২ ফেব্রুয়ারি ২০১৯

ডেস্ক রিপোর্ট : নগরীর ফুটপাত থেকে হকার ও সড়ক থেকে অবৈধ পার্কিং উচ্ছেদে অভিযান চালিয়ে প্রশংসিত সিলেট সিটি করপোরশেনের মেয়র আরিফুল হক চৌধুরী এবার নিজেই ভাঙলেন ট্রাফিক আইন।
শুক্রবার উল্টোপথে গাড়ি নিয়ে এসে সড়কের প্রায় মাঝখানেই গাড়ি পার্কিং করতে দেখা যায় তাকে।
প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা যায়, শুক্রবার সন্ধ্যায় সিলেট কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে আয়োজিত ‘সিলেট বইমেলা’র উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে অতিথি ছিলেন সিটি মেয়র আরিফুল হক চৌধুরী। এই অনুষ্ঠানে যোগ দিতে চৌহাট্টা থেকে উল্টোপথে গাড়ি নিয়ে শহীদ মিনারে আসেন মেয়র।
নগরীর ব্যস্ততম চৌহাট্টা-জিন্দাবাজার সড়কে যানজট এড়াতে দীর্ঘদিন ধরেই একমুখী (ওয়ানওয়ে) চলাচল চালু রয়েছে। চৌহাট্টা থেকে জিন্দাবাজারমুখী কোনো যানবাহন আসতে দেয় না ট্রাফিক পুলিশ।
তবে শুক্রবার সন্ধ্যায় পুলিশের নিষেধাজ্ঞা না মেনে চৌহাট্টা থেকে শহীদ মিনারে গাড়ি নিয়ে আসেন মেয়র আরিফ। শহীদ মিনারের সামনে গাড়ি থেকে নেমেই সড়কে বসা হকারদের উপর চড়াও হন তিনি। তাদের সড়ক থেকে মালামাল নিয়ে সরে যেতে বলেন।
এরপর শহীদ মিনার চত্বরের ভেতরে বইমেলার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে চলে যান মেয়র।
এসময় তাঁর গাড়িটি সিলেট রেডক্রিসেন্ট সোসাইটির কার্যালয় থেকে ঘুরিয়ে নিয়ে শহীদ মিনারের সামনে সড়কের প্রায় মাঝখানে পার্কিং করে রাখা হয়। মেয়র প্রায় ২০ মিনিট ওই অনুষ্ঠানে ছিলেন। পুরো সময়ই সড়কের মাঝখানে গাড়ি পার্কিং করা ছিলো। এতে সড়কে যান চলাচলে বিঘ্ন ঘটতে দেখা যায়।
ফুটপাত থেকে হকার ও সড়ক থেকে অবৈধ পার্কিং উচ্ছেদ চালিয়ে প্রশংসা আদায় করা মেয়র আরিফের এমন কর্মকান্ডে সমালোচনা করেন শহীদ মিনার প্রাঙ্গণে উপস্থিত অনেকে। নগরবাসীর মনে প্রশ্ন জেগেছে যেখানে নিজে আইন মানার জন্য অন্যের উপর চড়াও হন, সেখানে নিজেই আইন মানছেন না। তাহলে তিনি কি সকল প্রকার আইনরে উর্ধ্বে?
ঘটনাস্থলে উপস্থিত নাট্যকর্মী ও নাট্যসংগঠন নরনাট’র সভাপতি অরুপ বাউল বলেন, উল্টোপথে গাড়ি নিয়ে এসে শহীদ মিনারের সামনের সড়কের উপর পার্কিং করেন। এতে ওই সড়কে কিছুক্ষণের জন্য যানজটের সৃষ্টি হয়।
ঘটনাস্থলে উপস্থিত আরেক নাট্যকর্মী ও নগরীর ২ নং ওয়ার্ডের বাসিন্দা দেবজ্যোতি দাস বলেন, যিনি প্রতিনিয়ত সড়কে অবৈধ গাড়ি পার্কিং না করার আহ্বান জানাচ্ছেন, অবৈধ গাড়ি পার্কিংয়ের বিরুদ্ধে অভিযান চালাচ্ছেন, তাঁর এরকম সড়কের মাঝখানেই গাড়ি পার্কিং করা, উল্টোপথে গাড়ি নিয়ে আসা খুবই দুঃখজনক। মেয়র এমন আচরণ করলে অবৈধ দখলদাররা আরও সুযোগ পাবে।
বিষয়টি নিয়ে জানতে মেয়র আরিফুল হক চৌধুরীর মোবাইল ফোনে বার বার কল দিলেও তিনি কল রিসিভ করেননি।