২৮ জানুয়ারি ২০১৯

বড়লেখা (মৌলভীবাজার) প্রতিনিধি : মৌলভীবাজারের বড়লেখায় নবম শ্রেণীর ছাত্রীর (১৪) বিয়ের দিন ধার্য ছিল সোমবার। তার বাড়ি উপজেলার দক্ষিণ শাহবাজপুর ইউনিয়নের চন্ডিনগর গ্রামে। একই উপজেলার উত্তর শাহবাজপুর ইউনিয়নের সায়পুর গ্রামের এক যুবকের সঙ্গে তার বিয়ে ঠিক করেছিল পরিবার। কম বয়সে বিয়েতে মত ছিল না তার নিজেরও।
সোমবার দুপরে স্কুল পড়ুয়া এ ছাত্রীর বাল্যবিবাহ বন্ধ করেন বড়লেখা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোহাম্মদ সুহেল মাহমুদ। পরে তিনি ওই ছাত্রীর পিতার কাছ থেকে একটি মুচলেকা আদায় করেন।
স্থানীয় বাসিন্দারা বলেন, নবম শ্রেণির ছাত্রীর পরিবার অসচ্ছল। দিনমজুর পিতা কম বয়সে মেয়ের মতের বিরুদ্ধে গিয়ে বিয়ে ঠিক করেন। বাল্যবিয়ে আয়োজনের খবরটি স্থানীয়ভাবে জানতে পারেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও)। এরপর তিনি ওই বিয়ে বন্ধের উদ্যোগ নেন। সরেজমিনে তিনি চলে যান ছাত্রীর বাড়িতে। ছাত্রীর পিতাকে বাল্যবিবাহের কুফল সম্পর্কে বোঝান তিনি। এতে বিয়ে বন্ধ করতে রাজি হন পিতা। এরপর তিনি স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের সামনে ১৮ বছরের আগে মেয়ের বিয়ে দেবেন না বলে মুচলেকাও দেন।
এসময় উপস্থিত ছিলেন স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান সাহাব উদ্দিন, উপজেলা আনসার ভিডিপি কর্মকর্তা গোলাম কিবরিয়া ও মহিলা বিষয়ক কার্যালয়ের অফিস সহকারী মৃগেন ভাদূড়ী।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ সুহেল মাহমুদ সোমবার (২৮ জানুয়ারি) বিকেলে বলেন, ‘খবর পেয়ে ছাত্রীর বাড়িতে যাই। তার বাবাকে বাল্যবিবাহের কুফল সম্পর্কে বুঝিয়ে বলি। তিনি ১৮ বছরের আগে মেয়ের বিয়ে দেবেন মর্মে মুচলেকা দেন। এছাড়া কোনোভাবে যাতে বিয়ে না হয় সেদিকে খেয়াল রাখার জন্য স্থানীয় ইউপি সদস্যকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।’