১ মার্চ ২০১৯

নিজস্ব প্রতিবেদক : পঞ্চম পর্বে উপজেলা নির্বাচনে সিলেট সদর উপজেলার প্রার্থীরা বৃহস্পতিবার প্রতীক বরাদ্ধ পেয়েছেন। প্রতীক পেয়েই আনুষ্ঠানিকভাবে প্রচার-প্রচারণা শুরু করেছেন তারা। সদর উপজেলায় ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের চেয়ারম্যান প্রার্থীর বিপরীতে শক্তিশালী বিদ্রোহী প্রার্থীও মাঠে রয়েছেন। নির্বাচন বর্জন করা বিএনপি থেকে সদ্য পদত্যাগকারী জেলা বিএনপির সাবেক উপদেষ্টা মাজহারুল ইসলাম ডালিম চেয়ারম্যান পদে নির্বাচন করছেন। মাঠে আছেন আরও দুজন চেয়ারম্যান প্রার্থীসহ ১২জন ভাইস চেয়ারম্যান প্রার্থী ও ৩জন মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান প্রার্থী।
ফলে সিলেটের বিভিন্ন উপজেলায় বিরোধীদল বিহীন একতরফা নির্বাচন হলেও সদর উপজেলায় জমজমাট লড়াইয়ের আশা করছেন স্থানীয়রা।
সিলেট জেলা নির্বাচন অফিস সূত্রে জানা যায়, সদর উপজেলায় চেয়ারম্যান পদে আওয়ামী লীগের মনোনীত প্রার্থী আশফাক আহমদ পেয়েছেন দলীয় প্রতীক নৌকা, আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী নূরে আলম সিরাজী স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচন করছেন। তিনি পেয়েছেন মোটর সাইকেল প্রতীক, জাতীয় পার্টির শাহজাহান সিরাজী পেয়েছেন দলীয় প্রতীক লাঙল, ইসলামী ঐক্যজোটের আছলাম হোসাইন রহমানী দলীয় প্রতীক মিনার পেয়েছেন। বিএনপি থেকে সদ্য পদত্যাগকারী মাজহারুল ইসলাম ডালিম আনারস প্রতীক নির্বাচন করবেন।
সিলেট সদর উপজেলায় আওয়ামী লীগের মনোনয়ন পেয়েছেন আশফাক আহমদ। তিনি গত দুই মেয়াদে চেয়ারম্যান পদে দায়িত্ব পালন করছেন। এবার আর তিনি চেয়ারম্যান প্রার্থী হবেন না বলে আশা ছিল জেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম-সম্পাদক সুজাত আলী রফিকের। এজন্য তিনি নির্বাচনের প্রস্তুতি নিয়েছেন দীর্ঘদিন ধরে। তবে আশফাক আহমেদ আবারও চেয়ারম্যান প্রার্থী হয়ে দলীয় মনোনয়ন পাওয়ার কারণে হতাশ সুজাত আলী রফিক ও তার সমর্থকরা। নির্বাচনে সুজাত আলী রফিক বিদ্রোহী প্রার্থী না হলেও জেলা আওয়ামী লীগের আরেক নেতা নূরে আলম সিরাজী বিদ্রোহী প্রার্থী হয়েছেন। যদিও জেলা ও সদর উপজেলা আওয়ামী লীগের বড় অংশই আশফাক আহমদের সঙ্গে রয়েছেন।
তবে নুরে আলম সিরাজীর সঙ্গে রয়েছেন জেলা পরিষদের সদস্য মোহাম্মদ শাহনুর, মোগলগাও ইউনিয়নের চেয়ারম্যান হিরণ মিয়া, সদর উপজেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক আমীর উদ্দিন, কান্দিগাও ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মুজাহিদ আলী, সদর উপজেলা সেচ্ছাসেবক লীগের আহ্বায়ক শাহজাহান কবির, যুগ্ম আহ্বায়ক খুকু প্রমুখ।
আশফাক আহমদের অনুসারীদের দাবি, উন্নয়নের ধারাবাহিকতা ধরে রাখতে আশফাকেই আবারও আস্থা রাখবেন ভোটাররা। বৃহস্পতিবার প্রতীক বরাদ্ধ পেয়েই নুরে আলম সিরাজী হযরত শাহপরান (রহ.) গেইট ও মেজরটিলা এলাকায় তার মোটর সাইকেল প্রতীকে ভোট প্রার্থনা করে প্রচারণা চালান।
এসময় তিনি বলেন, পরিবর্তন প্রত্যাশী ঐক্যবদ্ধ জনতার প্রতীক মোটর সাইকেল। আলোকিত সদর গড়তে আমি অঙ্গীকারবদ্ধ। দুর্নীতি ও লুটপাটের বিরুদ্ধে জবাব দিতে ও সিলেট সদর উপজেলার পরিবর্তন ও উন্নয়নের স্বার্থে আগামী ১৮ মার্চে মোটরসাইকেল প্রতীকে ভোট দিয়ে বিজয়ী করুন।
স্বতন্ত্র প্রার্থী মাজহারুল ইসলাম ডালিম নির্বাচনে অংশ নিতে গত বুধবার জেলা বিএনপি উপদেষ্টা পদ থেকে পদত্যাগ করেন। তিনি এর আগে সদর উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ও আহ্বায়কের দায়িত্ব পালন করেছেন। ছিলেন খাদিমপাড়া ইউনিয়নের চেয়ারম্যানের দায়িত্বও। সদর উপজেলায় তার নিজস্ব ভোটের পাশাপশি বিএনপি সমর্থকদের ভোট পাবেন বলে আশা করছেন ডালিম।
এদিকে সদর উপজেলায় ভাইস চেয়ারম্যান পদে ১২ জন অংশগ্রহণ করছেন। এদের বেশিরভাগই সরকার দলের সমর্থক। ভোটের মাঠে তারাও উত্তাপ ছড়াবেন বলে ধারণা ভোটারদের। ভাইস চেয়ারম্যান প্রার্থীরা হলেন শামসুল হক আফতাব, মো. জয়নাল আবেদীন জুয়েল, সাইফুল ইসলাম নজরুল, মো. মোস্তাফিজুর রহমান, মো. পারভেজ আহমদ , ইফতেখার আহমদ লিমন , মো. শাহাবুদ্দিন লাল , রাজু গোয়ালা , মো. মকবুল হোসেন খান, ফারুক আহমদ , মিল্লাত আহমদ চৌধুরী, নূর আহমদ কামাল। তবে নির্বাচনে অংশ নিচ্ছেন না বর্তমান ভাইস চেয়ারম্যান আবুল কাশেম। নির্বাচনে অংশ নেয়া তিন মহিলা চেয়ারম্যান ভাইস চেয়ারম্যান প্রার্থীরা হলেন দিলারা বেগম, মোছা. দিলরুবা বেগম ও শামীমা আকতার।
নির্বাচন কমিশন সূত্রে জানা যায়, সিলেট সদর উপজেলায মোট ভোটার ২ লাখ ১৯ হাজার ৩৩৫ জন। এর মধ্যে পুরুষ ১ লাখ ১২ হাজার ৭১২ জন, মহিলা ১ লাখ ৬ হাজার ৬২৩ জন।
উপজেলার ৮ ইউনিয়ন ভোটকেন্দ্র রয়েছে ৯১ টি। স্থায়ী ভোটকক্ষ ৪৮২টি ও অস্থায়ী ভোটকক্ষ ৬১টি। মোটি ভোট কক্ষ ৫৪৩ টি। নির্বাচনে ৯৯ জন প্রিজাইডিং অফসিার, ৫৪৩ জন সহকারী প্রিজাইডিং অফিসার, ১ হাজার ৮৬ জন পোলিং অফিসার দায়িত্ব পালন করবেন।