবল সুনামগঞ্জ-৩ আসনে আওয়ামী লীগের মনোনীত প্রার্থী পরিকল্পনা মন্ত্রী এম এ মান্নানের আসনে দলের অন্য কেউ স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে মনোনয়ন জমা দেন নি।
এএস // আতারা