১ ফেব্রুয়ারি ২০১৯


সংসদে যাওয়ার স্বপ্নে বিভোর তাঁরা

শেয়ার করুন

দেবব্রত রায় দিপন : সংরক্ষিত মহিলা আসন নিয়ে দৌড়ঝাঁপ শুরু হয়েছে সরকারি দলে। একাদশ সংসদ নির্বাচনের পরপরই মনোনয়ন প্রত্যাশিরা কেন্দ্রের সাথে লবিং শুরু করেছেন। সংরক্ষিত আসনের জন্য তপশীল ঘোষণা করা না হলেও ইতোমধ্যে দলীয় মনোনয়ন ফরম সংগ্রহ করেছেন প্রায় ৩ ডজন প্রার্থী।

মনোনয়ন ফরম সংগ্রহকারী একজন দলীয় সদস্য জানান, ধানমণ্ডিস্থ কার্য্যালয় থেকে দলীয় মনোনয়ন ফরম কেনার সর্বশেষ তারিখ ছিলো ২৬ জানুয়ারি। সিলেট বিভাগে সংরক্ষিত কোটায় দুটি আসন নির্ধারিত। দশম জাতিয় সংসদ নির্বাচনের পর এই দুটি আসন থেকে যথাক্রমে কেয়া চৌধুরী এবং শাহানা রব্বানী প্রতিনিধিত্ব করেন। এবার এই দুটি আসন থেকে মনোনয়ন সংগ্রহ করেছেন প্রায় তিন ডজন প্রার্থী।

মনোনয়নপত্র সংগ্রহকারীদের তালিকায় রয়েছেন, সংরক্ষিত আসনের সংসদ সদস্য আমাতুল কিবরিয়া কেয়া চৌধুরী, সুনামগঞ্জ জেলা মহিলা আওয়ামী লীগের সভানেত্রী এডভোকেট শাহানা রব্বানী, সাবেক সংসদ সদস্য সৈয়দা জেবুন্নেছা হক, সিসিকের প্যানেল মেয়র ও মহানগর মহিলা আওয়ামী লীগের সভানেত্রী শাহানা বেগম, মহানগর মহিলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আসমা কামরান, জেলা আওয়ামী লীগের মহিলা বিষয়ক সম্পাদিকা নাজনীন হোসেন, রুবী ফাতেমা ইসলাম, বাংলাদেশ মহিলা আওয়ামী লীগের সহ আইন বিষয়ক সম্পাদিকা ব্যারিস্টার সীমা করিম, জেলা মহিলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হেলেন আহমদ, জেলা মহিলা আওয়ামী লীগের ১ম যুগ্ম সম্পাদক মাধুরী গুন, জেলা পরিষদ সদস্য রওশন জেবীন রুবা, সাবেক সংসদ সদস্য সায়েরা মহসীন, সিলেট উইমেন চেম্বার অব কমার্সের সভাপতি স্বর্ণলতা রায়, মৌলভীবাজার জেলা আওয়ামী লীগের সহ সভাপতি হোসনে আরা ওয়াহিদ, মৌলভীবাজার জেলা মহিলা আওয়ামী লীগের সভানেত্রী জোহরা আলাউদ্দিন, দলের কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্য ও জনসংখ্যা বিষয়ক উপ-কমিটির সদস্য ডা.নাজরা চৌধুরী, কৃষিবিদ ফেরদৌসী আরা পারভিন, কেন্দ্রীয় তথ্য ও গবেষণা উপ-কমিটি’র সদস্য শিততুল মুনা (মুনা চৌধুরী), সাধারণ সম্পাদক হোসনা হুদা, কৃষক লীগের কেন্দ্রীয় নেত্রী এডভোকেট শামীমা শাহরিয়ার, সুনামগঞ্জ জেলা পরিষদ সদস্য কবি সাবিনা আনোয়ার, মোনতাকিন রিতু ও সুনামগঞ্জ জেলা যুব মহিলা লীগের সানজিদা আক্তার ডায়না, জেলা যুব মহিলা লীগের সভানেত্রী নাজনীন আক্তার কতা, সাবেক কাউন্সিলর শামীমা স্বাধীন,সহ আরো অনেক প্রার্থী।

আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় সদস্য ও মহানগরের সভাপতি, সাবেক মেয়র বদর উদ্দিন আহমদ কামরান জানান, সংরক্ষিত আসনে দলের অনেক প্রার্থীই মনোনয়ন ফরম সংগ্রহ করেছেন।

বিভাগের চার জেলা থেকে মনোনয়ন ফরম সংগ্রহ ও জমাদানকারী প্রার্থীদের সঠিক সংখ্যা তাঁর জানা নেই। তবে ৩ ফেব্রুয়ারী সংরক্ষিত আসনের তপশিল ঘোষণা করার কথা রয়েছে বলে জানান তিনি।

দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে হবিগঞ্জ থেকে কেয়া চৌধুরী এবং সুনামগঞ্জ থেকে এডভোকেট শাহানা রব্বানী দলীয়ভাবে মনোনীত হলেও এবার সিলেট থেকেই সংরক্ষিত আসনের সংসদ সদস্য মনোনয়ন দেওয়া হতে পারে- এমনটাই ধারণা করছেন অনেকেই।

তবে এবার মনোনয়নপত্র সংগ্রহকারীদের তালিকায় বেশিরভাগ প্রার্থীই দলীয়ভাবে অনেকটাই শক্ত অবস্থানে রয়েছেন।

বিশেষ করে দলের দু:সময়ে এবং মাঠে ময়দানে সরব থেকে বারবার মুজিব আদর্শের জানান দিয়েছেন, সর্বাপেক্ষা প্রবীণ নেত্রী সৈয়দা জেবুন্নেসা হক। মহানগর মহিলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আসমা কামরানও দলের জন্য নিবেদিত প্রাণ কর্মী।

সদ্য সমাপ্ত সংসদ নির্বাচনেও দলীয় প্রার্থীর পক্ষে প্রচার-প্রচারণায় তিনি ছিলেন অগ্রগন্য। দলের প্রয়াত সাবেক সাধারণ সম্পাদক বীর মুক্তিযোদ্ধা ইফতেখার হোসেন শামীমের সহধর্মীনি নাজনীন হোসেনও একইভাবে মাঠ চষে বেড়িয়েছেন গেলো সংসদ নির্বাচনে।

একইভাবে দলের প্রতি আনুগত্য প্রকাশ করে রুবী ফাতেমা ইসলামও বিগত দিনে মহিলাদের সংগঠিত করে দলীয় কার্যক্রম বেগবান করণে গুরুত্বপূর্ণ ভুমিকা পালন করেন।
একইভাবে জেলা মহিলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হেলেন আহমদ গেলো সিসিক নির্বাচন এবং সংসদ নির্বাচনেও দলীয় প্রার্থীর প্রচারণায় ব্যস্ত সময় পার করেছেন। গভীর রাত পর্যন্ত মাঠে ময়দানে উঠান বৈঠকে সরব ছিলে তিনি।

উইমেন্স চেম্বার সভানেত্রী স্বর্ণলতা রায়ের অবস্থানও অনেকটা পাকাপোক্ত। গৃহিনী থেকে আপন কর্মদক্ষতা ও নিরলস পরিশ্রমে দেশের শীর্ষ ব্যবসায়ী সংগঠন এফবিসিসিআই’র তিনি পরিচালক। একজন সফল ব্যবসায়ী হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠার পাশাপাশি প্রধানমন্ত্রীর সফরসঙ্গী হিসেবে বিদেশ ভ্রমণ করেছন তিনি।

সিলেটের সাংস্কৃতিক অঙ্গণে প্রিয় নাম ডা. নাজরা চৌধুরী দীর্ঘদিন থেকেই মাঠে থেকে দলীয় প্রার্থীর পক্ষে প্রচারনায় বিশেষ ভুমিকা পালন করেন। দলের পরিক্ষীত একজন ত্যাগী নেত্রীর তালিকায় রয়েছেন জেলা মহিলা আওয়ামী লীগের ১ম যুগ্ম সম্পাদক মাধুরী গুন।

সিলেট সরকারি কলেজ ছাত্রসংসদের মিলনায়তন বিষয়ক সম্পাদক, জেলা যুব মহিলা লীগের সভানেত্রী ও কেন্দ্রীয় সদস্য নাজনীন আক্তার কনা ছাত্র জীবন থেকেই মুজিব আদর্শের লড়াকু সৈনিক হিসেবে সমধিক পরিচিত।

নাজনীন আক্তার কনা সিসিকের দুই মেয়াদে সংরক্ষিত ওয়ার্ডের নির্বাচিত কাউন্সিলর। দলের কেন্দ্রীয় তথ্য ও গবেষণা উপ-কমিটি’র সদস্য শিততুল মুনা (মুনা চৌধুরী) হবিগঞ্জের মাধবপুর উপজেলার আফজলপুর গ্রামের মুক্তিযোদ্ধা শওকত হোসেন চৌধুরীর সন্তান। মুনা চৌধুরীর স্বামী ওমর মো. ইমরুল মহসিন পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ে উপসচিব।

এ ব্যাপারে কাউন্সিলর নাজনীন আক্তার কনা জানান, সেই ছাত্রজীবন থেকে দলের প্রয়োজনেই রাজপথে আছি সর্বদা। দলীয় সভানেত্রী প্রধানমন্ত্রী তাকে মূল্যায়ন করবেন আশাবাদি তিনি।

সাবেক কাউন্সিলর শামীমা স্বাধীন বলেন, শামীমারা দলের প্রয়োজনে লড়তে জানে, মরতে জানে। দলের প্রয়োজনেই মাঠে থেকেছি, নির্যাতন সহ্য করেছি। শত নির্যাতনের ক্ষচিহ্ন নিয়েও হাল ছাড়িনি, ছাড়বো না।

আসমা কামরান বলেন, দলীয় সভানেত্রী সব কিছু বিচার-বিশ্লেষণ করে মনোনয়ন চুড়ান্ত করবেন। প্রধানমন্ত্রী দলের ত্যাগী কর্মীদের সবসময় মূল্যায়ন করে থাকেন। তাই নিজেকে নিয়ে আশাবাদি তিনি।

ডা. নাজরা চৌধুরী বলেন, মুজিবাদর্শের রাজনীতি বুকে ধারণ করে কৈশোর বয়স থেকেই স্বপ্ন দেখি। এখন যৌবন যার,যুদ্ধে যাবার শ্রেষ্ট সময়। তাই সুযোগ এবং দেশবান্ধব আওয়ামী সরকারের রাজনীতিতে সামিল হয়ে দেশের কল্যাণে সময়টাকে কাজে লাগাতে চাই।

মৌলভীবাজার জেলা থেকে সংরক্ষিত আসনের মনোনয়ন ফরম সংগ্রহকারীদের সংখ্যা জানতে চাইলে জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মিছবাহুর রহমান বলেন, মনোনয়ন নেওয়ার বিষয়ে আমাদের অবগত করা হয়নি, তাই সঠিক তথ্যটি বলা সম্ভব না।

এ বিষয়ে সুনামগঞ্জ জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ব্যারিস্টার এনামুল কবীর ইমন জানান, সঠিক তথ্য জানা নেই, তবে মনোনয়ন ফরম সংগ্রহকারীদের সংখ্যা ৫/ ৬ জন হবে।

শেয়ার করুন