২০ ফেব্রুয়ারি ২০১৯


তিন বছরেও শেষ হয়নি সংস্কার কাজ

শেয়ার করুন

ছাতক (মৌলভীবাজার) প্রতিনিধি : ছাতকে কৈতক-হায়দরপুর ভায়া কলকলি সড়কের পাকাকরণ কাজ চলছে ধীরগতিতে। এতে দুর্ভোগে পড়েছেন ছাতক উপজেলার জাউয়া, ভাতগাঁও, সিংচাপইড় ও জগন্নাথপুর উপজেলার কলকলি ইউনিয়নের লোকজন। স্থানীয় জনসাধারণের অভিযোগ সড়ক খোঁড়া-খুঁড়ি করার কারণে ৩ বছর ধরে বর্ষায় কাদা ও হেমন্তে ধূলো গায়ে নিয়েই তাদের চলাফেরা করতে হচ্ছে। আরটিআইপি-২ প্রজেক্টের আওতায় সড়কের কামারগাঁও থেকে সিরাজগঞ্জ সড়কের ৭কিলোমিটার পাকাকরণ কাজের টেন্ডার হয় ২০১৫ সালে।

৭ কোটি ৪৪ লক্ষ ৯৯ হাজার টাকায় কাজটি গ্রহন করে টাওয়ার এন্টারপ্রাইজ। দুটি ব্রীজ নির্মাণসহ সড়কের অপর অংশের কাজ ভাগিয়ে নেয় ঠিকাদার নুরুল ইসলাম। প্রায় ৭ কোটি টাকার এ কাজের মধ্যে যুগলনগর ব্রীজের কাজ এ যাবত সম্পন্ন হয়েছে। সবে মাত্র শুরু করা হয়েছে কেওয়ালীপাড়া ব্রীজের কাজ।

এদিকে জিওবি’র বরাদ্দের কৈতক-কালিপুর অংশে বিটুমিন কার্পেটিং কাজ কিছুটা হয়েছে। সমাপ্ত হয়েছে কালিপুর-কামারগাঁও বাজার পর্যন্ত বিটুমিন কার্পেটিংয়ের কাজ। গেল বছরের ডিসেম্বর মাসে সড়কের দু’অংশের পৃথক টেন্ডারে ৬ কিলোমিটার কাজ পায় শহিদ ট্রেডার্স ২ কোটি ৬২ লাখ টাকায়।

এ কাজের একটি অংশ সম্পন্ন হয়েছে। স্থানীয়দের ক্ষোভ ৩ বছর ধরে পড়ে থাকা কামারগাও থেকে হায়দরপুর হয়ে কলকলি সড়কের কাজ সম্পন্ন হচ্ছেনা। টাওয়ার এন্টারপ্রাইজের ঠিকাদার সুব্রত চক্রবর্তী সড়কের কাজে ব্যাপক অনিয়ম চালিয়ে যাচ্ছেন। সড়ক ভাঙ্গা কংক্রিট ও মাটি দিয়ে রুলিং করাসহ হালকা বিটুমিন কার্পেটিং করার অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে।

স্থানীয়রা বলেন, ৩ বছর আগ থেকে সড়ক খুঁড়ে রাখা হয়েছে। ফলে বর্ষায় কাদা ও হেমন্তে ধূলোর মধ্যে সড়কদিয়ে যাতায়াত করতে হচ্ছে। এ সড়কের পাশে সিরাজগঞ্জ বাজার, কামারগাও বাজার, কালিপুর পয়েন্ট, তাজগঞ্জ বাজারসহ কয়েকটি পয়েন্ট। ঝিগলী উচ্চ বিদ্যালয়, জালাল উদ্দিন উচ্চ বিদ্যালয়, সমতা উচ্চ বিদ্যালয়, হায়দরপুর উচ্চ বিদ্যালয়, কলকলি কলেজ ও হাইস্কুলের শিক্ষার্থীদেরও সড়কটির কারণে দীর্ঘদিন ধরে দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। ২০১৫ সালের ২৯ ডিসেম্বর সড়ক পাকা করণ কাজের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন, সংসদ সদস্য মুহিবুর রহমান মানিক। কিন্তু এ পর্যন্ত কাজের কাজ কিছুই হচ্ছেনা। সড়ক খুঁড়া-খুঁিড়তে জনদুর্ভোগ বৃদ্ধিই পাচ্ছে।

ঠিকাদার নুরুল ইসলাম ও সুব্রত চক্রবর্তী সড়কে নিম্নমানের কাজ করে যাচ্ছেন বলে এলাকার লোকজনরা অভিযোগ করেছেন।

অপরদিকে, মন্ডলপুর পয়েন্ট থেকে ইউনিয়ন পরিষদের সংযোগ সড়ক খুঁড়ে রাখা হয়েছে ৪ বছর ধরে। আরসিসি পাকা করণ কাজের জন্য ৪০ লক্ষ টাকা বরাদ্দ হলেও এ সড়কে খুঁড়া-খঁড়ি ছাড়া আর কোন কাজ হয়নি।

ইউপি চেয়ারম্যান আওলাদ হোসেন সড়কের কাজ মন্তরগতিতে হওয়ায় এখানে জনদুর্ভোগ বৃদ্ধির কথা স্বীকার করে দ্রুত সড়ক পাকা করণসহ কেওয়ালীপাড়া ব্রীজ নির্মানের দাবি জানান।

এ ব্যাপারে ঠিকাদার নুরুল ইসলাম জানান, তার দুটি ব্রীজের মধ্যে একটি ব্রীজের কাজ ইতিমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে। এপ্রোচ সড়কসহ অন্য ব্রীজটির কাজ হেমন্তের মধ্যে সম্পন্ন করা হবে।

ছাতক উপজেলা প্রকৌশলী (এলজিইডি) আবুল মনসুর মিয়া জানান, কৈতক থেকে হায়দরপুর হয়ে কলকলি সড়কের পাকা করণ ও সংস্কার কাজ ৪টি ভাগে টেন্ডার হয়েছে। দুটি কাজ শেষ হওয়ার পথে। কামারগাঁও বাজার থেকে কলকলি পর্যন্ত সড়ক ও ব্রীজের কাজ দুইজন ঠিকাদারের আওতায় রয়েছে। তারা মধ্যখানে বেশ কিছুদিন কাজ বন্ধ করে রেখেছিলেন। বর্তমানে কার্পেটিং কাজ চলছে। দ্রুত কাজ সম্পন্ন করার জন্য ঠিকাদারদের তাগিদ দেয়া হয়েছে।

শেয়ার করুন