৩ ফেব্রুয়ারি ২০১৯

নিজস্ব প্রতিবেদক : নগরীতে মাথার উপরেই তারের জঞ্জাল। বৈদ্যুতিক খুঁটিতে গোল করে বাঁধা রয়েছে তারগুলো। নগরের বেশ কিছু জায়গায় হাঁটতে গেলে এসব তার মাথাতে আঘাত করে। পর্যটন নগর সিলেট তার শ্রী হারাচ্ছে এসব তারের জঞ্জালে। তবে সেই তারের জঞ্জাল থেকে মুক্তি পাচ্ছে সিলেট। সিলেটে দেশের প্রথম পাতাল বিদ্যুৎ লাইন নির্মান এর কাজ শুরু হয়েছে।
ইতিমধ্যে সিলেটে প্রথম পাতাল বিদ্যুৎ লাইন নির্মাণ কাজের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন হয়েছে। শুরুতে সিলেট নগরের আম্বরখানায় ৭ কিলোমিটার জায়গায় এই পাতাল বিদ্যুৎ লাইন নির্মাণ করা হবে। আর এই প্রকল্প বাস্তবায়নে ব্যায় হবে ৫৫ কোটি টাকা।
সিলেট বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড সূত্র জানায়, সিলেট নগরের ঝুলন্ত তার মাটির নিচ দিয়ে নেওয়ার জন্য একটি প্রকল্প হাতে নেওয়া হয়। প্রকল্পটির নাম ‘বিদ্যুৎ বিতরন ব্যবস্থা উন্নয়ন প্রকল্প সিলেট বিভাগ, সিলেট’। নগরের আম্বরখানা থেকে বন্দর, পূর্ব দরগা গেইট থেকে হযরত শাহজালাল (রহ.) মাজার পর্যন্ত, চৌহাট্টা থেকে বাগবাড়ি পয়েন্ট পর্যন্ত এবং উপশহরের কয়েকটি বøকেও পাতাল দিয়ে বৈদ্যুতিক তার নেওয়া হবে।
এর আগে সিলেট সিটি করপোরেশন জানিয়েছিল, নগরের ‘আন্ডারগ্রাউন্ড ইলেকট্রিক ক্যাবল প্রসেস’ এর জন্য বাংলাদেশ পাওয়ার ডেভেলপমেন্ট বোর্ড (পিডিবি) একটি আন্তর্জাতিক টেন্ডার আহবান করেছিল। চায়নার একটি প্রতিষ্ঠান টেন্ডার পায়। ‘ওয়ার্ক অর্ডার’ পেলেই নির্ধারিত সময়ে কাজ শুরু করবে ওই প্রতিষ্ঠানটি। অবশেষে পাতাল বিদ্যুৎ লাইন নির্মাণ কাজ শুরু হয়েছে।
পাতাল বিদ্যুৎ লাইন নির্মাণ কাজের উদ্বোধন করেন সিলেট সিটি করপোরেশন মেয়র আরিফুল হক চৌধুরী। তিনি জানান, পাতাল বৈদ্যুতিক লাইন নির্মান তার নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি ছিল। নাগরিক ভোগান্তি কমাতে প্রায় ৫৫ কোটি টাকা ব্যয়ে নগরের ৭ কি.মি সড়কে শুরুতে কাজ করা হবে। এ প্রকল্প শেষ হলে পর্যায়ক্রমে পুরো নগরের বৈদ্যুতিক তারগুলোকে পাতালে নেওয়া হবে।
আরিফ জানান, সিলেট নগরের ইলেক্ট্রিক সাপ্লাইস্থ বিদ্যুৎ সাব স্টেশন কেন্দ্র থেকে শুরু হয়ে পাতাল বিদ্যুৎ সরবরাহের লাইন আম্বরখানা হয়ে যাবে চৌহাট্টায়। সেখান থেকে একটি লাইন যাবে নগরের জিন্দাবাজার হয়ে সিটি কর্পোরেশনের দিক দিয়ে সিলেট সার্কিট হাউজ পর্যন্ত। আরেকটি লাইন যাবে চৌহাট্টা থেকে রিকাবীবাজার হয়ে সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল পর্যন্ত।
সিসিক মেয়র বলেন, ‘আন্ডার গ্রাউন্ড বৈদ্যুতিক লাইন নির্মাণের ফলে দুর্ঘটনা থেকে রক্ষা পাবে সিলেটবাসী। তারের জঞ্জাল কমিয়ে নগরকে একটি স্মার্ট সিটি হিসেবে গড়ে তুলতে পুরো নগরকে পাতাল বৈদ্যুতিক লাইনের আওতায় আনা হবে।’
সিলেট বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড সূত্রে জানায়, তিন বছর মেয়াদী বিদ্যুৎ বিতরণ ব্যবস্থা উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় ‘আন্ডারগ্রাউন্ড ইলেকট্রিক ক্যাবল প্রসেস’ প্রকল্পের কাজ ২০১৮ সালের ডিসেম্বরে শেষ হওয়ার কথা ছিলো। তবে প্রাশাসনিক জটিলতায় সিলেটের পাতাল বিদ্যুৎ লাইন স্থাপনের কাজটি আটকে যায়। তবে জটিলতা সাড়িয়ে এখন কাজ শুরু হয়েছে। সরকারের নিজস্ব অর্থায়নে নগরে ভিন্ন ভিন্ন এলাকায় পাতাল বিদ্যুৎ সঞ্চালন লাইন স্থাপনের প্রকল্প বাস্তবায়ন করবে বাংলাদেশ পাওয়ার ডেভেলপমেন্ট বোর্ড (পিডিবি)।
সিলেট সিটি করপোরেশন নির্বাহী প্রকৌশলী মো. রুহুল আলম (বিদ্যুৎ) বলেন, ‘ভূ-গর্ভস্থ বিদ্যুৎ লাইন সরবরাহ কাজের উদ্বোধন হয়েছে। এটি দেশে প্রথম হচ্ছে। পাইলট বেসিসে এই প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। এটির সুবিধা ভালো হলে, নগর সুন্দর হলে সারা দেশেই এই প্রকল্প হাতে নেওয়া হবে। এখন মাটির নিচ দিয়ে বৈদ্যুতিক লাইন নেওয়া হবে। সিলেট সিটি করপোরেশনের সুপারিশে এটি গ্রহণ করা হয়েছে।’
বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের প্রকল্প পরিচালক (পিডি) ও প্রধান প্রকৌশলী ড. এম এম সিদ্দিক বলেন, ‘সরকারের পরিকল্পনা হচ্ছে বাংলাদেশের বড় বড় নগরগুলোর বৈদ্যুতিক লাইন সব মাটির নিচ দিয়ে নিয়ে যাওয়া। সবগুলোর জরিপের কাজ চলমান। সিলেটে যে কাজ শুরু হয়েছে সেটি প্রকল্পের ক্ষুদ্রতম একটি অংশ। পর্যায়ক্রমে পুরো সিলেট বিভাগের বৈদ্যুতিক তারগুলোকে মাটির নিচ দিয়ে নেওয়া হবে।’
ড. সিদ্দিক বলেন, ‘শুরুতে প্রায় ৪০ কিলোমিটার এর মত জায়গায় বৈদ্যুতিক তারগুলো মাটির নিচে নেওয়া হবে। এখন মাজার রোড এলাকায় কাজ শুরু হয়েছে। এই এলাকায় বিদ্যুৎ বিভ্রাট হবে না কাজ শেষ হলে। এটাকে মডেল হিসেবে করা হবে। পুরো সিলেট বিভাগ পাতাল লাইনের আওতায় চলে আসবে। এটার জন্য কিছুটা সময় লাগবে।’ পুরো সিলেটকে পাতাল বিদ্যুতের আওতায় নিয়ে এলে মাথার উপরে বৈদ্যুতিক খুঁটিতে তারের জঞ্জাল আর থাকবে না বলে জানান তিনি।