৯ ফেব্রুয়ারি ২০১৯


চাচার উপর ‘প্রতিশোধ’ নিতেই সাহেলকে জবাই করে হত্যা

শেয়ার করুন

গোয়াইনঘাট প্রতিনিধি : গোয়াইনঘাটে চাঞ্চল্যকর স্কুল ছাত্র দেলোয়ার হোসেন সাহেল হত্যাকান্ডের রহস্য উদঘাটিত হয়েছে। এ ঘটনায় জড়িত সন্দেহে গ্রেফতার আবাবুলই হত্যাকান্ডের মূল নায়ক। গ্রেফতারকৃত আবাবুল উপজেলার ২নং পশ্চিম জাফলং ইউনিয়নের ফেনাইকুনা গ্রামের নুর উদ্দিনের ছেলে।

থানা পুলিশ সুত্রে জানা যায়, খাদিজা নামের একটি মেয়ের সাথে প্রেম ও জাফলং চা বাগানে লোকজনের হাতে প্রেমিকাসহ অপ্রীতিকর ঘটনায় আটক হয়ে পরিবার থেকে নিগৃহিত হওয়ার কারণেই চাচার প্রতি প্রতিহিংসাপরায়ণ হয়ে এই হত্যাকান্ড ঘটায় গ্রেফতারকৃত আবাবুল।

এ ঘটনায় গোয়াইনঘাট থানায় দায়েরকৃত মামলার (নং ০৯(০২)১৯) সূত্র ধরে পুলিশ আবাবুলকে আটক করে। আটকের পর প্রথমে থানায় জিজ্ঞাসাবাদে স্বীকার করে এবং পরে আজ সিলেটের আমলগ্রহণকারী আদালতের বিজ্ঞ বিচারকের সামনে দন্ডবিধির ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমুলক জবানবন্দী প্রদান করে আবাবুল।

মঙ্গলবার নিখোঁজ থাকার ৬ ঘন্টা পর দেলোয়ার আহমদ সাহাল নামে এক স্কুল ছাত্রের গলাকাটা লাশ স্থানীয় কবর স্থানের পাশ হইতে উদ্ধার করেছে গোয়াইনঘাট থানা পুলিশ। নিহত স্কুল ছাত্র সুহেল আহমদ সাহাল ছাত্র ফেনাইকোনা গ্রামের ছুয়াব আলীর ছেলে এবং স্থানীয় লাবু সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিশু শ্রেণীর ছাত্র। ঘটনার পরপরই তৎপর হয়ে ওঠে গোয়াইনঘাট থানা পুলিশ।

ঘটনাস্থলে ছুটে যান গোয়াইনঘাট সার্কেলের সহকারি পুলিশ সুপার (উত্তর) নজরুল ইসলাম, গোয়াইনঘাট থানার অফিসার ইনচার্জ মো: আব্দুল জলিল, অফিসার (তদন্ত) হিল্লোল রায়সহ পুলিশ সদস্যরা ।

স্কুল ছাত্র শিশু সাহাল হত্যার ঘটনা উদঘাটনে বিশেষ নজরদারি বাড়ান থানার অফিসার (তদন্ত) হিল্লোল রায়। একপর্যায়ে বেরিয়ে আসে চাঞ্চল্যকর এ খুনের রহস্য। নিহতের পরিবারের সদস্যদের সাথে আলাপ করে তিনি জিজ্ঞাসাবাদের জন্য বৃহস্পতিবার আটক করে থানা নিয়ে আসেন নিহত সাহেলের চাচাতো ভাই আবাবুলকে। থানায় ব্যাপক জিজ্ঞাসা শুরু করেন ধৃত ঘাতক আবাবুলকে।

জিজ্ঞাসাবাদের একপর্যায়ে অকোপটে আবাবুল স্বাীকার করে কিভাবে শিশু সাহেলকে নির্মমভাবে গলা কেটে উদ্ধার করে। শুধু তাই নয়, হত্যাকান্ডের কারণ, হত্যাকান্ডে ব্যবহৃত ছুরি, রক্তমাখা শার্টও (আলামত) উদ্ধার করা হয় ঘাতক আবাবুলের দেয়া তথ্যের ভিত্তিতে।

গোয়াইনঘাট থানার ওসি (তদন্ত) হিল্লোল রায় বলেন, অবশেষে গোয়াইনঘাটের চাঞ্চল্যকর স্কুল ছাত্র দেলোয়ার হোসেন সাহেল হত্যাকান্ডের রহস্য উদঘাটন করা সম্ভব হয়েছে। ঘটনার সাথে জড়িত থাকার অভিযোগে সন্ধিগ্ধ আবাবুলকে ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদ করলে অবশেষে অকোপটে স্বীকার করে কিভাবে নিরপরাধ শিশু সাহেলকে জবাই করে হত্যাকান্ডের ঘটনা। ধৃত আবাবুলের দেয়া তথ্যে এই হত্যাকান্ডে ব্যবহৃত ছুরি,হ ত্যাকান্ডের সময় রক্তে ভিজে যাওয়া শাটসহ সব আলামতও উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে। প্রথমে থানা ও আজ আবাবুল সিলেটের বিজ্ঞ আদালতের বিচারকের কাছেও দন্ডবিধির ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দী প্রদান করেছে।

শেয়ার করুন