২৭ আগস্ট ২০২২


ধুলায় ধূসর আধ্যাতিক রাজধানী

শেয়ার করুন

অতিথি প্রতিবেদক : বন্যা শেষ হওয়ার তিন মাসেও ক্ষত শুকায়নি নগরীর রাস্তাঘাটের। ভয়াল বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত নগরীর অধিকাংশ রাস্তার চিত্র বেহাল। এসব রাস্তায় চলাচল করতে গিয়ে দুর্ঘটনার ঝুঁকিতে থাকেন যাত্রী সাধারণ। এর সাথে ভেঙ্গে যাওয়া রাস্তার ধুলোতে দূষিত হচ্ছে বাতাস। এসব ধুলোবালির কারণে স্বাস্থ্যঝুঁকিতে রয়েছেন নগরবাসী।

প্রয়োজনীয় বরাদ্দ না পাওয়ায় রাস্তাগুলো সংস্কার করতে পারছেনা সিসিক। মাঝে মাঝে বিচ্ছিন্ন বিক্ষিপ্তভাবে সংস্কার করলেও অপরদিকের রাস্তা সংস্কার কাজ শেষ হতে না হতেই ফের ভেঙ্গে যাচ্ছে পূর্বে সংস্কার করা রাস্তাগুলো।

নগরীর পাঠানটুলা এলাকায় সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, সিলেট-সুনামগঞ্জ রোডের সুবিদবাজার থেকে মদীনা মার্কেট পর্যন্ত রাস্তাগুলোর অধিকাংশই বিধ্বস্ত। এসব এলাকায় যানবাহনে চলাচলের সময় মনে হয় কোন দূর্গম পাহাড়ী এলাকায় যেন যান চলাচল করছে। রাস্তাটির স্থানে স্থানে তৈরি হয়েছে ছোট বড় গর্ত। কোথাও কোথাও পিচ উঠে পাথর বেরিয়ে এসেছে। কোথাও আবার তৈরি হয়েছে বড় গর্ত। কিছু গর্তে ভাঙ্গা ইট দেয়া হলে সেসব ইট পানিতে ধুয়ে গিয়ে ফের গর্তে স্পস্ট হয়েছে। গর্ত থেকে বের হচ্ছে ধুলো।

সরেজমিনে দেখা যায়, নগরীর সুবিদবাজার, দর্শনদেউড়ী, আখালীয়া, কুমারগাও বাসস্ট্যান্ড, নতুন বাজার, হাওলাদার পাড়া, বড়বাজার, খাসদবির, কদমতলী, সোবহানীঘাট, যতরপুর, তেররতন, শিবগঞ্জ, মিরাবাজার ও উপশহর এলাকার অধিকাংশ সড়কগুলো ভাঙাচোরা। দুর্ভোগ এড়াতে এসব রাস্তায় যানবাহন চলছে ধীরগতিতে। ফলে কিছুক্ষণ পর পরই এসব এলাকায় যানজট লেগে থাকছে।

সিলেট সিটি কর্পোরেশন সূত্রে জানা গেছে, বর্ধিত নতন ওয়ার্ড মিলিয়ে সিটি কর্পোরেশনের ওয়ার্ড এখন ৩৯টি। এর মধ্যে পুরোনো ২৭টি ওয়ার্ডের ৫৭০ কিলোমিটার সড়কের মধ্যে ১২৭ কিলোমিটার এবং বর্ধিত ১২টি ওয়ার্ডের ৪০০ কিলোমিটার সড়কের মধ্যে ২৫০ কিলোমিটার রাস্তার বেহাল দশা। সব মিলিয়ে সিসিকের আওতায় থাকা ৯৭০ কিলোমিটার সড়কের মধ্যে ৩৭৭ কিলোমিটারই ভাঙ্গাচোরা।

এসব রাস্তার মধ্যে নগরীর ৩৫ থেকে ৪০ কিলোমিটার রাস্তা রয়েছে (সওজ) সড়ক ও জনপথ বিভাগের। সম্প্রতি বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত রাস্তা মেরামতের জন্য সওজ সিলেটের পক্ষ থেকে কেন্দ্রে চাহিদা পত্র ও বরাদ্দ চেয়ে আবেদন করা হয়েছে। শীঘ্রই বরাদ্দটি অনুুমোদন হওয়ার কথা রয়েছে বলে সওজ সূত্রে জানা গেছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, নগরীর বেহাল হওয়া রাস্তাগুলো আগে থেকেই ভাঙাচোরা ছিল। গত জুন মাসের ভয়াবহ বন্যায় তলিয়ে গিয়ে এই রাস্তাগুলো এখন ক্যান্সার রোগীর মতো মূমূর্ষ অবস্থায়। বিটুমিন, কার্পেটিং উঠে যাওয়ায় এসব রাস্তায় চলাচলকারী মানুষের দুর্ভোগের শেষ নেই। ভাঙাচোরা রাস্তায় যাতায়াতের জন্য রিকশা ও সিএনজি অটোকিশা চালকদেরকে অতিরিক্ত ভাড়া দাবি করতে দেখা গেছে। এ নিয়ে চালক ও যাত্রীদের মধ্যে প্রায়ই বাক-বিতন্ডা ও হাতাহাতির ঘটনা ঘটছে।

পাঠানটুলা এলাকার ব্যবসায়ী শামসুজ্জামান মাহবুব জানান, সুবিদবাজার থেকে মদীনা মার্কেটের রাস্তাটি দীর্ঘদিন থেকে ভাঙ্গাচোরা। মাঝে মাঝে ইট বালু ফেলে দেয়া হয়। কিন্তু সপ্তাহ যেতে না যেতেই এসব মাটির সাথে মিশে যায়। সম্প্রতির বন্যায় রাস্তাটি একেবারে বিধ্বস্ত হয়ে গেছে। বন্যার পানি নেমে যাওয়ার ৩ মাস পেরিয়ে গেলেও এখনো রাস্তাটি সংস্কারে কোন উদ্যোগ চোখে পড়ছেনা। যা অত্যন্ত দূঃখজনক।

সিলেট সিটি কপোরেশনের প্রধান প্রকৌশলী নূর আজিজুর রহমান বলেন, সিসিকের পক্ষ থেকে নগরীর ভাঙ্গাচোরা রাস্তার সংস্কার কাজ চলমান রয়েছে। অনেক রাস্তা ইতোমধ্যে সংস্কার হয়েছে। প্রয়োজনীয় বরাদ্দ না থাকায় বড় সংস্কার কাজে হাত দেয়া সম্ভব হচ্ছেনা। রাস্তা সংস্কারের জন্য বরাদ্দ চাওয়া হয়েছে। শীঘ্রই বরাদ্দ পাবো বলে আমাদের প্রত্যাশা রয়েছে।

সড়ক ও জনপথ বিভাগ (সওজ) সিলেটের নির্বাহী প্রকৌশলী মুস্তাফিজুর রহমান দৈনিক বলেন, নগরীর ভিতরে আমাদের আওতাধীন ৪০ কিলোমিটার রাস্তা রয়েছে। সম্প্রতি বন্যায় বেশীর ভাগ রাস্তা চরমভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বেশী ক্ষতিগ্রস্ত রাস্তাগুলো জরুরী ভিত্তিতে সাময়িক মেরামত করা হয়েছিল। কিন্তু তা বেশীদিন ঠিকেনি।

তিনি বলেন, সওজের আওতাধীন আম্বরখানা থেকে টুকেরবাজার সড়কের পাঠানটুলা, মদীনা মার্কেট ও কুমারগাও বাসস্ট্যান্ড এলাকায় এখন বড় ধরনের কাজ করতে হবে। কারণ এই রাস্তাগুলো শুধু সাময়িক সংস্কার করে বেশীদিন ঠিকেনা। এছাড়া নগরীর সোবহানীঘাট পয়েন্ট, নাইওরপুল পয়েন্ট ও মেন্দিবাগ পয়েন্ট নিয়ে আমরা বিটুমিনের রাস্তার বিপরীত চিন্তা করছি। কারণ জলাবদ্ধতার কারণে এই রাস্তাগুলো সব সময় পানিতে তলিয়ে যায়। এসব রাস্তায় বিটুমিন ও ঢালাই কাজ বেশীদিন ঠিকবেনা। আমরা ইতোমধ্যে এই রাস্তার জন্য একটা চাহিদা পত্র ও প্রয়োজনীয় বরাদ্দ চেয়ে কেন্দ্রে আবেদন করেছি। আশা করছি শীঘ্রই বরাদ্দ পাওয়া যাবে। আর বরাদ্দ পেলে বেশী ভাঙ্গাচোরা রাস্তাকে সর্বাগ্রে গুরুত্ব দেয়া হবে।

শেয়ার করুন