৮ মার্চ ২০১৯


মেননকে গ্রেফতারের দাবিতে বিক্ষোভ

শেয়ার করুন

নিজস্ব প্রতিবেদক

সিলেট : জাতীয় সংসদে ইসলাম বিরোধী অবস্থান এবং ইসলামকে কটাক্ষ করায় রাশেদ খান মেননকে গ্রেফতারের দাবিতে বিক্ষোভ মিছিল করেছে মাদানী কাফেলা বাংলাদেশ। কওমী মাদরাসাকে বিষবৃক্ষের সাথে তুলনা, ইসলামী অনুশাসনকে ‘মোল্লাতন্ত্র’, কাদিয়ানীদের পক্ষে কথা বলা, হেফাজতে ইসলামের আমীর আল্লামা শাহ আহমদ শফী ও জাতীয় কবিকে কটাক্ষ করায় রাশেদ খান মেননকে ‘কাফের’ ঘোষণা করা হয়।

শুক্রবার বাদ জুমআ সিলেট বন্দরবাজার জামে মসজিদের সামনে থেকে বিক্ষোভ মিছিল শুরু হয়। মিছিলটি নগরীর বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ রাস্তা প্রদক্ষিণ করে স্থানীয় কোর্ট পয়েন্টে এসে প্রতিবাদ সমাবেশ করে।

মাদানী কাফেলা বাংলাদেশের সাধারণ সম্পাদক মাওলানা সালেহ আহমদ শাহবাগীর সভাপতিত্বে ও সংগঠনিক সম্পাদক হাফিজ শাহীদ আহমেদ হামিমীর পরিচালনায় সমাবেমে বক্তারা বলেন, সাবেক মন্ত্রী রাশেদ খান মেনন সংসদে দাঁড়িয়ে ইসলামের মৌলিক আকীদা খতমে নবুওয়ত অস্বীকারকারী কাফের কাদিয়ানীদের পক্ষে উদ্দেশ্য প্রনোদিত বক্তব্য রেখেছেন। কুরআন হাদীস ও শরীয়তের বিধান হলো যারা আকীদায়ে খতমে নবুওয়ত স্বীকার করেনা তারা কাফের ও অমুসলিম। আর যারা কাদিয়ানী সম্প্রদায়কে অমুসলিম মনে করেনা তারাও কাফের। সুতরাং রাশেদ খান মেনন একজন কাফের।

বক্তারা বলেন, পৃথিবীর অধিকাংশ মুসলিম রাষ্ট্র কাদিয়ানীদেরকে অমুসলিম সংখ্যালঘু ঘোষণা করেছে। বাংলাদেশে কাদিয়ানীদের রাষ্ট্রীয়ভাবে অমুসলিম ঘোষণা করা হলে তারা অন্যান্য সংখ্যালঘুদের মতো নাগরিক অধিকার নিয়ে এ দেশে বসবাস করতে পারবে, তাতে কোন আপত্তি থাকবে না।

বক্তারা আরও বলেন, উপমহাদেশর ঐতিহ্যবাহী দ্বীনিধারা হলো কওমী মাদরাসার শিক্ষা। ভারতবর্ষের স্বাধীনতা আন্দোলনসহ ইসলাম ও দেশের সার্বভৌমত্ত্ব রক্ষা, মুসলমানদের ঈমান আকীদা সংরক্ষণ, জনগণের মৌলিক মানবাধিকার প্রতিষ্ঠায় কওমী মাদরাসা ও আলেম সমাজের ত্যাগ ও অবদান ইতিহাসে চিরস্মরণীয়। কওমী শিক্ষার সাথে এদেশের আপামর জনসাধারণের গভীর সম্পর্ক। ঘুষ, সুদ, দুর্নীতি, সন্ত্রাস ও মাদকমুক্ত শান্তিময় সমাজ বিনির্মাণ কওমী মাদরাসা অনন্য নজীর স্থাপন করেছে।

বক্তারা বলেন, রাশেদ খান মেনন কওমী মাদরাসাকে ‘বিষবৃক্ষ’ বলে আলেম-উলামা, ছাত্র শিক্ষক ও তৌহিদী জনতার অন্তরে আঘাত করেছেন। কওমী মাদরাসাকে বিষবৃক্ষের সাথে তুলনা করে তিনি সংবিধান লংঘন করেছেন। জাতীয় সংসদকে অপমানিত করেছেন। অবিলম্বে তার সংসদ সদস্য পদ বাতিল করতে হবে। তার বক্তব্য ইসলামী শিক্ষা, নাগরিক অধিকার ও রাষ্ট্রবিরোধী। দেশের সর্বোচ্চ ধর্মীয় ব্যক্তিত্ব আমীরে হেফাজত আল্লামা শাহ আহমদ শফীকে নিয়ে যে অশালীন, কুরুচিপূর্ণ ও ঔদ্ধত্যমূলক বক্তব্য দিয়েছে, এজন্য তাকে প্রকাশ্যে ক্ষমা চাইতে হবে। অন্যথায় তার আলেম ওলামা ও ধর্মবিদ্বেষের বিরুদ্ধে কঠিন কর্মসূচি দিয়ে সমুচিত জবাব দেয়া হবে।

সমাবেশে আরও বক্তব্য রাখেন, জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম সিলেট মহানগর সভাপতি মাওলানা খলিলুর রহমান, সহ সভাপতি হাজী একরামূল আজিজ, জামেয়া হেদায়াতুল ইসলাম সিলেটের প্রিন্সিপাল মাওলানা মুফতি মুতিউর রহমান, মাওলানা ফয়ছল আহমদ, জামেয়া দারুল কোরআনের শিক্ষক সৈয়দ মাওলানা সোয়াইব আহমদ, মাদানী কাফেলা সিলেট মহানগর আহ্বায়ক হাফিজ সাব্বির আহমদ রাজি, জামেয়া নাজাতুল উম্মাহ’র প্রিন্সিপাল মাওলানা তোফায়েল আহমদ ওসমানী, জাগরণ ইসলামী সাংস্কৃতিক দলের পরিচালক হাফিজ আব্দুল করিম দিলদার, ছাত্রনেতা মো. লুৎফুর রহমান, সহ সভাপতি আবুল খয়ের, খলিল উল্লাহ, মাওলানা আব্দুল হাই, ছাত্র মজলিস নেতা ইমতিয়াজ, দেলওয়ার হোসাইন ইমরান, হাফিজ সোহাইল আহমদ, সাজ্জাদ হোসেন রুমন প্রমুখ।

শেয়ার করুন