২৩ জানুয়ারি ২০১৯

দোয়ারাবাজার (সুনামগঞ্জ) প্রতিনিধি : সুনামগঞ্জের দোয়ারাবাজার উপজেলার লক্ষিপুর ইউনিয়নের খাসিয়ামারা নদীর উপরে বাঁশের সাঁকোই পারাপারের একমাত্র ভরসা। সাঁকোটি বক্তারপুর (ইদ্রিছপুর) ও পশ্চিম পাড়ে চকিরঘাট গ্রামে বাজারের পাশে অবস্থিত। এর দৈর্ঘ্য প্রায় ৬০ মিটার। নদীর পূর্বপাড়ে ভাঙ্গাপাড়া গ্রাম ও পশ্চিমপাড়ে মাটগাঁও গ্রামে রয়েছে প্রায় ৭০ মিটার দৈর্ঘ্যের আরো একটি বাঁশের সাঁকো।
এই দুটি সাঁকোই অত্র এলাকার শিক্ষার্থী এবং সাধারণ জনগণের চলাচলের একমাত্র ভরসা। কিন্তু বর্ষাকালে এই একমাত্র ভরসার সাঁকো দুটিও ভাসান জলে তলিয়ে যায়। ফলে জনদুর্ভোগ যেন সীমা ছাড়িয়ে যায়। জনপ্রতিনিধিরা এই সাঁকো দুটিতে সেতু নির্মাণের আশ্বাস দিয়ে নির্বাচনে বিজয়ী হলেও আশ্বাসেই বৃত্তবন্দি থাকে মানুষের স্বপ্ন।
এ অবস্থায় আর না হলেও দুটি সাঁকোর মাঝামাঝি এলাকায় একটি ব্রিজ স্থাপন করলেও এলাকার জনসাধারণের চলাচলে সুবিধা হত।
জানা গেছে- ভারতের খাসীয়াপুঞ্জি অঞ্চলের মেঘালয়ের পাদদেশ সীমান্ত থেকে আসা নদীটি বাংলাদেশের দুইটি ইউনিয়ন লক্ষিপুর ও সুরমা ইউনিয়নের উপর দিয়ে সুরমা নদীতে মিলিত হয়েছে। লক্ষিপুর ইউনিয়নের লিয়াকতগঞ্জ বাজারের উজানে খাসিয়ামারা নদীর উজানে বাঁশের তৈরী দুইটি সাঁকোই দু’পারের মানুষের মেলবন্ধনের একমাত্র মাধ্যম।
এই দুইটি ঘাট প্রতি বছর ইউনিয়ন পরিষদ থেকে লিজ নেয় ইজারাদার। একেকটি বাঁশের সাঁকো তৈরী করতে লাগে সাড়ে তিনশ থেকে চারশত বাঁশ, ৪০/৫০ ঘনফুট কাট ও প্রায় দুইমন প্লাষ্ঠিকের সুতলি। আর প্রতি বছর ব্যয় হয় এক থেকে দেড় লক্ষ টাকা। কিন্তু চৈত্র-বৈশাখ মাসের যে কোন সময় আকস্মিক পাহাড়ি ঢলের স্রোতে ভেসে যায় সাঁকোটি। যার কোন অস্তিত্বই খোঁজে পাওয়া যায় না।
নদীর দুই পাড়ে রয়েছে বেশ কয়েকটি গ্রাম। কিন্তু নদীর পশ্চিম পাড়ে রয়েছে কলেজসহ কয়েকটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। এর মধ্যে রয়েছে লক্ষিপুর মুক্তিযোদ্ধা ক্যাপ্টেন হেলাল খসরু উচ্চ বিদ্যালয়, লিয়াকতগঞ্জ স্কুল ও কলেজ, লিয়াকতগঞ্জ সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়, চামতলা দাখিল মাদ্রাসা, ব্লু-বার্ড একাডেমি, আল-ফালাহ একাডেমিসহ বেশ কয়েকটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। এ অবস্থায় বাঁশের সাঁকো দিয়ে নদীর পূর্ব পাড়ের কয়েকটি গ্রামের কোমলমতি শিক্ষার্থীরা বিদ্যালয়ে আসা যাওয়ায় অসুবিধার সম্মুখীন হতে হয় বারমাস।
তাছাড়া বর্ষা মৌসুমে পাহাড়ি ঢলে নদীটি পানিতে ভরপুর থাকে। ঐ সময়ে নদীর উপর বাঁশের সাঁকো রাখা যায় না। আর শুকনো মৌসুমে এলাকার বোরো ফসল ফলানোর জন্য রাবারডাম্প ফোলানো হয়, ফলে বর্ষা মৌসুমের ন্যায় শুকনো মৌসুমেও পানি থাকে ভরপুর। নদীতে থাকে প্রচন্ড স্রোত। এরই মধ্যে বিদ্যালয়ে যাবার জন্য জীবন বাজি রেখে প্রতিদিন শিক্ষার্থীদের পারাপার হতে হয় নৌকা যোগে। এতে করে শিক্ষার্থী ও জনসাধারণের সমস্যা লেগেই থাকে।
সমস্যার ব্যপারে লক্ষিপুর মুক্তিযোদ্ধা ক্যাপ্টেন হেলাল খসরু উচ্চ বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণির শিক্ষার্থী শামীমা আক্তার ও লিয়াকতগঞ্জ স্কুল ও কলেজের নবম শ্রেণীর শিক্ষার্থী বক্তারপুর গ্রামের শারমিন আক্তার বলেন, ‘বর্ষা মৌসুমে নদীতে বাঁশের সাঁকো থাকে না। বৃষ্টি-বাদলের দিনে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে ছোট নৌকায় পারাপার হতে হয়। তাই আমাদের একটাই দাবী এই নদীর উপর দ্রুত সময়ে একটা ব্রিজ দেয়া হোক।’
এদিকে নদীর পূর্ব পাড়ের বক্তারপুর, ইদ্রিছ পুর, বাগমারা, ভাঙ্গাপাড়া, নোয়াডর বহরগাঁওসহ সীমান্তবর্তী বোগলাবাজার ইউনিয়ন, বাংলাবাজার ইউনিয়ন ও নরসিংপুর ইউনিয়নের লোকজন লিয়াকতগঞ্জ বাজার, চকবাজার, হালোয়ারঘাট হয়ে জেলা সদরে যাবার জন্য বেছে নেয় এই রাস্তাটি। কিন্তু বাঁশের সাঁকোর কারণে পোহাতে হয় চরম দুর্ভোগ।
এলাকার বিশিষ্ট সমাজসেবক রাবারড্যাম্প পানি ব্যাবস্থাপনা সমিতির সভাপতি আনফর আলী ও মোস্তফা মিয়া (মোহরী) বলেন, বর্ষা মৌসুমে নদীতে অধিক বেগে পাহাড়ি ঢলে স্রোতের পানিতে ভরপুর থাকে আর শুকনো মৌসুমে বোর ফসল ফলানোর জন্য রাবারড্যাম্পের রাবার ফোলানোর পর আবার পানিতে ভরপুর থাকে নদীটি। তাই আমাদের এলাকাবাসীর চলাচলের জন্য বারমাস দুর্ভোগ পোহাতে হয়। আমাদের এলাকাবাসীর দাবী বক্তারপুর ও বাজারের পাশে চকিরঘাট গ্রাম এলাকায় দ্রুত সময়ে ব্রিজটি স্থাপন করা হলে অত্র এলাকার জনসাধারণ ও কোমলমতি শিক্ষার্থীদের চলাচলে সুবিধা হত।
এ ব্যাপারে উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান অধ্যক্ষ ইদ্রিস আলী বীর প্রতীক বলেন, বাজারের পাশে সুবিধাজনক স্থানে জনসাধারণের পারাপারের জন্য একটি ব্রিজের প্রস্তাবনা পাঠানো হয়েছে। আশা করি দ্রুত সময়ে ব্রিজের বরাদ্ধসহ কাজের অনুমোদন আসবে।